প্রসেসর নিয়ে নতুন চিন্তা ভাবনা, কি আছে Core-i প্রসেসরে

একটি কম্পিউটারের প্রধান চালিকা শক্তি হল CPU (Central Processing Unit)। এই CPU-এর মৌলিক অংশ হচ্ছে প্রসেসর। মানুষ যেমন ব্রেইন ছাড়া অচল তেমনি কম্পিউটারের ব্রেইন হচ্ছে প্রসেসর। প্রসেসর বিহীন কম্পিউটার এককথায় অচল। আমরা যারা কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকি প্রসেসরের সম্মুখ ধারণা পেতে আমাদের আগ্রহের কমতি নেই। তাই, প্রসেসর নিয়ে নতুন চিন্তা ভাবনা, কি আছে Core-i প্রসেসরে, সে সম্পর্কে জানতে এবং জানাতে আজকের বিস্তারিত আর্টিকেলটি আপনার জন্য।
পেজ সূচিপত্রঃকম্পিউটার প্রযুক্তির লগ্ন থেকে যুগে যুগে এর প্রসেসর, মাদারবোর্ড, রেম, পার্টসসহ সকল ভার্শনে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। প্রযুক্তিখাত যেভাবে উন্নত ও সম্প্রসারিত হচ্ছে দিনে দিনে কম্পিউটার এক্সসসরিসগুলোকে যুগোপযোগী করা হচ্ছে। সাদ ও সাদ্যের মধ্যে পছন্দের ব্র্যান্ডগুলোকে টার্গেট করে সকল স্তরে এর আধুনিক ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই, আজকের আর্টিকেলটিতে প্রযুক্তিপ্রেমিদের জন্য প্রসেসর সম্পর্কে কিছু ধারণা দেয়া হয়েছে যা ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে। চলুন বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক, প্রসেসর নিয়ে নতুন চিন্তা ভাবনা, কি আছে Core-i প্রসেসরে।

প্রসেসর নিয়ে নতুন চিন্তা ভাবনাঃ

ক) উদ্ভিদের প্রাণ সঞ্চারে প্রসেসর  

প্রসেসর জগতের সম্পূর্ণ নতুন একটি আবিষ্কার হল Core-i প্রসেসর। আমরা সাধারণত প্রসেসরকে কম্পিউটারের অংশ হিসেবে চিনে থাকি। কিন্তু, প্রসেসর যে শুধুমাত্র কম্পিউটারের চালিকা শক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হয় সে ধারণাকে এখন অনেকটাই পালটে দিয়েছে। প্রযুক্তিবিদদের ধারণা, ভবিষ্যতে উদ্ভিদসহ মানুষের প্রাণ সঞ্চারেও ব্যবহৃত হবে Core-i প্রসেসর, এমনটি চিন্তা-ভাবনার জন্ম দিয়েছে। প্রসেসর কি শুধুই কম্পিউটারের পরিচালনার অংশ হিসেবেই কাজে আসছে, তা মনে করা একদম সঠিক নয়। Core-i প্রসেসর উদ্ভিদের কোষে স্থাপন করার মাধ্যমে উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়ে সঠিক ধারণা পেতে সহজ হবে। এককথায় উদ্ভিদের প্রজনন সম্পর্কিত হিসাব-নিকাশ করতে সহজ হবে। অদূর ভবিষ্যতে Core-i প্রসেসর মানবদেহের অভ্যন্তরের পুষ্টি উপাদান বিশ্লেষণ করতেও সক্ষম হতে পারে। বিশেষকরে ডায়াবেটিস রোগীদের সুগারের মাত্রা কখনও বাড়ে বা কখনও কমে যাওয়া এমন পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পেতে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে Core-i প্রসেসর। 

খ) সংস্কৃতিতে প্রসেসর ভাবনা

প্রসেসর হল কম্পিউটার প্রযুক্তির অংশবিশেষ। কম্পিউটার প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধিত হওয়ার সাথে সাথে এর পার্টসগুলো ছাড়াও ভার্শনেও এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। জেনারেশন অনুযায়ী এর কার্যকারিতায় এসেছে নানারূপ পরিবর্তন সাথে কল্পনা শক্তিতেও। যদি এমন হয় অদূর ভবিষ্যতে Core-i প্রসেসর দিয়ে সমাজ ও সংস্কৃতির পরিবর্তন এবং জীবন ধারণ সম্পন্ন হয় তাহলে কতইনা বিস্ময়কর হতো। বিশেষকরে টেক্সটাইল থেকে শুরু করে গার্মেন্টসের কাপড় বুনয়নে ও নকশায় এমব্যাড এর মধ্য দিয়ে Core-i প্রসেসর কাজে আসতে পারে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল কাজ দ্রুত সমাধা করতে একটি সময় এর নিতান্ত প্রয়োজনীয়তা দেখা দিবে এমনটিই মনে করছেন প্রযুক্তিবিদরা।

গ) নিউরোকেমিক্যাল প্রসেসর

বর্তমান প্রযুক্তির যুগে এসে একটি বিষয় পরিলক্ষিত হয় তা হল, প্রসেসর মূলত ইলেকট্রন এর মাধ্যমে কার্যক্রম সম্পন্ন করে থাকে। ভাবুনতো যদি এমন হয়, প্রসেসর নিউরোট্রান্সমিটারের সাথে কাজ করবে। যা সেরোটোনিন, ডোপামিন জাতীয় রাসায়নিক প্রবাহকে ব্যবহার দ্বারা গণনা করতে সক্ষম হবে। এই পদ্ধতিতে গণনা করা গেলে এক পর্যায়ে তা মানবদেহের মস্তিষ্কের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ভবিষ্যতে Core-i প্রসেসর মানবদেহের পাশাপাশি প্রাণী জগতের নিউরোট্রান্সমিটার হিসেবেও কাজে আসতে পারে। বিশেষ করে আমাদের চিন্তা শক্তির তরঙ্গকে ধরে রাখতেও কাজ করবে Core-i প্রসেসর। একটি সময় দেখা যাবে, Core-i প্রসেসর মানুষের আবেগকে বুঝতে সক্ষম হবে। যেমন-আপনি যদি দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে প্রসেসর আপনার পিসি (Computer)-কে শান্ত ও স্বাভাবিক নিয়মে চালাবে। আবার পরক্ষনেই যদি আপনার মন পুলকিত হতে থাকে তাহলে প্রসেসর এক্ষেত্রে দ্রুত গতিতে তার কার্যক্রম চালাবে।

ঘ) ডিজিটাল মিডিয়া প্রসেসর

প্রযুক্তির আবির্ভাবের সাথে সাথে ডিজিটাল মিডিয়া প্রসেসর একটি নতুনত্ত ভাবনা। বিশেষ এই পদ্ধতিকে অবলম্বন করে অদূর ভবিষ্যতে হয়তোবা ইউটিউব অথবা টিকটকের ভিডিও Core-i প্রসেসরের অভ্যন্তরে কমপ্রেসড হিসেবে অ্যাড থাকবে। ফলে ইউটিউব অথবা টিকটকের ভিডিও  স্টোরেজ এর জন্য আলাদা করে স্টোরেজ প্রয়োজন হবে না। এর জন্য প্রসেসর মিডিয়া লাইব্রেরি হিসাবে কাজ করবে ও সফটওয়্যার ব্যতীত  ভিডিও এডিটিং এর কাজ করবে। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য এটি অনায়েশেই লাভজনক হবে এবং প্রসেসরের মধ্যে থেকেই ভিডিওগ্রাফি সহজেই করতে পারবে। তাই, Core-i প্রসেসর ডিজিটাল মিডিয়ার জন্য এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করবে।

ঙ) পরিবেশগত পরিবর্তনে প্রসেসর নিয়ে ভাবনা

পৃথিবীর জলবায়ু ক্রমশই পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রাকৃতিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তিত এটি চিরন্তন সত্য। তবে যদি পরিবেশগত পরিবর্তনে প্রসেসরের সহায়তায় এর কিছুটা পরিবর্তন আনা সম্ভব হয় তাহলে বিষয়টি কেমন হতো, তা নিয়ে আমাদের চিন্তা-ভাবনার অনেক কিছুই রয়েছে। ধরুন, প্রসেসর বাতাসের অন্তর্নিহিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করতঃ শক্তি উৎপাদনে কাজ করছে। ফলে কম্পিউটার ব্যবহার মানেই হতে পারে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা। প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে প্রযুক্তি ও পরিবেশ একইসাথে মিশে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার নতুন ভাবনা সৃষ্টি করছে।

চ) চিত্রশিল্পকর্মে প্রসেসর

চিত্রশিল্পকর্মে প্রসেসর দ্বারা যে আমুল পরিবর্তন আনা সম্ভব তা অনেকেরই অজানা। Core-i প্রসেসর এক্ষেত্রে ভবিষ্যতে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় চিত্রশিল্পকর্মকে নতুন রূপ দিতে কাজ করে চলেছে। এটি মানুষের চিন্তা শক্তির তরঙ্গকে কাজে লাগিয়ে রঙে রূপ দিয়ে ক্যানভাসে ছবি অঙ্কন করতে উৎসাহিত করবে।

ছ) শিক্ষাক্ষেত্রে প্রসেসর

শিক্ষাক্ষেত্রে Core-i প্রসেসরের ব্যবহার ডিজিটাল প্লাটফর্মে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে ডিজিটাল প্লাটফর্মে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা এখন অনেকটাই হাতের মুটোয় চলে এসেছে। শিক্ষার্থী কি বলতে চাচ্ছে, কি পড়তে চাচ্ছে Core-i প্রসেসর ঠিক সেটিই সল্ভ করে দিচ্ছে। তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য প্রসেসর শিক্ষার্থীর মনস্থাত্থিক চাওয়াকে বিশ্লেষণ করে সে অনুপাতে বিষয়ভিত্তিক সেগুলোকে সাজাবে। শিক্ষার্থীর চাওয়ার ধরণ অনুযায়ী প্রসেসর কখনও সহজ বিষয় দিবে আবার কখনওবা জটিল বিষয় দিবে। তাই শিক্ষাক্ষেত্রে প্রসেসর এর প্রয়োগ ডিজিটাল শিক্ষাক্ষেত্রে সহজ সমধান এনে দিয়েছে।

কি আছে Core-i প্রসেসরেঃ

কম্পিউটার প্রযুক্তির যুগে গ্লোবাল মার্কেটে প্রসেসরের ভিন্নতার কারণে এখন কোন প্রসেসরটি আপনার জন্য উপযোগী সেটি নির্ণয় করা অনেকটাই সহজ হয়েছে। কাজের ধরণ অনুযায়ী সাধ ও সাধ্যের মধ্যে Intel Core-i প্রসেসরের জনপ্রিয় CPU সিরিজ যেমন-Core i3, i5, i7 ও i9 নামে মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে। প্রসেসরগুলো আধুনিক জেনারেশন ভিত্তিক হওয়ায় এর পারফরম্যান্স, কোর সংখ্যা, ক্যাশ মেমরি এবং ক্লক স্পিড ভিন্ন ভিন্ন হয়। যার কারণে সাধারণ ব্যবহার ছাড়াও হাই-এন্ড গেমিং, ভিডিও এডিটিং এবং ডেটা সায়েন্স পর্যন্ত সব ধরনের কাজে Core-i প্রসেসর এর ব্যবহার তুলনামূলকভাবে দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নিম্নে বিভিন্ন জেনারেশনের Core-i প্রসেসর সম্পর্কে কিছু বিস্তারিত পার্থক্য টেবিল আকারে তুলে ধরা হ'লঃ-

Core-i প্রসেসর সম্পর্কে কিছু বিস্তারিত পার্থক্য

প্রসেসর ভার্সন কোর সংখ্যা থ্রেড ক্যাশ স্পিড (GHz) ব্যবহার প্রকৃতি
Core-i3 2–4 4–8 6–12 MB 3.5–4.5 অফিসিয়াল কাজ, ওয়েবসাইট ব্রাউজিং ইত্যাদি।
Core-i5 4–10 8–16 12–24 MB 4.0–5.2 গেমিং, মাল্টিটাস্কিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে।
Core-i7 8–12 16–24 24–33 MB 4.5–5.6 ভিডিও এডিটিং, প্রোগ্রামিং, গেমিং এর ক্ষেত্রে।
Core-i9 12–24 24–32 36 MB 5.0–6.0 হাই-এন্ড গেমিং, ডেটা সায়েন্স ইত্যাদি ক্ষেত্রে। 
আর্কিটেকচারের দিক থেকে প্রতিটি কোর একাধিক থ্রেড চালাতে পারে। বিশেষকরে প্রয়োজন অনুযায়ী স্পিড বাড়ায় বলে Cores পারফরমেন্স ঠিক থাকে। AVX, AVX2, AVX-512 ইত্যাদি প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকায় আধুনিক প্রযুক্তিতে AI ও ডেটা প্রসেসিংয়ে কার্যকরি ভূমিকা রাখছে Core-i প্রসেসর

Core-i প্রসেসর ব্যবহারে কিছু সীমাবদ্ধতা 

Core-i প্রসেসর প্রসেসর জগতের আপগ্রেড প্রযুক্তি বিধায় গ্রাফিক্স কার্ড উন্নত না হলে অনেক আগের উইন্ডোজ বিশেষকরে ২০১৮ সালের পূর্বের ভার্সনগুলো এক্ষেত্রে সাপোর্ট করতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। পিসি বা ল্যাপটপে Core-i থাকলে যদি কুলিং সিস্টেম দুর্বল হয় সেক্ষেত্রে পিসি-এর পারফরম্যান্স সঠিকভাবে পেতে অসুবিধা দেখা দিতে পারে অর্থাৎ কমে যেতে পারে। এক্ষেত্রে কুলিং সিস্টেম ভালো রাখাটা বিশেষভাবে জরুরি। আবার নতুন জেনারেশনের প্রসেসর যেমন-13th, 14th Gen  প্রসেসর দিয়ে পুরাতন H61মাদারবোর্ডে কাজ নাও করতে পারে। তাই, প্রসেসর পরিবর্তনের সাথে সাথে মাদারবোর্ড পরিবর্তন করাটাও বিশেষভাবে জরুরি। 

শেষ কথা

Core-i প্রসেসর নিয়ে যেসকল ভাবনাগুলো জন্ম দিয়েছে তার সবগুলোই আমাদের প্রযুক্তি, প্রকৃতি, সংস্কৃতি, নিউরোকেমিক্যাল এবং ভবিষ্যতের কল্পনাতে মিশে আছে। দিন দিন প্রযুক্তিতে যে আমূল পরিবর্তন আসছে যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে শিখতে হবে এবং জানতে হবে প্রযুক্তি সম্পর্কে। নতুন নতুন উদ্ভাবনীয় বিষয় সম্পর্কে এখন জ্ঞান রাখা জরুরী হয়ে পড়েছে। প্রযুক্তির বিকাশ অব্যাহত থাকলে আমাদের জীবনযাত্রা আরও সহজ হবে এবং বিশ্ব আরও সংযুক্ত হবে। আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে প্রসেসর নিয়ে নতুন চিন্তা ভাবনা, কি আছে Core-i প্রসেসরে সে সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা পাওয়া গেছে। আজকের আর্টিকেলটির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আলোকবর্ষ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুণ। প্রীতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়।

comment url