হামের লক্ষণ ও প্রতিকার, কিভাবে হামে আক্রান্ত শিশুর যত্ন নিবেন
বর্তমান সময়ে জনমনে একটি আতঙ্কের নাম হল হাম। প্রায় প্রতিদিনই হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। শিশুর শরীরে হাম হলেই মা-বাবার চোখে-মুখে দুঃশ্চিন্তার ছাপ। হাম যদি হটাৎ শিশুর শরীরে দেখা দেয় তাৎক্ষণিক কি করণীয়, হামের লক্ষণ ও প্রতিকার, কিভাবে হামে আক্রান্ত শিশুর যত্ন নিবেন সে সম্পর্কে ধারণা দিতে আজকের বিস্তারিত আর্টিকেলটি আপনার জন্য।
পেজ সূচিপত্রঃসাধারণত শিশুর জন্মের পরপরই ৬ মাস থেকে ১ বৎসর যাবৎ বিভিন্ন প্রকারের ভেক্সিনের পাশাপাশি হামের ভেক্সিনও প্রদান করা হয়। এই রোগটি শিশুর শরীরে দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে বিধায় এটিকে ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ বলা হয়ে থাকে। এই রোগ থেকে শিশুকে নিরাপদ রাখতে হলে আপনাকে প্রথমত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সরকারের জরুরি নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি হামের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সম্মুখ ধারণা থাকাটা বর্তমান প্রেক্ষাপটে একান্ত জরুরি। চলুন জেনে নেই, হাম কি, হামের লক্ষণ ও প্রতিকার, কিভাবে হামে আক্রান্ত শিশুর যত্ন নিবেন।
হাম কি?
হাম একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ যার অন্য আরও একটি নাম হোল রুবেওলা ভাইরাস। সাধারণত শিশুরা এই ভাইরাসজনিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এই রোগটির একটি বিশেষ দিক হোল শিশু আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে এটি দ্রুতই শিশুর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। মূলত শিশুর শ্বাসতন্ত্রকে এটি খুব বেশী প্রভাবান্নিত করে।
হামের লক্ষণসমূহ
প্রতিটি রোগের যেমন কিছু লক্ষণ রয়েছে, হামের ক্ষেত্রেও তা ব্যতিক্রম নয়। নিম্নে হামের কিছু লক্ষণীয় দিক সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো-
ক) প্রথমত, কোন শিশু হামে আক্রান্ত হলে প্রথমত শিশুর শরীরে দেখা দিবে তীব্র জ্বর। জ্বরের সাথে সাথে গলায় থাকবে শুকনো কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া। পাশাপাশি চোখ লাল বর্ণে পরিণত হওয়া। দিন যতই গড়াবে শিশুর সারা শরীরে লাল লাল ফুসকুড়ি বা র্যাশ দেখা দিবে। মূলত শিশুরা হামে আক্রান্ত হওয়ার প্রায় ১০ থেকে ১১ দিনের মাথায় শরীরে এর প্রভাব চোখে পড়ে।
খ) দ্বিতীয়ত, লক্ষণ হিসেবে শিশুর শরীরের কিছু নাজুক স্থানে যেমন-গলার পাশে লালচে র্যাশ যা একইভাবে কানের পেছনেও দেখা দেয়। র্যাশ ওঠার আনুমানিক ২/৩ দিন পূর্বেই মুখের অভ্যন্তরের গাল জুড়ে ছোট আকৃতির সাদা দাগ লক্ষণীয়। আস্তে আস্তে র্যাশ সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই সময় শিশুর শরীরে ১০৪-১০৫ ডিগ্রি মাত্রার তীব্র জ্বর স্থায়ী থাকে এবং জ্বরের মাত্রা সহসায় নামতে চায় না যা হামে আক্রান্ত শিশুর প্রধান লক্ষণীয় দিক।
হামের প্রতিকারসমূহ
হাম এমন একটি ভাইরাসজনিত রোগ যার নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক চিকিৎসা নেই। তবে, শিশু জন্মের পরপরই এর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে ভেক্সিন অর্থাৎ এমএমআর (MMR) বা হামের টিকা দিলে আক্রান্ত শিশু অনেকাংশে রক্ষা পেতে পারে। তবে, যে সকল শিশু সমমতো টিকা না পায় তাদের জন্য এই সংক্রমণ যেমন বিপজ্জনক হতে পারে, তেমনি এটি শিশুর মৃত্যুর কারণও হতে পারে। এক্ষেত্রে আক্রান্ত শিশুকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে লক্ষণ ভেদে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হয়।
যদিও টিকাদান বিশ্বব্যাপী হামের সংখ্যা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে, তবুও কম টিকাদানের হারযুক্ত অঞ্চলে এখনও হাম দেখা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাপী ১,১৪,০০০ এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যার বেশিরভাগই ৫ বছরের কম বয়সী শিশু।
কিভাবে হামে আক্রান্ত শিশুর যত্ন নিবেন
রোগবেধে শিশুর শরীরে হাম দেখা দিলে তারও কিছু প্রতিকার রয়েছে। নিম্নে হাম হতে রক্ষা পেতে কিছু প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো-
খ) শিশুর হামের প্রভাবকালীন সময়ে তাকে পরিপূর্ণ বিশ্রামে দিতে হয়। এই সময় শিশুর শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে ঘন ঘন খাবার পানি পান করা সহ আপনার শিশুকে তরল জাতীয় খাবার ও ফলের রস খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে।
গ) হামে আক্রান্ত শিশুর শরীরে অতিরিক্ত জ্বর বা জ্বরের তীব্রতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বর প্রতিরোধে প্রয়োজন অনুপাতে প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ ও ব্যাথা প্রশমিত ঔষধ দিতে পারেন।
ঘ) হামে আক্রান্ত শিশুকে বাসায় রাখার ক্ষেত্রে কারও সংস্পর্শ ব্যতিরেকে আলাদা স্থানে রাখতে হবে। বিশেষ করে শিশুর শরীরে র্যাশ এসে গেলে ঐসময় থেকে আনুমানিক ৫ দিন পর্যন্ত রোগীকে আলাদা রাখাটাই শ্রেয়।
ঙ) হামে আক্রান্ত শিশুকে এই সময় জরুরি নির্দেশনা মেনে ভিটামিন-এ ক্যাপসল খাওয়াতে পারেন। তাতে করে শিশুকে আক্রান্তের জটিল অবস্থা থেকে কিছুটা লাগব করতে সহায়তা করতে পারে।
চ) হামে আক্রান্ত শিশুর চোখ ও শরীরের আলাদা যত্ন নিতে হবে। চোখে পানি দিয়ে চোখ পরিষ্কার রাখা ও পরিষ্কার, আরামদায়ক জামা-কাপড় পরিধান করা একান্ত জরুরি।
প্রাথমিক অবস্থায় হাম সনাক্ত করতে পারলে ও সময়মত চিকিৎসা দিতে পারলে হামে আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত সুস্থ্যতার দিকে আনতে সক্ষম হওয়া যায় ও জটিল পরিস্থিতি থেকে শিশুকে উত্তরণ করা সম্ভবপর হয়।
শেষ কথা
বর্তমান সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব শিশুদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হামে আক্রান্ত শিশুর যত্ন নিতে প্রতিক্ষেত্রে আমাদেরকে একটি দুঃচিন্তার মধ্যে পড়তে হয়। তাই, আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে আমরা হামের লক্ষণ ও প্রতিকার, কিভাবে হামে আক্রান্ত শিশুর যত্ন নিবেন সে সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা পেয়েছি। আজকের আর্টিকেলটির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থেকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। বাংলা আর্টিকেল পড়ে সাস্থ্য সম্পর্কিত টিপস জানতে আমাদের ওয়েবসাইটটি বেশী বেশী ফলো করার প্রত্যাশা রইল। ধন্যবাদ।
.webp)
আলোকবর্ষ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুণ। প্রীতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়।
comment url