রান্নায় কিচেন গরম হয়, শীতল রাখতে কি করবেন

রান্না করতে কে না ভালোবাসেন। রান্নার প্রধান জায়গা হল কিচেন বা রান্না ঘর। আমাদের মধ্যে যাদের দৈনিক দীর্ঘক্ষণ কিচেনে থাকতে হয় তাদের ক্ষেত্রে কিচেন ঠাণ্ডা রাখাটা একান্ত জরুরি। কিভাবে রান্নায় কিচেন শীতল রাখবেন সে সম্পর্কে জানতে এবং জানাতে আজকের বিস্তারিত আর্টিকেলটি আপনার জন্য।
পেজ সূচিপত্রঃসাধারণত শীতকালের চাইতে গরমকালে রান্নার ফলে তুলনামূলকভাবে আমাদের কিচেন অতিরিক্ত গরম হতে দেখা যায়। কিচেন হয়ে থাকে উত্তপ্ত। কিচেনের এই উত্তপ্ত গরম আপনি কিভাবে দূর করবেন এবং কিচেন শীতল রাখবেন নিশ্চয়ই ভেবে পাচ্ছেন না। চলুন জেনে নেই, রান্নায় কিচেন গরম হলে শীতল রাখতে কি রাখবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

রান্নায় কিচেন গরম হলে শীতল রাখতে কি করবেন

রান্না করতে আমরা কে না ভালবাসি। দিনে দিনে প্রতিনিয়তই আমরা শহুরে জীবন ব্যবস্থায় অনেকটাই অব্যস্থ হয়ে পড়েছি। গ্রামাঞ্চলে রান্নার জন্য সুনির্দিষ্ট খোলামেলা স্থান থাকলেও শহুরে জীবনে তার ভিন্ন রূপ। যার কারণে শহুরে বাসা বাড়ীতে রান্নার ক্ষেত্রে তেমন একটা খোলামেলা পরিবেশ না থাকার জন্য কিচেনের অসহনীয় গরমে শহুরে জীবন অতিষ্ঠ হতে দেখা যায়। তাই, রান্নায় কিচেন গরম হলে শীতল রাখতে কিছু করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হল

ক) কিচেনে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা

আপনি যখনই কিচেনে রান্না শুরু করবেন একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে তা হল কিচেনে পর্যাপ্ত বাতাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাতে করে আপনার রান্নার উত্তপ্ত গরম ভাপ সহজেই বেড় হয়ে যেতে পারে। রান্নার সময় বিশেষ করে চুলা জলতে থাকলে কিচেন প্রয়োজনের তুলনায় অত্যধিক গরম হতে থাকে। এই গরম বাতাস আপনি যদি দ্রুত বেড় করে না দেন তাহলে কিচেন হতে পারে আপনার জন্য অসহনীয়। 
দীর্ঘসময় ধরে রান্নার চুলা জলতে থাকলে ও কিচেনে জমে থাকা গরম বাতাসের ফলে এইরূপ অসহনীয় পরিস্থিতে পড়তে হয়। যার কারণে কিচেনে অবস্থান করা ও কাজ করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আপনাকে কিছু বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে করে রান্নার সময় আপনার কিচেন পর্যাপ্ত ঠাণ্ডা থাকে। প্রথমেই আপনাকে একটি কাজ করতে হবে তা হল, জরুরিভিত্তিতে কিচেনের গরম বাতাস বেড় করে দিতে হবে, তার জন্য রান্না ঘরে চিম্নি অথবা অ্যাডজাস্ট ফ্যান ব্যবহার করুন। কিচেনের পাশে আপনার যদি বেল্কুনি থাকে তাহলেও টেবিল অ্যাডজাস্ট ফ্যান বসিয়েও বাতাস বেড় করার কাজটি সমাধা করে নিতে পারেন। এই কাজটি রান্নার সময় প্রতিনিয়ত করলে রান্নার সুস্থ পরিবেশ বজায় থাকার পাশাপাশি কিচেনের মধ্যে জমে থাকা বদ্ধ গরম বাতাস দ্রুত নিরসন করা সহজ হয়।

খ) রান্নার টাইম-টেবিলে ভিন্নতা আনয়ন

গরমকালে কিচেনে রান্নার ফলে আমাদের কিচেন প্রয়োজনের তুলনায় অত্যধিক গরম হয়ে থাকে। এটি গৃহিনীদের মধ্যে যিনারা একটু রান্না-বান্না করতে পছন্দ করেন তাদের জন্য গরম ও উত্তপ্ত কিচেনে রান্না করতে বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়তে হয়। দেখা যায়, ভর দুপুরে কিচেনে রান্নার কারণে কিচেন হয়ে থাকে উত্তপ্ত গরম কুণ্ড। তাই, এক্ষেত্রে আপনি রান্নার অত্যধিক চাপ না থাকলে রান্নার টাইম-টেবিলে কিছুটা ভিন্নতা আনয়ন করে দেখতে পারেন। 
গরম অত্যধিক পড়লে সকাল সকাল অথবা সন্ধ্যার সময়কে আপনি বেঁছে নিতে পারেন, মোটকথা প্রাকৃতিক পরিবেশ ঠান্ডা থাকতে থাকতে রান্নার কাজ শেষ করে নিন। বারংবার রান্নার মধ্যে না যেয়ে একনাগারে রান্নার কাজ শেষ করে নিলেও কিচেনের আবহাওয়ার ভারসাম্য বজায় থাকে। যেসকল খাবার সিদ্ধ হতে সময় নেয়, সেগুলো প্রেসারের মাধ্যমে সিদ্ধ করে নিতে পারেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে সিদ্ধ করলে একদিকে সিদ্ধ করতে যেমন সময় বেশী প্রয়োজন হয়, পাশাপাশি আগুনের কারণে কিচেনের তাপমাত্রা অত্যধিক বেড়ে যায়। অর্থাৎ, আপনার রান্নার ক্ষেত্রে কিচেন শীতল রাখতে হলে আপনার উচিৎ হবে দ্রুত দৈনন্দিন খাবারকে সিদ্ধ করে নেয়া, তাতে কিছুটা হলেও গরমে কিচেন শীতল রাখতে সহায়ক হয়।

গ) কিচেন শীতল রাখতে অত্যধিক লাইট পরিহার

আমরা সাধারণত দিনের বেলায় রান্না করতে বেশী পছন্দ করে থাকি। কারণ দিনের বেলায় সংসারের প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল রান্না-বান্নার কাজ। রান্নার ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত আলোতে রান্না করতে পছন্দ করে থাকি। এর ফলে কিচেনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চাইতে অত্যধিক বেড়ে যেতে থাকে। তাই, কিচেন ঠাণ্ডা রাখার ক্ষেত্রে আমাদের জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত অতিরিক্ত লাইট পরিহার করাই শ্রেয়। এর ফলে একদিকে আমাদের কিচেন যেমন অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে বাঁচবে, অন্যদিকে বিদ্যুতের সাশ্রয় করা যাবে।

ঘ) কিচেনে দীর্ঘক্ষণ পানি গরম না করা

আমাদের অনেকেই যারা শহুরে জীবন ব্যবস্থায় অব্যস্থ তারা লাইন গ্যাসে পানি দীর্ঘক্ষণ গরম বা সিদ্ধ করে কিচেনকে উত্তপ্ত করে থাকি। এইভাবে কিচেনে পানি গরম করার কাজটি আমরা হরহামেশাই করে থাকি। এর ফলে কিচেন যেমন অত্যধিক গরম হয়, আবার জ্বালানী গ্যাসেরও অপচয় হয়। আবার কিচেনের তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি যেকোন সময় বিপদের আশঙ্খাও দেখা দিতে পারে। তাই, কিচেনের পরিবেশ শীতল রাখতে আপনার উচিৎ হবে দীর্ঘক্ষণ পানি গরম থেকে বিরত থাকা।

ঙ) বাহিরের তাপমাত্রা থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা

কিচেনকে শীতল রাখতে আপনাকে ঘরের তাপমাত্রার পাশাপাশি বাইরের তাপমাত্রাকে ঘরে প্রবেশের ক্ষেত্রেও কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিদিন অসহ্য গরমে কিচেনে রান্না-বান্নার কাজ করা খুবই কঠিন কাজে পরিণত হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে রান্না করে সব সামাল দেয়া দূরহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ মুহূর্তে রান্না করতে অনেক সময় বাহিরের পরিবেশ প্রতিবন্দকতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেকসময় বাহিরের অতিমাত্রায় রোদ্র ঘরে প্রবেশ করেও ঘরের আবহাওয়াকে করে তোলে উত্তপ্ত। তাই, রান্নার দিন গরম বেশী পড়লে সকাল বেলায় অথবা দুপুরে পর্দা দিয়ে জানালার কিছু অংশ ছায়াযুক্ত রাখতে পারেন। এতে করে আপনার ঘরের পরিবেশ যেমন তুলনামূলক শীতল থাকবে, আবার রান্নার পরিবেশও শীতল রাখতে সহায়ক হবে।

শেষ কথা

কিছু সচেতনতামূলক পদক্ষেপই আপনাকে এই গরমের দিনে কিচেনে রান্না করতে প্রশান্তি দিতে পারে। গরম যতই পড়ুক যদি কিচেন হয় প্রশান্তিদায়ক তাহলে রান্নার কাজটি হয়ে উঠে আনন্দদায়ক। তাই, তীব্র গরমের মধ্যে কিচেনে রান্নার ক্ষেত্রে উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো যদি সন্নিবেশিত করে আপনার কিছুটা উপকারে আসে তাহলেই আমাদের সার্থকতা। প্রিয় পাঠক, আশা করছি আজকের আর্টিকেলটি আপনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েছেন এবং গরমে রান্নায় কিচেন গরম হলে শীতল রাখতে কি করবেন সে সম্পর্কে বিশদ জানতে পেরেছেন। আশা করছি, আজকের আর্টিকেলটি আপনার কিচেনের অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সহায়ক হতে পারে। ভবিষ্যতে, এমন আরও কিচেন সম্পর্কিত টিপস নিয়ে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে এবং এতক্ষণ আমাদের সাথে সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আজকের মতো বিদায় নিলাম।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আলোকবর্ষ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুণ। প্রীতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়।

comment url