OrdinaryITPostAd

কিডনি বিকলের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকারের উপায় কি ? জানুন!!!

মানুষের শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মধ্যে অতিগুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো কিডনি। আমাদের শরীরের খারাপ পদার্থগুলো বের করে দেওয়াই এর প্রধান কাজ। তাই বেঁচে থাকার জন্য এই অঙ্গটির যত্ন নেওয়া আমাদের একান্ত জরুরী। বর্তমান বিশ্বে দিনদিন কিডনি বিকলের রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার প্রধান কারণ হলো এই অঙ্গটির ক্ষেত্রে আমাদের প্রচন্ড অবহেলা। আপনি জানেন কি ? কিডনি কি শুধুই রক্ত পরিষ্কার করে! ঠিক তা নয়। কিডনি আমাদের শরীরের রক্ত পরিষ্কারের পাশাপাশি তারল্য ভারসাম্য তথা লবণের ভারসাম্য, রক্ত উৎপাদন, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আজকের এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে কিডনি বিকলের প্রধান কারণগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাবো।
কিডনি বিকলের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকারের উপায় কি ? জানুন!!!

প্রতি বছর মার্চ মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার বিশ্ব কিডনি দিবস পালিত হয়। ২০২৩ সালে এটি ৯ মার্চ বৃহস্পতিবার পালিত হয়েছে।মানবদেহের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি সঠিকভাবে কাজ করছে কি না এবং এর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে কিনা তার উপর আমাদের সবসময় দৃষ্টিপাত রাখা একান্ত জরুরি। আমাদের শরীরে কিডনির সংখ্যা হল ২টি। সচরাচর কিডনিতে পাথর জমা ব্যতীত অন্য কোনো সমস্যা বুঝা যায় না বাহিরে থেকে। যথাসময়ে কিডনির সমস্যা ধরা না পড়লে তা সেরে ওঠার সম্ভাবনাও দিন দিন কমতে থাকে। যেসব কারণে কিডনি বিকল হয় ও সমস্যা দেখা দেয় তা নিয়ে বিস্তারিত নিম্নে উল্লেখ করা হলো।

কি কি কারণঃ-

১) প্রথমত, আমাদের শরীরে বিভিন্ন প্রকার রোগ সৃষ্টির দরুণ এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস। তাছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, নেফ্র্র্রাইটিস, দীর্ঘদিন ব্যথানাশক মাত্রাতিরিক্ত ঔষধ সেবন এবং প্রস্রাবের নালিতে বাধার কারণে কিডনি রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। জন্মগত ও বংশগত কারণেও এই এই কিডনি রোগটি হয়ে থাকে।

২) দ্বিতীয়ত, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, প্রতিনিয়ত রাত জাগা, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করার দরুন কিডনি রোগ হতে পারে।

লক্ষণসমূহঃ-

১) চোখ ফোলাঃ পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম গেলেও যদি আপনার চোখের তলায় ফোলা ভাব না কমে, বুঝতে হবে কিডনির কার্যকারিতায় ত্রুটি হচ্ছে। রক্তের পুষ্টিকর পদার্থ ছেঁকে সঠিকভাবে দূষিত পদার্থ বের করতে পারছে না কিডনি। যার কারণে রক্তের মধ্যে থাকা প্রোটিন অনায়াসে মিশে যাচ্ছে মূত্রের মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে চোখের চারপাশে এই ধরনের ফোলাভাব দেখা দেয়।

২) প্রস্রাবে বেগঃ পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করলেও বার বার প্রস্রাবের বেগ আসা কিডনি বিকল হওয়ার একটি অন্যতম লক্ষণ। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণ কখনও কখনও প্রস্টেটের সমস্যারও ইঙ্গিত দেয়।

৩) পা ফুলে যাওয়াঃ অনেক সময় দেখা যায় পা ঝুলিয়ে বসে থাকলে পায়ের পাতা ফুলে যায়। শরীরে ফ্লুইডের মাত্রা যদি বেড়ে যায়, সে ক্ষেত্রে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুধু কিডনি বিকল হলেই যে পায়ের পাতা ফুলে ঠিক তেমন নয়। হার্টের সমস্যা থাকলেও অনেক সময় পা ফুলে যেতে পারে।

৪) খিদে না লাগাঃ কিডনি সঠিকভাবে কাজ না করলে খিদে লাগার প্রবণতা কমে যেতে পারে। কিডনির স্বাভাবিক কার্যকারিতা হারালে শরীরে টক্সিন-এর পরিমাণ বেড়ে যায়। যার ফলে খাওয়ার ইচ্ছে হ্রাস পেতে থাকে।

৫) বমি ভাবঃ কিডনি বিকল হলে শরীর থেকে সকল টক্সিন বা ক্ষতিকর পদার্থ মূত্রের সঙ্গে বের হয় না। কিডনির সমস্যা দেখা দিলে শরীরেই সেই ক্ষতিকর পদার্থগুলো জমতে থাকে। ফলে তা থেকে বমি ভাব দেখা দেয়।

৬) শুষ্ক ত্বকঃ সাধারণত কিডনি সুস্থ না থাকলে এর প্রভাব ফুটে ওঠে ত্বকে। শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করার পাশাপাশি রক্তে পর্যাপ্ত লোহিত কণিকা উৎপাদন করা, বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখাসহ আমাদের হাড়ের স্বাস্থ্য সবই নির্ভর করে কিডনির উপর। রক্তের মধ্যে বিভিন্ন উপাদান সঠিক মাত্রায় না থাকলে, ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে।

প্রতিকারের উপায়ঃ-

কিডনি রোগ থেকে প্রতিকার পেতে হলে আমাদের রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। কেননা অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। শরীরের অতিরিক্ত ওজনও কিডনির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সুস্থ থাকতে হলে ওজন স্বাভাবিক মাত্রায় রাখতে হবে। পরিমিত স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণও কিডনি রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমায়। তাজা ফলমূল গ্রহণে ভালো ফল আশা করা যায় কিডনির জন্য। এই জাতীয় খাবারে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কিডনির জন্য খুবই উপকারী। তবে কিডনি রোগ হয়ে থাকলে সেক্ষেত্রে লো পটাশিয়াম যুক্ত যেমন- আপেল, পেয়ারা, জামরুল ইত্যাদি ফল খেতে হবে। তাছাড়া সবজি যেমন-ঝিঙে, পটল, চিচিঙ্গে খেতে হবে। খেতে পারেন মাঝারি পটাশিয়াম যুক্ত সবজি যেমন আলু, ভেন্ডি, পেঁপে, গাজর, শসা, ধনেপাতা ইত্যাদি।

চিকিৎসকের ধারণা মতে, কিডনি ভালো রাখতে গেলে প্রোটিন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে কিডনি ভালো রাখতে হলে মেদ বিহীন মাংস, কিছু বিশেষ খাবার যেমন রেডমিট, খাসির মাংস ইত্যাদি পরিহার করতে হবে।

​কিডনি ভালো রাখতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। প্রতিটি মানুষকে অবশ্যই পরিমিত পানি পান করতে হবে। এক্ষেত্রে শরীরে পর্যাপ্ত পানির ঘাটতি থাকলেও কিন্তু কিডনিতে সমস্যা তৈরি হয়ে যায়। আপনি সেক্ষেত্রে দিনে অন্তত পক্ষে ৩ লিটার পানি পান করতে পারেন। তবে কিডনি রোগ থাকলে পানি পান করতে হবে মেপে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

​ডাবের পানি কিডনি সুস্থ রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ডাবের পানিতে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ইলেকট্রোলাইটস। ইলেকট্রোলাইটস কিডনির জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজন। দেখা গিয়েছে যে আপনি যদি কিডনি সুস্থ রাখতে চান, তবে ডাবের পানি পান করতে হবে। সপ্তাহে একবার বা দুইবার তা পান করতে পারেন।

ধূমপান, অ্যালকোহল কিডনির অনেক ক্ষতি করে থাকে। অনেকের কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ারও ঘটনা ঘটে। তাই কিডনিকে সুস্থ রাখতে চাইলে ধূমপান, অ্যালকোহল পরিহার করতে হবে। ধূমপান আমাদের শরীরে বিভিন্ন অঙ্গের রক্ত প্রবাহকে ধীর করে দেয়। আর রক্ত যখন কিডনিতে পৌঁছায়, তখন তাদের স্বাভাবিকভাবে কাজ করার ক্ষমতা কমে যেতে থাকে। সাধারণত কিডনি রোগ সহজে বোঝা যায় না। নীরব ঘাতকের মতো এটি কাজ করে। উপসর্গ বোঝার আগে কিডনির ৯০ শতাংশ খারাপ হয়ে যায়। তাই আগে থেকেই কিডনির ব্যাপারে সচেতন থাকা একান্ত জরুরী। অনেক কিডনি রোগ সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। অনেক কিডনি রোগ যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা অথবা এর অগ্রসরতা স্বাভাবিক করা সম্ভব।

প্রিয় পাঠক, আজকের এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে আমরা আপনাদেরকে কিডনি বিকলের কারণ ও লক্ষণ এবং তা থেকে প্রতিবারের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানলাম। আজকের এই আর্টিকেলটির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আলোকবর্ষ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুণ। প্রীতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪