মানবদেহের জন্য মিষ্টি আলুর অজানা উপকারিতার কথা
মানবদেহের জন্য স্বাস্থ্যকর অপরন্তু উৎস হতে পারে মিষ্টি আলু। মিষ্টি আলু যে আমাদের দৈহিক গঠনে কতইনা উপকারে আসে তা অনেকেরই অজানা। মিষ্টি আলুর অজানা উপকারিতার কথা সম্পর্কে ধারণা দিতে আজকের এই বিস্তারিত আর্টিকেলটি আপনার জন্য।
শহরাঞ্চলে মিষ্টি আলু খাওয়ার প্রবণতা তেমন একটা দেখা না গেলেও গ্রামাঞ্চলে কম-বেশি সকল বয়সের মানুষকেই এই খাদ্যের প্রতি আগ্রহ দেখতে পাওয়া যায়। বিশেষ করে শীতকাল হচ্ছে এই আলুর উপযুক্ত মৌসুম।
পেজসূচিপত্রঃশীতের শুরুতে বা মাঝামাঝিতে মিষ্টি আলু সিদ্ধ করে অথবা পুড়িয়ে খেতে কে না ভালোবাসেন। এই মিষ্টি আলুর মধ্যেই রয়েছে অসংখ্য পুষ্টিকর উপাদান যা আমাদের শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দিতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে থাকে। বিশেষকরে মিষ্টি আলুর মধ্যে থাকা ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বহুলাংশে বৃদ্ধি করে। তাছাড়া, মিষ্টি আলু চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রখর করার পাশাপাশি ব্রেইনের শ্রীবৃদ্ধি ও দেহের হজমশক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। মিষ্টি আলুর উপকারিতা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে নিম্নে মিষ্টি আলুর অজানা উপকারিতা তুলে ধরা হলঃ-
মিষ্টি আলুর অজানা উপকারিতা
আলু আমাদের সবজি বাজারে একটি অনন্য নাম। মিষ্টি আলু ক্ষেতে ভালোবাসেন না এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া মেলা ভার। শীতকালে গ্রামাঞ্চলের মেঠো পথের মানুষের একটি পছন্দের নাম হল মিষ্টি আলু যা সকল শ্রেণী বয়সের মানুষ একসাথে ক্ষেতে পছন্দ করেন। এই মিষ্টি আলু কেউ কাঁচা ও সিদ্ধ ক্ষেতে ভালোবাসেন। তবে সিদ্ধ মিষ্টি আলুই সকলের পছন্ধের। মিষ্টি আলুর অজানা উপকারিতা নিয়ে আমরা আপনাকে বিষয়ভিত্তিক কিছু তথ্য দেয়ার চেষ্টা করবো যা আপনাদের মিষ্টি আলু খাওয়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করবে। মিষ্টি আলুর যে সকল গুনাগুণ রয়েছে তার মধ্যে নিম্নোক্ত গুনাগুনগুলো বেশ চোখে পড়ার মতো। আপনি ইচ্ছা করলে শারীরিক গঠনে এই সকল উপকারিতাকে সুস্থ থাকার জন্য কৌশল হিসেবে বেছে নিতে পারেন।
ক) মিষ্টি আলুর পুষ্টিগুণ
মিষ্টি আলুতে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবার জাতীয় পুষ্টিগুণ যা আমাদের শরীর গঠনে খুবই প্রয়োজন। প্রতি ২০০ গ্রাম সিদ্ধ বা পোড়া মিষ্টি আলুতে যে পরিমাণ ভিটামিন-এ ও সি, পটাশিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজ রয়েছে যা আপনার সুস্থ্য থাকার জন্য যথেষ্ট।
খ) হজমশক্তি উন্নত করতে মিষ্টি আলু
মিষ্টি আলুতে রয়েছে উচ্চ মাত্রার ফাইবার বা আঁশ যা আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে সহায়তা করে। হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় এই দুই ধরণের আঁশের আধিক্য থাকায় এটি লিভারে গিয়ে খাদ্যকে নরম করতে সাহায্য করে থাকে। তাছাড়া ফাইবার বা আঁশ লিভারের ভালো ব্যাকটেরিয়ার খাদ্যের উৎস হিসেবে কাজ করে। বিশেষকরে যকৃত সুস্থ রাখতে, পাকস্থলি পরিষ্কার রাখতে মিষ্টি আলুর ফাইবার বা আঁশ খুবই উপকারী।
গ) দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় মিষ্টি আলু
আমাদের শরীরে র অতিমূল্যবান অঙ্গ হল চোখ। জীবনের চলার পথে প্রতিটি ক্ষেত্রে চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রখর রাখাটা একান্ত অত্যাবশ্যকীয়। মিষ্টি আলুর মধ্যে যে পরিমাণ বিটা ক্যারোটিন রয়েছে তা একপর্যায়ে শরীরে ভিটামিন-এ তে পরিবর্তিত হয়ে আমাদের দৃষ্টিশক্তি ভালো করার জন্য বিশেষভাবে কার্যকরী। আপনার শরীরে মূলত ভিটামিন-এ এর অভাব দেখা দিলে দৃষ্টি শক্তির উপরে আঘাত হানে এবং রাতকানা রোগ হয়। আপনি শীতকালীন মৌসুমে যদি নিয়ম করে মিষ্টি আলু খেতে পারেন তাহলে এমন রাতকানা রোগের ঝুঁকি থেকে সহজেই পরিত্রাণ পেতে পারেন। প্রচুর পরিমাণে বেটা-ক্যারোটিন (ভিটামিন A-তে রূপান্তরিত) থাকায় এটি চোখ ভালো রাখে এবং দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে
আরও পড়ুনঃ চোখের যত্নে ৫টি কার্যকরী টিপস
ঘ) ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় মিষ্টি আলু
গবেষণালব্দ থেকে জানা যায়, মিষ্টি আলুর মধ্যে যে পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে তা দিয়ে ক্যানসারের কোষগুলোর শ্রীবৃদ্ধি রোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে প্রস্রাবের থলি, কোলন ও স্তন ক্যানসারের কোষের শ্রীবৃদ্ধি রোধে এমনটি তথ্য উঠে এসেছে। আপনি যদি নিয়মতান্ত্রিকভাবে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করে থাকেন তাহলে একপর্যায়ে মরণব্যাধি ক্যানসার থেকেও আপনি পরিত্রাণ পেতে পারেন। তবে, গবেষণার রিপোর্ট অনুযায়ী মানুষের শরীরের জন্য এর প্রভাব কতটুকু সুফল বয়ে আনবে তা নিশ্চিত হওয়াটা একান্ত জরুরি।
ঙ) মস্তিষ্কের জন্য সুখকর মিষ্টি আলু
এক গবেষণায় দেখা গেছে, বেগুনি মিষ্টি আলু মস্তিস্কের জন্য খুবই কার্যকরী। বিশেষ করে আলুর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের মস্তিষ্কের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। যারা পর্যাপ্ত সবজি ও ফলজ খাবার নিয়মিত খেতে পারেন তাদের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্মৃতিভ্রম অর্থাৎ ডিমেনশিয়ার ঝুঁকির শঙ্কা কম থাকে।
চ) রক্তে চিনি নিয়ন্ত্রণ
আমাদের মধ্যে যিনারা ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হই, তাদের ক্ষেত্রে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ রাখাটা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা কতো উপায় অবলম্বন করে থাকি। বিশেষ করে মিষ্টি আলুর মধ্যে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম থাকে বিধায় রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের খেতে খুবই কার্যকরী হতে পারে।
ছ) হৃদরোগ ও প্রদাহজনিত সমস্যা দূর করতে মিষ্টি আলু
হৃদরোগ ও প্রদাহজনিত সমস্যা দূর করতে মিষ্টি আলুর জুড়ির কমতি নেই। মিষ্টি আলু শরীরের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল কমিয়ে হার্টএটাক তথা হৃদরোগের আশঙ্খা কমাতে সহায়তা করে। বিশেষ করে হৃদযন্ত্রের প্রদাহজনিত সমস্যা দূরীকরণে মিষ্টি আলু বেশ কার্যকরী।
আরও পড়ুনঃ নাভিতে তেল ব্যবহারের উপকারিতা
জ) চুল ও ত্বকের পরিচর্যায় মিষ্টি আলু
মিষ্টি আলুতে যে পরিমাণে ভিটামিন-সি ও ভিটামিন-এ বিদ্যমান থাকে তা আমাদের চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখা সহ ত্বকের উজ্জ্বলতাকে বৃদ্ধি করে। শারীরিক গঠন ধরে রাখার ক্ষেত্রেও মিষ্টি আলু কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
ঝ) হাঁড় ও দাঁতের যত্নে মিষ্টি আলু
হাঁড় ও দাঁতের যত্নে মিষ্টি আলু অতুলনীয়। মিষ্টি আলুর মধ্যে যেপরিমাণ ভিটামিন-সি রয়েছে তা আমাদের শরীর গঠনে যথার্থ। হাড়ের কাঠামো মজবুত করতে ও দাঁতের মাড়ি শক্ত কড়তে অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি মিষ্টি আলুর জুড়ী নেই।
ঞ) দেহের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে মিষ্টি আলু
মানবদেহে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে মিষ্টি আলুর যুগান্তকারী অবদান রয়েছে। মিষ্টি আলুর মধ্যে যে পরিমাণ ভিটামিন-সি পাওয়া যায় যা আমাদের শরীরের ভিটামিন-সি এর চাহিদা পূরণে সক্ষম। এছাড়া পরীক্ষা করে পাওয়া যায় এতে ভিটামিন-সি এর পাশাপাশি যে পরিমাণে আয়রন রয়েছে তাতে করে মিষ্টি আলু শরীরের রক্তকণিকা সৃষ্টিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
ট) মানবদেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে মিষ্টি আলু
বিভিন্ন প্রকার রোগবালাই থেকে সুস্থ্য থাকতে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে বৃদ্ধি করা বিশেষভাবে জরুরি। মিষ্টি আলু ভিটামিন-সি, এ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ হওয়ায় আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। যিনারা লিভার সুস্থ্য রাখতে সচেতন তাদের জন্য মিষ্টি আলু উপকারি মাধ্যম হতে পারে। সুস্থ লিভার যেমন শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সহায়তা করে, পাশাপাশি লিভারের ভিতরের আস্তরকেও ভালো রাখার ক্ষেত্রে ভিটামিন-এ অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে কাজ করে।
এছাড়াও মিষ্টি আলুর আরও অনেক উপকারী দিক রয়েছে যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুবই প্রয়োজন এবং একজন মানুষকে সুস্থ ও ফিট রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
ডায়াবেটিস রোগীর মিষ্টি আলু খাওয়া যাবে কি?
ডায়াবেটিস হয়ে গেলে আমরা অনেক সময় দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। মনে হয় মিষ্টি জাতীয় সকল কিছুই যেন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য বিষ। কিন্তু সকল মিষ্টি জাতীয় খাদ্যই যে ডায়াবেটিস রোগীদের খেতে মানা বিষয়টি ঠিক তেমনটি নয়। এক্ষেত্রে মিষ্টি আলু হতে পারে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনন্য খাবার। যারা দীর্ঘদিন টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত তারা একটু নিয়ম করে মিষ্টি আলু ক্ষেতে পারেন।
আরও পড়ুনঃ ডায়াবেটিসের উপসর্গ নিয়ে কিছু কথা
হলুদ আর বেগুনি রঙের মিষ্টি আলু
হলুদ আর বেগুনি রঙের মিষ্টি আলুও আপনার স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে। এই রঙের মিষ্টি আলুতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট যা মস্তিষ্কের কোষকে রক্ষা করা সহ শরীরকে মারাত্মক ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যাল এর হাত থেকে রক্ষা করে থাকে। এই ফ্রি র্যাডিক্যালই বয়স বৃদ্ধি, হৃদ্রোগ ও ক্যানসারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি থেকে আমাদেরকে রক্ষা করে।
শেষ কথা
সুস্থ দেহ সবল মন, কর্মব্যস্ত সুখী জীবন। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে আমরা স্বাস্থ্য পরিচর্যায় অর্থাৎ সুস্বাস্থ্য গঠনে কত কিছুই না করে থাকি। দেহের জন্য যেসকল খাদ্য আমাদের জৈবিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করে তার মধ্যে মিষ্টি আলু অন্যতম। সাধারণত মিষ্টি আলু যেকোনো অঞ্চলেই সহজলব্য ও নানাবিদ পুষ্টিগুণে ভরপুর। মিষ্টি আলুর মধ্যে থাকা ভিটামিন-এ, আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে, চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধিতে, মস্তিষ্ক ভালো রাখতে ও শরীরের রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বেশ উপকারী। মোটকথা আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অমুল্য উপকারে আসছে এই মিষ্টি আলু। প্রিয় পাঠক, আশা করছি আজকের আর্টিকেলটি আপনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েছেন এবং মানবদেহের জন্য মিষ্টি আলুর অজানা উপকারিতার সম্পর্কে বিশদ জানতে পেরেছেন। আশা করছি, আজকের আর্টিকেলটি আপনার সু-স্বাস্থ্য গঠনের জন্য সহায়ক হতে পারে। ভবিষ্যতে, এমন আরও স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আজকের মতো বিদায় নিলাম, ধন্যবাদ।






আলোকবর্ষ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুণ। প্রীতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়।
comment url