ডিজিটাল অর্থনীতির চমক সৃষ্টিতে এআই ডেটা সেন্টার কি সুফল দিচ্ছে

আধুনিক প্রযুক্তির যুগে ডিজিটাল অর্থনীতির চমক সৃষ্টিতে এআই নিয়ে এসেছে নতুন নতুন সফলতা। তন্মধ্যে এআই ডেটা সেন্টার কি কি সুফল নিয়ে এসেছে এবং অর্থনীতিতে কি অবদান রাখছে সে সম্পর্কে ধারণা দিতে আজকের বিস্তারিত আর্টিকেলটি আপনার জন্য। 
পোস্ট সূচিপত্রঃএকটি দেশের অর্থনীতিই হল সে দেশের মেরুদণ্ড। অর্থনীতির উপর নির্ভরশীল প্রতিটি দেশ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক অগ্রগতি। তাইতো ডিজিটাল অর্থনীতির চমক সৃষ্টিতে এআই ডেটা সেন্টার নিয়ে এলো নতুনত্তের সমাহার। ব্যবহারকারীদের এনে দিলো দ্রুতগতিতে সহজ ও নিরাপদ পেমেন্টের সুযোগ। প্রিয় পাঠক, আমরা আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে কিভাবে ডিজিটাল অর্থনীতির চমক সৃষ্টিতে এআই ডেটা সেন্টার সুফল দিচ্ছে সে সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করবো।

ডেটা সেন্টার কি?

ডাটা সেন্টার বলতে আমরা সাধারণত বুঝি, যেখানে মূলত সার্ভার ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্কিং কানেকশন সংযুক্ত করার মাধ্যমে ডাটা ও তথ্য উপাত্ত সংরক্ষণ এবং কেন্দ্রিয়ভাবে তা পরিচালনা করা হয়ে থাকে। একটি ডাটা সেন্টার হচ্ছে বিভিন্ন নেটওয়ারকিং এর প্রধান সংযোগস্থল যার মাধ্যমে সকল ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক-কে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 

এআই ভিত্তিক ডেটা সেন্টার এর মুখ্য উদ্দেশ্য

প্রতিটি ডেটা সেন্টার স্থাপনের একটি মুখ্য উদ্দেশ্য থাকে। তেমনি এআই ভিত্তিক কার্যক্রমকে প্রসারিত করতে ও এ থেকে সঠিক সেবা পেতে অবশ্যই একটি এআই ভিত্তিক ডেটা সেন্টার স্থাপন খুবই অত্যাবশ্যকীয়। এই ডেটা সেন্টার স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস, প্রসেসিং ইউনিট মেশিন, হার্ডওয়্যার সম্পর্কিত সরঞ্জাম সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে। এআই ভিত্তিক এই ডেটা সেন্টারটি মূলত আইটি বেজ হওয়ায় আইটি সিস্টেমকে কার্যকর ও উন্নত করতে পর্যাপ্ত কম্পিউটিং এক্সেসরিজ, নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম স্থাপন ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য স্টোরেজ এর ব্যবস্থা রাখতে হবে। এআই ভিত্তিক ডেটা সেন্টারটি মূলত ব্যবহৃত হয় আধুনিক ডিজিটাল ডাটা সংরক্ষণাগার হিসেবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধাপগুলো কি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যে ৭টি ধাপ রয়েছে তা নিম্নে তুলে ধরা হল-

ক) জ্ঞান-ভিত্তিক সিস্টেম;
খ) প্রেক্ষাপট সচেতনতা ও প্যাটার্ন শনাক্তকরণ; 
গ) ডোমেন-নির্দিষ্ট দক্ষতা; 
ঘ) যুক্তিবাদী যন্ত্র; 
ঙ) আত্ম-সচেতন সাধারণ বুদ্ধিমত্তা; 
চ) মানুষের ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাওয়া কৃত্রিম অতি-বুদ্ধিমত্তা এবং
জ) সিঙ্গুলারিটি।

এআই ভিত্তিক ডাটা সেন্টারটির মেয়াদকাল

আধুনিক ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশের সাথে সাথে এআই একটি প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা অনেকটাই এআই এর উপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়তেছি। ডিজিটাল লেনদেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে যেকোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক সমাধান পেয়ে যেতে আর দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয় না। এআই ভিত্তিক ডাটা সেন্টারটির মেয়াদকাল সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে এটি দিনে দিনে বৃহৎ কর্ম পরিকল্পনায় এগিয়ে যাচ্ছে। তাই, প্রযুক্তি বিজ্ঞানীরা মাইক্রোসফটের সৃষ্টির মতোই এটি একদিন গোটা বিশ্বকে রাজত্ব করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে। অর্থাৎ, এআই ডেটা সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে সুদূর প্রসারী কর্ম পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। যা আমাদের আধুনিক জীবন ব্যবস্থায় প্রধান অন্তরায় হিসেবে ব্যপ্তি লাভ করেছে। latency and form fector পরিবর্তিত হওয়ায় ধারণা করা হয়, আগামী ২০ বছরের মধ্যে কেন্দ্রীভূত এআই ডাটা সেন্টার স্বাভাবিক নিয়মে ফিরবে।

এআই'র জন্য বৃহৎ ডাটা সেন্টার কেন প্রয়োজন

আমাদের প্রযুক্তি প্রেমিরা এআই সম্পর্কে অনেক কৌতূহলী থাকার কারণে অনেকেই জানতে চান, Artificial Intiligence হওয়া সত্ত্বেও কেন এটিকে নিয়ন্ত্রনের জন্য এতো বৃহৎ ডাটা সেন্টার স্থাপন আবশ্যক। সহজভাবে বলতে গেলে কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণের জন্য যেমন Central Processing Unit (CPU)-এর প্রয়োজন হয়, তেমনিই এআইকে পরিকল্পিতভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ এর দরকার হয়। সুতরাং, এআই ডাটা সেন্টার এমন একটি বৃহৎ ডাটা সেন্টার, যেখানে তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য সার্ভার ও নেটওয়ার্কিং সম্পর্কিত যাবতীয় সরঞ্জাম স্থাপন করে রাখা হয়। স্থাপিত সরঞ্জামাদি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রযাত্রার জন্য অত্যন্ত আবশ্যক।

ডাটা সেন্টার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিভাবে কাজ করে

ডাটা সেন্টার এর বিশেষত্ব হল এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হিসাবে কাজ করে থাকে। মোটকথা এআই ডাটা সেন্টারের কাজ হলো কৃত্রিম বুদ্দিমত্তার সমর্থন করার জন্য সুসজ্জিত একটি বিশেষায়িত কেন্দ্র, যার রয়েছে উচ্চ কম্পিউটেশনাল সক্ষমতা, রয়েছে ডেটা থ্রুপুট, স্টোরেজ সক্ষমতা ও শক্তি খরচ কমানোর জন্য শক্তি সাশ্রয়ী ব্যবস্থা। তাই, আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির যুগে এআই ডাটা সেন্টার একটি বিশস্ত জায়গায় পরিণত হয়েছে। 

সংগৃহীত চিত্রঃ বাংলাদেশে-আলফা-নেট-এর-ডাটা-সেন্টারস।

এআই ডাটা সেন্টার সরবরাহের হার কেমন

বিশ্ব জুড়ে এআই ডাটা সেন্টার সরবরাহের হারে বিস্ময়কর পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ভবিষ্যতে ২০৩০ সাল অবদি এআই এর চাহিদা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে ২০ শতাংশ হ্রাসের বিষয়টি বিবেচনা করলে অকুপেন্সি বেস কেসের তুলনায় ৮ শতাংশ কম হবে। যার অর্থ দ্বারায়, ডেটা সেন্টারগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সরবরাহ বিদ্যমান থাকবে। যার কারণে একটি বিষয় ঘটবে তা হল, সম্ভাব্য অপারেটরদের ক্ষেত্রে লিজের হার কিছুটা কমাতে বাধ্য করবে। 
জানা যায়, ২০৩০ সাল অবদি বৈশ্বিক ডাটা সেন্টার খাতে চক্রবৃদ্ধির হার আনুমানিক ১৪ শতাংশে দেখা যাবে যা ২০০০ সাল হতে অদ্যবধি নির্মিত ডাটা সেন্টারগুলোর সক্ষমতার দ্বিগুণ ক্ষমতায় ১.৪ শতাংশের কম সময়ের মধ্যে নির্মাণ করবে। পৃথিবী জুড়ে বৈশ্বিক অকুপেন্সি রেট বর্তমানে ৯৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এযাবৎ নির্মাণাধীন ডাটা সেন্টারগুলো ৭৭ শতাংশ এর জন্য ইতোমধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করেছে। দিনে দিনে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা প্রসারিত হওয়ার ফলে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ডাটা সেন্টার বিনিয়োগে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করতে যাচ্ছে যা আনুমানিক প্রায় $৪০০ বিলিয়ন (৪০ হাজার কোটি) ডলারে পৌঁছাবে বলে অগ্রিম পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। Alphabet, Amazon, Microsoft ও Meta এর মতো সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানের হাইপারস্কেলারদের বিনিয়োগের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

কোথায় ডাটা সেন্টার বেশী গড়ে উঠেছে

জানা যায়, প্রায় ৫৫০টিরও বেশি ডাটা সেন্টার তৈরির মাধ্যমে নর্দার্ন ভার্জিনিয়া (NOVA) বিশ্বের ডাটা সেন্টার রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে যা আমেরিকার ওয়াশিংটন, ডিসি'র ঠিক নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত। ওয়াশিংটন, ডিসি'র ঠিক নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত হওয়ায় মহাদেশটির রাজধানীর নাগরিকদের জন্য একটি সুবিধাসংবলিত ফাইবার ক্যাবলিং ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে।
সংগৃহীত চিত্রঃ ইউনডর গ্রুপের প্রথম নর্দার্ন ভার্জিনিয়া ডাটা সেন্টার।

এআই ডাটা সেন্টার স্থাপনে কারা লাভবান হয়

এআই ভিত্তিক ডাটা সেন্টার স্থাপনে কারা লাভবান হয় সে বিষয়ে আমাদের কিছুটা ধারণা থাকা দরকার। বর্তমানে পৃথিবী জুড়ে বেকারত্বের সমস্যা একটি বড় ও জটিল সমস্যা। তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন সাধিত হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর সঠিক ব্যবহার না হওয়ার ফলে এর সুবিধা থেকে অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন। এআই ডাটা সেন্টার নির্মাণের ফলে কিছুটা হলেও প্রযুক্তি প্রেমিদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার দার খুলবে, নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা সাধিত হবে।

শেষ কথা

পৃথিবীর বয়স যতই দীর্ঘায়িত হচ্ছে, প্রযুক্তি খাতেও পরিবর্তন আসছে। দিন দিন প্রযুক্তিতে যে আমূল পরিবর্তন আসছে যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে  শিখতে হবে এবং জানতে হবে প্রযুক্তি সম্পর্কে। নতুন নতুন উদ্ভাবনীয় বিষয় সম্পর্কে এখন জ্ঞান রাখা জরুরী হয়ে পড়েছে। প্রযুক্তির বিকাশ অব্যাহত থাকলে আমাদের জীবনযাত্রা আরও সহজ হবে এবং বিশ্ব আরও সংযুক্ত হবে। আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে আমরা ডিজিটাল অর্থনীতির চমক সৃষ্টিতে এআই ডেটা সেন্টার কি সুফল দিচ্ছে সে সম্পর্কে ধারণা পেলাম। আশা করি, আজকের এই আর্টিকেলটি আপনাকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে সহযোগিতা করেছে। আজকের আর্টিকেলটির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আলোকবর্ষ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুণ। প্রীতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়।

comment url