আর্টিকেল পোস্ট করার সঠিক সময়, সময় নির্ণয়ের কৌশল জানুন
বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উপর সকলের মধ্যে একপ্রকার আকর্ষণ ব্যাপক পরিমাণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে উপলক্ষ্য করে অনেকেই আছেন এটিকে আয়-উপার্জনের পথ হিসেবেও বেঁছে নিয়ে থাকেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো যেমন-ফেইচবুক, ইন্সটাগ্রাম, ইউটিউব, এক্স, লিঙ্কেডিন অথবা ওয়েবসাইট ব্লগে আর্টিকেল লেখে অনেকেই সঠিকভাবে আরনিং পাচ্ছেন না, আর্টিকেল কখন পোস্ট করবেন সে সম্পর্কে তেমন একটা ধারণা নেই। তাই আর্টিকেল পোস্ট করার সঠিক সময়, সময় নির্ণয়ের কৌশল কি সে সম্পর্কে ধারণা দিতে আজকের বিস্তারিত আর্টিকেলটি আপনার জন্য।
পেজ সূচিপত্রঃসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা কম-বেশি সকলেই পোস্ট ক্রিয়েট করে আরনিং চালু করতে চাই। কিন্তু দুঃখের বিষয় এমন অনেকেই আছেন দীর্ঘদিন কাজ করা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত ভিউস পান না বা সঠিক পলিচিতে আরনিং পান না। কখন আর্টিকেল পোস্ট করতে হয় সে সম্পর্কে তেমন একটা ধারণা নেই বললেই চলে। চলুন জেনে নেই, আর্টিকেল পোস্ট করার সঠিক সময় ও সময় নির্ণয়ের কৌশল সম্পর্কে-
আর্টিকেল পোস্ট করার সঠিক সময়
ক) ব্লগ/ওয়েবসাইটে পোস্ট করার ক্ষেত্রে
আপনার যদি একটি ব্লগ/ওয়েব সাইট থেকে থাকে তাহলে সেখানে কিছু আর্টিকেল পোস্ট করে আয় করতে পারেন। তবে, আপনাকে ব্লগ/ওয়েবসাইটে আর্টিকেল পোস্ট করার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট সময়কে বেঁছে নিতে হতে পারে। যাতে করে আপনার পোস্টকৃত আর্টিকেলগুলো দর্শকদের নিকট সময়মত পৌঁছায়। এক্ষেত্রে, আর্টিকেল পোস্ট করার জন্য সবচাইতে উত্তম সময় হচ্ছে সপ্তাহের মাঝামাঝি অর্থাৎ যেকোন (মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার)। পোস্ট করার সময় বলতে সপ্তাহের যেকোন দিন সকাল- ৯টা থেকে দুপুর-২টার মধ্যে করলে আপনার পোস্টকৃত আর্টিকেলটি দ্রুত রিচ হওয়ার সম্ভাব্য সময় হতে পারে। এই সময় দর্শক অনলাইনে সবচেয়ে বেশী একটিভ থাকার ফলে ক্লিক দিনের অন্যান্য সময়ের চাইতে বেশী পাওয়া যায় সাথে এনগেজমেন্টও। তাই, লেখালেখির মাধ্যমে তৈরি করা আপনার অরগানিক আর্টিকেলগুলো এই সময়ে বেশী বেশী পোস্ট করা এবং দ্রুত এডসেন্স পেতে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে এমনটি প্রত্যাশিত।
তাছাড়া প্রতিটি সপ্তাহের মধ্যে বুধবার হচ্ছে আর্টিকেল পোস্ট করার মুখ্যম ও উপযুক্ত সময়, এই সময় পোস্টের ক্লিক পাওয়াসহ এনগেজমেন্ট, ইম্প্রেশন বেশী পাওয়া যায়। আরও উল্লেখ যে, আপনার পোস্ট-কে পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের ভিওয়ারস-এর জন্য উপযোগী করার ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার ব্লগের টাইম জোন সেট করার দিকেও মনোনিবেশ করতে হবে। টাইম জোন সেট করার মাধ্যমে আপনি পৃথিবীর যেকোন দেশের সময়ের উপরে ভিত্তি করে আর্টিকেল পাবলিশ করেও বেশী বেশী ক্লিক পেতে পারেন।
খ) সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারের মুখ্যম সময়
আপনার আর্টিকেলটি অবশ্যই একটি পাবলিসিটির জন্য তৈরি করা। সঠিকভাবে যদি পাবলিসিটি নাই হয় তাহলে এতো কষ্ট করে পোস্ট করে/ব্লগে আর্টিকেল তৈরি করে/রিল বানিয়ে লাভ কি? যদি তা ভিওয়ারসদের চোখে নাই পড়ল। তাই, আপনার পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে বেশী বেশী শেয়ারের করলে এটি পাঠকের দোরগোড়ায় দ্রুত পৌঁছাতে সক্ষম হবে। তাই, সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতে পোস্ট/আরটিকেল/রিলস/ভিডিও শেয়ার করে অনেকেই লাভবান হচ্ছেন। যার ফলস্রুতিতে সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলো এক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখছে।
বিশেষকরে প্রতিটি সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের একটি আলাদা সত্তা রয়েছে এবং পোস্ট করার ক্ষেত্রে ও পোস্ট রিচ করার ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা সময়কে টার্গেট করতে হচ্ছে। নিম্নোক্ত সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলোতে আপনার বানানো পোস্টগুলো পাবলিশ করলে আপনি ভালো ফিডব্যাক পেতে পারেন যা আপনার পোস্টকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। যেমন-১। Facebook-এ পোস্ট করার ক্ষেত্রে সকাল ৯টা থেকে ১০টা যেকোন সপ্তাহের মধ্যবর্তী সময়ে। ২। YouTube: শুক্রবার বিকেল বা সপ্তাহান্তে সকাল ৯–১২টা। ৩। Instagram-এর ক্ষেত্রে সকাল ৭–৯টা (দুপরে), সপ্তাহের যেকোন শুক্রবারে। তবে, রবিবার আন্তর্জাতিক হলিডে থাকায় সেই দিনটিকে পরিহার করুন। ৪। X-এ পোস্টের ক্ষেত্রে দিনের মধ্যবর্তী বা রাত ২টার পরে পোস্ট করলে ভিওয়ারস বেশী সংখ্যক পাওয়া যেতে পারে। ৫। LinkedIn-এর ক্ষেত্রে মঙ্গলবার ও শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে করাই মুখ্যম সময়।
গ) ইমেইল নিউলেটারের প্রকৃত সময়
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারের মতোই ইমেইল নিউলেটারেরও কিছু প্রকৃত সময় রয়েছে টা অনেকেরই অজানা থাকতে পারে। তাই, আপনি যদি মনে করেন ইমেইলে দ্বারা কাউকে আর্টিকেল পাঠাবেন তাহলে সঠিক সময়টি কি? সপ্তাহের ঠিক মধ্যবর্তী সময় বিশেষ করে মঙ্গলবার বা বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বা দুপুর নাগাদ ইমেইল প্রেরণ করলে এই সময়ে ইমেইলের আদান-প্রদান কম থাকে। যার ফলে ইমেইল প্রেরণের ক্ষেত্রে ওপেন রেট পর্যাপ্ত হতে দেখা যায়।
ঘ) টাইমজোন সিলেক্ট করা
যেকোন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের জন্য টাইম জোন একটি মুখ্যম সময়। কোন দেশের অডিয়েন্সকে টার্গেট করে আপনার আর্টিকেলটি পাবলিশ করবেন সেটি আগে ঠিক করার পরই আপনার টাইম জোন ঠিক করতে হবে। টাইম জোন আপনার অডিয়েন্সকে তার দোরগোড়ায় পোঁছাতে কার্যকরী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। আপনি যদি বাংলাদেশি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হন তাহলে অডিয়েন্সকে লক্ষ্য করে আর্টিকেল পোস্ট করতে হবে। তাই, বাংলাদেশি লোকাল পাঠকদেরকে ইম্প্রেশ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই সপ্তাহের যেকোন দিনে সকাল ৯–১২টার সময় হচ্ছে সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। আর যদি আন্তর্জাতিক অডিয়েন্স হয়ে থাকে তাহলে ঐ দেশের পাঠক ও তাদের সময় বিবেচনায় নিয়ে পোস্ট করলে আপনার পোস্টটি দ্রুত রিচ হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। তবে, আর্টিকেলের ধরণ অনুযায়ী সময়ের কিছুটা ভিন্নতা আসতে পারে। যার জন্য প্রয়োজনে গুগল এনালিটিক্সের মাধ্যমে আপনি কান্ট্রি ভিউস দেখে সেটি নিশ্চিত হতে পারেন।
আরও পড়ুনঃ ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য জনপ্রিয় ৭টি কাজ
শেষ কথা
যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রযুক্তি খাতে যে পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে, তাতে জেনারেশনারি আমরা সকলেই তার সুফল ভোগ করছি। যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে শিখতে হবে এবং জানতে হবে প্রযুক্তি সম্পর্কে। নতুন নতুন উদ্ভাবনীয় বিষয় সম্পর্কে এখন জ্ঞান রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রযুক্তির বিকাশ অব্যাহত থাকলে আমাদের জীবনযাত্রা আরও সহজ হবে এবং বিশ্ব আরও সংযুক্ত হবে। আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে আমরা আর্টিকেল পোস্ট করার সঠিক সময়, সময় নির্ণয়ের কৌশল সম্পর্কে ধারণা পেলাম। আশা করি, আজকের এই আর্টিকেলটি আপনাকে আর্টিকেল পোস্ট করার সঠিক সময় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে সহযোগিতা করেছে। আজকের আর্টিকেলটির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
.webp)
আলোকবর্ষ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুণ। প্রীতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়।
comment url