গ্রামাঞ্চলে কোন ধরণের ব্যবসায় ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভ

বর্তমান বিশ্বে ব্যবসায় বিনিয়োগ বলতে শহুরে ব্যবসাকে সকলে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। কিন্তু ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী গ্রামাঞ্চলেও যে ব্যবসা করে ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভবান হওয়া যায় সে সম্পর্কে কিছু ধারণা দিতে আজকের বিস্তারিত আর্টিকেলটি আপনার জন্য।
পেজ সূচিপত্রঃআমরা সাধারণত নিজেদের শিক্ষাজীবন শেষ করে নিজেকে এই প্রতিযোগিতার সমাজ ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠিত করতে গ্রাম ছেড়ে শহরে এসে পাড়ি জমাই। ব্যস্ততম শহরে এসে নিজের ব্যবসাকে গড়ে তুলতে চাই। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল শহরের মতোই গ্রামেও অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করেও যে আপনার ব্যবসাকে প্রসারিত করতে পারেন সেটিই মুখ্য বিষয়। চলুন তাহলে জেনে নেই কি উপায়ে শহরাঞ্চলের মতো গ্রামাঞ্চলেও যে নানামুখি ব্যবসা দ্বার করানো যায়, ব্যবসায় লভ্যাংশ পাওয়া যায় সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। নিম্নে ব্যবসায় বিনিয়োগের ধরণ অনুযায়ী কিছু ধারণা তুলে ধরা হল- 

ক) মুদি দোকান (Grocery Shop)

আপনি চাইলে গ্রামাঞ্চলে মুদি দোকান দিয়ে ৫/৮ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে মাসে ৪০–৭০ হাজার টাকা লাভ করতে পারেন। কিন্তু অবশ্যই আপনাকে সঠিক মূলধনী ব্যবসা, ব্যবসার পরিবেশ, ব্যবসার লোকেশন ও ব্যবস্থাপনাকে প্রাধান্য দিয়েই শুরু করতে হবে। তারপরেও যে আপনি নিশ্চিত লাভ করবেন এই নিশ্চয়তা আপনাকে কেউ দিতে পারবে না। তারপরেও ব্যবসার ক্ষেত্রে ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে ''নো রিক্স নো গেইন''। আপনাকে লাভের মুখ দেখতে হলে অবশ্যই ব্যবসায় ঝুঁকি নিতে হবে। তাই, গ্রামাঞ্চলে আপনার ব্যবসার জন্য নিম্নে কিছু সংগৃহীত চিত্র দিয়ে ধারণা দেয়া হল যা আপনার সীমিত পুঁজি অনুযায়ী মুদি দোকানের ব্যবসায় বিনিয়োগ করে মুনাফা আনতে সহায়ক হবে।
যে কারণে ভালোঃ 
প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষপত্র Steady Sale থাকে। এই জাতীয় ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে ৫/৮ লক্ষ টাকার (স্টক+দোকান+সেটআপ) মূলধন প্রয়োজন হয়। 
সম্ভাব্য লাভঃ
মাসে ৪০/৭০ হাজার টাকা লভ্যাংশ আসতে পারে। যদি ভালো লোকেশন হয় তাহলে এটিই সবচাইতে Safe Option হতে পারে আপনার জন্য।

খ) পোল্ট্রি ব্যবসা (Poltry Business)

গ্রামাঞ্চলে পোল্ট্রি ব্যবসা দিয়েও ৬/১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে মাসে ৩০–৮০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। কিন্তু এক্ষেত্রে আপনাকে মুদি দোকানের ব্যবসার মতো অবশ্যই সঠিক মূলধনী ব্যবসা, ব্যবসার পরিবেশ, ব্যবসার লোকেশন ও ব্যবস্থাপনাকে প্রাধান্য দিয়েই শুরু করতে হবে। এই ব্যবসা অন্যান্য মূলধনী ব্যবসার চাইতে অনেক ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করতে হয়। অনেক সময় প্রাপ্তির চাইতে বেশী পাওয়া যায় আবার কোন কোন ক্ষেত্রে অল্প লাভেও সন্তুষ্ট থাকতে হয়। আপনাকে লাভের মুখ দেখতে হলে অবশ্যই অন্যান্য ব্যবসার মতোই এই ব্যবসাতেও ঝুঁকি নিতে হবে। তাই, গ্রামাঞ্চলে আপনার ব্যবসার জন্য নিম্নে কিছু সংগৃহীত চিত্র দিয়ে দেখানো হল, কিভাবে আপনি সীমিত পুঁজি দিয়ে পোল্ট্রি ব্যবসায় বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারেন।
যে কারণে ভালোঃ 
সারা বছরই ডিম ও মুরগির চাহিদা থাকে বিধায় এই ব্যবসার প্রতি গ্রামের শিক্ষিত বেকারগণদের আগ্রহ বেশী পরিমাণে দেখা যায়। গ্রামে নিজস্ব জমি অথবা আঙ্গিনায় এই ব্যবসা করতে পারা যায় বলে আলাদা করে স্থান নির্ধারণ করতে হয় না বিধায় তা লাভজনক ব্যবসা হিসেবে গ্রামাঞ্চলে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।
সম্ভাব্য লাভঃ 
পোল্ট্রি ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে ৬/১০ লক্ষ টাকার (ঘর বানানো+খাদ্য সামগ্রি+বিদ্যুৎ খরচ) মূলধন প্রয়োজন হতে পারে। সঠিকভাবে সময় দিলে মাসে ৩০–৮০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।

গ) নির্মাণ সামগ্রীর দোকান (Construction parts shop)

শহরের মতো গ্রামেও আধুনিকতার ছোঁয়া আসায় গ্রামেও রড, সিমেন্ট দিয়ে দালানকোঠে নির্মাণের ব্যাপকতা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে গ্রামেও এখন শহুরে আধুনিকতার ছোঁয়া পেতে চান সকলে। তাই সারা বছরই নির্মাণ সামগ্রীর চাহিদা রয়েছে। নির্মাণ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে রড, সিমেন্ট, বালু, টাইলস ইত্যাদি। এর জন্য লোকেশন একটি প্রধান বিষয়। লোকেশন নির্ণয় করে এই ব্যবসা গড়ে তুললে আশানুরূপ লাভ পাওয়া যেতে পারে। এটির ক্ষেত্রেও গ্রামের বাজারগুলোতে নিজস্ব জায়গা থাকলে শুধুমাত্র মূলধন দিয়ে ব্যবসাকে দাঁড় করানো যেতে পারে। এই ব্যবসাটি গ্রামের অন্যান্য ব্যবসার মতোই লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে বিধায় গ্রামাঞ্চলে এটি প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। তাই, গ্রামাঞ্চলে আপনার ব্যবসার জন্য নিম্নে কিছু সংগৃহীত চিত্র দিয়ে দেখানো হল, কিভাবে আপনি মূলধন বিনিয়োগ করে  নির্মাণ সামগ্রীর দোকান দিয়ে লাভবান হতে পারেন।
যে কারণে ভালোঃ 
সারা বছরই ক্রেতার মধ্যে নির্মাণ সামগ্রীর চাহিদা থাকে বিধায় এই ব্যবসার প্রতি গ্রামের সকল অর্থশালীদের মধ্যে আগ্রহ বেশী পরিমাণে দেখা দেয়। গ্রামাঞ্চলে ঘর-বাড়ি নির্মাণ থেমে নেই, তাই গ্রাহকের অর্ডারেরও কমতি নেই। এই ব্যবসায় বিশেষ করে বড় অর্ডার পেলে বেশী লাভবান হওয়া যায়।
 আরও পড়ুনঃ 
সম্ভাব্য লাভঃ 
নির্মাণ সামগ্রীর দোকান দিতে কমপক্ষে ৮/১০ লক্ষ টাকার মূলধনের প্রয়োজন হতে পারে। সঠিকভাবে সময় দিলে মাসে অন্তত ৫০ হাজারেরও বেশী অর্থ আয় করা সম্ভব।

ঘ) ফাস্টফুড/চা-নাস্তার দোকান

শহরের চাকচিক্য এখন গ্রামেও চলে আসায় সকল বয়সী তরুন-তরুণী, যুবক-যুবতীদের মধ্যে শহরের মতো ফাস্টফুড, কফিবারসহ আধুনিক চা-নাস্তার দোকান সকলেই কম-বেশী আশা করে থাকেন। তাই বিশেষ কোন প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই আছেন শহরে আসতে চান না। বিশেষ করে গ্রামেও এখন শহুরে আধুনিকতার ছোঁয়া পেতে চান সকলে। তাই সারা বছরই ফাস্টফুড/চা-নাস্তার দোকানের চাহিদা রয়েছে। এই ব্যবসার জন্যও লোকেশন একটি প্রধান ও মুখ্য বিষয়। লোকেশন টার্গেট করে এই ব্যবসা গড়ে তুলতে পাড়লে আপনি আশানুরূপ ফল পেতে পারেন। লোকেশন বলতে মার্কেটের সন্নিকটে, স্কুলের নিকটবর্তীতে জায়গা বুঝে কিছু মূলধন বিনিয়োগ করেই এই ব্যবসাকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। এই ব্যবসাটি একক অথবা যৌথ হিসেবেও করা যেতে পারে। এই ব্যবসাটি গ্রামের অন্যান্য ব্যবসার মতোই লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে বিধায় গ্রামাঞ্চলে এটি প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। তাই, গ্রামাঞ্চলে আপনার ব্যবসার জন্য নিম্নে কিছু সংগৃহীত চিত্র দিয়ে দেখানো হল, কিভাবে আপনি মূলধন বিনিয়োগ করে  নির্মাণ সামগ্রীর দোকান দিয়ে লাভবান হতে পারেন।
যে কারণে ভালোঃ 
প্রায় সব সময়ই বা সব বয়সীদের মধ্যেই ফাস্টফুড/চা-নাস্তার প্রতি আগ্রহ দেখা যায়। দিনের যেকোন সময়েই ক্রেতা পাওয়া যায় বিধায় এই ব্যবসার প্রতি গ্রামের সকলের মধ্যে আগ্রহের কমতি নেই। টিনেজ বয়সীদের মধ্যে এই ব্যবসার প্রতি আগ্রহ বেশী দেখা যায়, তাই অবসর সময়ে এই ব্যবসাকে অনেকেই  লাভবান হিসেবে বেঁছে নিয়েছে। বিনিয়োগকৃত অর্থ দ্রুতই উঠে আসে তাই এই ব্যবসা লাভজনক ব্যবসা।  
সম্ভাব্য লাভঃ 
ফাস্টফুড/চা-নাস্তার দোকান দিতে কমপক্ষে ২/৫ লক্ষ টাকার মূলধনের প্রয়োজন হতে পারে। সঠিকভাবে সময় দিলে মাসে অন্তত ৩০-৬০ হাজারের মত অর্থ আয় করা সম্ভব।

ঙ) কৃষি পণ্য ক্রয়-বিক্রয় (Rice, Paddy, Vegetables)

শহরের মতো গ্রামেও কৃষি পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপকতা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে গ্রামে চাষাবাদের ক্ষেত্রে কৃষি পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বিশেষকরে এখন শহরে যেয়ে জরুরি কৃষি পণ্য ক্রয় করা অনেক সময় সাপেক্ষ হয়ে যায়। যার কারণে কৃষক হাতের নাগালে কৃষি পণ্য সহজেই পেতে চান। তাই সারা বছরই কৃষি পণ্যের বেশ চাহিদা রয়েছে। নির্মাণ সামগ্রীর দোকানের মতই কৃষি পণ্য ক্রয়-বিক্রয় এর ক্ষেত্রেও লোকেশন একটি মুখ্য বিষয়। লোকেশন নির্ণয় করে এই ব্যবসা গড়ে তুললে আশানুরূপ ফল পাওয়া যেতে পারে। এটির ক্ষেত্রেও গ্রামের বাজারগুলোতে নিজস্ব জায়গা থাকলে শুধুমাত্র মূলধন দিয়ে ব্যবসাকে দাঁড় করানো যেতে পারে। এই ব্যবসাটি গ্রামের অন্যান্য ব্যবসার মতোই লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে বিধায় গ্রামাঞ্চলে এটি প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। তাই, গ্রামাঞ্চলে আপনার ব্যবসার জন্য নিম্নে কিছু সংগৃহীত চিত্র দিয়ে দেখানো হল, কিভাবে আপনি মূলধন বিনিয়োগ করে কৃষি পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের দোকান দিয়ে লাভবান হতে পারেন।
যে কারণে ভালোঃ 
গ্রামাঞ্চলে অনেকেই কৃষি পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের এই ব্যবসাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন এবং আগ্রহ দেখা যায়। দিনের যেকোন সময়েই ক্রেতা পাওয়া যায় বিধায় এই ব্যবসার প্রতিও গ্রামের সকলের মধ্যে আগ্রহের কমতি নেই। তাই অবসর সময়ে এই ব্যবসাকে অনেকেই  লাভবান হিসেবে বেঁছে নিয়েছে। বিনিয়োগকৃত অর্থ দ্রুতই উঠে আসে তাই এই ব্যবসা লাভজনক ব্যবসা।  
সম্ভাব্য লাভঃ 
কৃষি পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫/১০ লক্ষ টাকার মূলধনের প্রয়োজন হতে পারে। সঠিকভাবে সময় দিলে মাসে অন্তত ৪০-৭০ হাজারের মত অর্থ আয় করা সম্ভব।

শেষ কথা

যুগ যতই আধুনিক হচ্ছে, ব্যবসার ধরণও পরিবর্তিত হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলেও যে ব্যবসায় বিনিয়োগ করে লাভবান হওয়া যায় আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে আমরা গ্রামাঞ্চলে কোন ধরণের ব্যবসায় ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব সে সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা পেয়েছি। আজকের আর্টিকেলটির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থেকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ভ বাংলা আর্টিকেল পড়ে নতুন নতুন টিপস জানতে আমাদের ওয়েবসাইটটি বেশী বেশী ফলো করার প্রত্যাশা রইল। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আলোকবর্ষ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুণ। প্রীতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়।

comment url