OrdinaryITPostAd

মানবদেহের হাড় ক্ষয়ের ক্ষতিকর খাবারের দিকগুলো কি কি

মানবদেহের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে হাড়ের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বিশেষকরে হাড় ক্ষয় এখন একটি জটিল সমস্যা। দেহের এই হাড়কে সমুন্নত রাখতে, হাড় ক্ষয়ের ক্ষতিকর খাবারের দিকগুলো সম্পর্কে জানতে আজকের এই বিস্তারিত আর্টিকেলটি আপনার জন্য।
দেহের কাঠামো গঠিত হয় মূলত হাড় দিয়ে। দীর্ঘদিন আপনি অনিমতান্ত্রিক খাবার গ্রহণের ফলে আপনার মনের অজান্তেই হাড় ক্ষয় রোগে পতিত হচ্ছেন। এটি এখন নিরব ঘাতক হিসেবে মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
পেজ সুচিপত্রঃহাড় গঠন মজবুত রাখার ক্ষেত্রে আমাদের দৈনিন্দিন খাবারের তালিকায় কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বিশেষকরে দেহের হাড়ের জন্য ক্ষতিকর খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম হল যথাক্রমে-লবণ বা লবণাক্ত খাবার, চিনি অথবা চিনি জাতীয় খাবার, ক্যাফেইন, কোমল পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার। এই সকল খাবার ছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত রেড মিট খাওয়া ও বিশেষকরে ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার কম গ্রহণের ফলে প্রয়িনিয়তই হাড়ের ঘনত্বকে কমিয়ে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয় ঝুঁকিতে পড়তে হয়। যে সকল খাবার আমাদের হাড়ের ক্ষতিসাধন করে থাকে তা নিম্নোক্তভাবে তুলে ধরা হলঃ-

হাড়ের স্বাস্থ্যের গুরুত্ব

হাড়ের স্বাস্থ্যের গুরুত্বের কথা চিন্তা করলে বিভিন্ন বিষয় চলে আসে। আপনার শরীরের বিভিন্ন সুস্থতার দিকগুলোর মধ্যে হাড়ের সুস্থ্যতা প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। শরীর গঠনের পাশাপাশি শারীরিক কাঠামো ধরে রাখার ক্ষেত্রেও হাড়ের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এটি আপনার শরীরকে সামগ্রিকভাবে সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে মুল ভূমিকায় উপনীত হয়। আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিকে নড়াচড়া করার এবং সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি, শক্তিশালী হাড়গুলি আমাদের জীবিত রাখে এমন পুষ্টি এবং খনিজগুলিও সঞ্চয় করে। যাদের সুস্থ হাড় নেই তাদের ব্যথা এবং ফ্র্যাকচার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, যার ফলে অন্যান্য গুরুতর শারীরিক ব্যাধি যেমন অস্টিওপোরোসিস, সীমিত গতিশীলতা এবং আরও অনেক কিছু হতে পারে।

যে সকল খাবার হাড়ের ক্ষতিসাধন করে থাকে

ক) চিনি বা চিনি জাতীয় খাবার পরিহারঃ

চিনি বা চিনি জাতীয় খাবার বেশি বেশি খেলে একটি সময় আপনার হাড় ক্ষয়ের কারণও হতে পারে। এটি আপনার শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে বাঁধা সৃষ্টি করে। বিশেষকরে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করলে দেখা যায়, এটি হাড়ের স্বাস্থ্য খারাপ করে ও প্রদাহ বাড়ায়। তাই হাড় ক্ষয় রোধে আপনাকে অবশ্যই চিনি বা চিনি জাতীয় খাবার পরিহার করাটাই শ্রেয়।

খ) লবণ বা লবণাক্ত খাবারঃ 

লবণ বা লবণাক্ত খাবার আমাদের হাড়ের ক্ষয়ের জন্য বিশেষভাবে দায়ী। বিশেষকরে ভাতের সাথে লবণ মিশিয়ে খাওয়া এবং রান্নার ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় লবণের ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলার কারণে একটা সময় দেখা যায় প্রস্রাবের রাস্তা দ্বারা শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম বের হয়ে যায় ও হাড়ের ঘনত্ব কমে যেতে শুরু করে। এইভাবে শরীরের পর্যাপ্ত ক্যালসিয়ামের অভাব দেখা দিলে হাড় ক্ষয় রোগের আবির্ভাব হয়ে থাকে। তাই, আপনাকে এই হাড় ক্ষয় রোগ থেকে সহজেই পরিত্রাণ পেতে অবশ্যই উচ্চ সোডিয়ামযুক্ত খাবার, প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার পরিহার করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিৎ।

গ) ড্রিংকস বা কোমল পানীয় সেবনঃ

অতিমাত্রায় ড্রিংকস বা কোমল পানীয় সেবনও হাড় ক্ষয়ের জন্য অন্যতম কারণ। বাজারে যেসকল ড্রিংকস বা কোমল পানীয় পাওয়া যায় তাতে অতিরিক্ত ফসফরিক অ্যাসিড থাকে। আর এই ফসফরিক অ্যাসিডের কারণে হাড়ে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম শোষণের ক্ষেত্রে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। যার কারণে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম অভাবে হাড়ের খনিজ ঘনত্ব কমে যায় ও হাড় ক্ষয় রোগ দেখা দেয়। তাই, আমরা মনের অজান্তেই এই ড্রিংকস বা কোমল পানীয় কম-বেশী সকল বয়সের মানুষকেই সেবন করতে দেখে থাকি যা আপনার হাড়ের গঠনকে ভালো রাখতে ড্রিংকস বা কোমল পানীয় সেবন থেকে সরে আসা একান্ত জরুরি।

ঘ) অতিমাত্রায় অ্যালকোহল সেবনঃ

মানবদেহের জন্য অ্যালকোহল একটি বিসাক্ত উপাদান। অতিমাত্রায় অ্যালকোহল সেবন একটি সময় আপনাকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। অ্যালকোহল যেমন শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে পাশাপাশি আপনার শরীরের হাড়ের ক্ষতির জন্যও অ্যালকোহল অনেকাংশে দায়ী। অ্যালকোহল যেমন একদিকে হাড়ে ক্যালসিয়াম শোষণে বাঁধা সৃষ্টি করে আবার অন্যদিকে শরীরে ভিটামিন ডি শোষণেও প্রতিবন্দকতা সৃষ্টি করে। তাই হাড় ক্ষয়রোধ প্রতিরোধে আপনাকে অবশ্যই অতিমাত্রায় অ্যালকোহল সেবন থেকে দূরে থাকতে হবে।

ঙ) অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণঃ

অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণেও আপনার হাড় ক্ষয়ের কারণ হতে পারে। আমরা প্রতিমধ্যেই একটু প্রশান্তির জন্য চা অথবা কপি পান করে থাকি। অনেকসময় অবসর সময়কে প্রানবন্ত করার জন্যও ঘন ঘন চা অথবা কপি পান করে থাকি। কিন্তু অতিরিক্ত চা বা কফি পান করলে শরীর থেকে ক্যালসিয়াম বেরিয়ে যেতে পারে। আর এই ক্যালসিয়াম আমাদের হাড়ের প্রধান উপাদান। তবে, সামান্য পরিমাণে চা বা কপিতে থাকা ক্যাফেইন আপনার শরীরের জন্য সমর্থন দিলেও মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফেইন পরিহার করাটাই শ্রেয়।

চ) উচ্চ-ফসফরাসযুক্ত খাবারঃ 

দৈনন্দিন খাবারের মধ্যে যেসকল খাবারে উচ্চ মাত্রার ফসফরাস রয়েছে সে সকল খাবার হাড় ক্ষয়ের জন্য অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। উচ্চ ফসফরাসযুক্ত খাবারের কারণে আমাদের শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে বাঁধা সৃষ্টি করে। তাই উচ্চ ফসফরাসযুক্ত খাবার, কার্বনেটেড পানীয়, প্রক্রিয়াকরণ খাদ্য পরিহার করতে আমাদের সচেতন থাকাটা জরুরি।

ছ) প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণঃ

দীর্ঘদিনযাবৎ প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের ফলেও হাড়ের ক্ষতির কারণও হতে পারে। প্রক্রিয়াজাত খাবারের মধ্যে রয়েছে যেমন-প্যাকেটজাত খাবার, স্ন্যাকস, সরমা, স্যান্ডুইচ অর্থাৎ বিভিন্ন প্রকার ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবার। এই সকল প্রক্রিয়াজাত খাবার পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান না থাকার কারণে এটি মানবদেহের জন্য তেমন একটা কাজে আসে না। এক গবেষণায় দেখা যায় ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়ামযুক্ত লবণ থাকে। সোডিয়ামযুক্ত লবণ আমাদের হাড় ক্ষয়ের ক্ষেত্রে অন্যতম কারণ।

জ) রেড মিট বা লাল মাংস অতিমাত্রায় খাওয়াঃ

রেড মিট বা লাল মাংস অতিমাত্রায় খাওয়ার কারণেও আমাদের হাড় ক্ষয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে। আপনি যদি অতিমাত্রায় লাল মাংস খেতে থাকেন একটি সময় আপনার ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। প্রস্রাবের মাধ্যমে আপনার শরীর থেকে ক্রমান্নয়ে ক্যালসিয়াম বেরিয়ে যেতে থাকে, যার কারণে হাড় তার চাহিদানুপাতে ক্যলসিয়ামের চাহিদা থেকে বঞ্চিত হয় এবং এক পর্যায়ে হাড় ক্ষয়ের মত রোগের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

ঝ) উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত ডায়েট কন্ট্রোলঃ

উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত ডায়েট আমাদের শরীরীর জন্য অত্যাবশ্যকীয়। তবে, উচ্চ-প্রোটিন সু-স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে বিদায় এটি কন্ট্রোল করাটাও বিশেষভাবে জরুরি। আপনি যদি কোন প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মাত্রাত্রিরিক্ত উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে থাকেন তাহলে একটা সময় দেখা যাবে এই ডায়েটের ফলে শরীর থেকে ক্যালসিয়ামের নির্গমন বেড়ে যেতে পারে। এ থেকে পরিত্রান পেতে এখনই সময় আপনার খাদ্য তালিকার কিছু আমুল পরিবর্তন আনাটা একান্ত জরুরি। এক্ষেত্রে আমাদের উচিৎ হবে চর্বি বা চর্বি বিহিন মাংস পরিহার, দুধ বা দুগ্ধজাত খাবারের ভারসাম্য এবং বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদের উৎস থেকে প্রাপ্ত প্রোটিনের সুষম গ্রহণ নিশ্চিত করন।

ঞ) অত্যধিক পরিমাণে ভিটামিন এ গ্রহণঃ

অত্যধিক পরিমাণে ভিটামিন এ গ্রহণের ফলেও আপনার হাড়ক্ষয় রোগ দেখা দিতে পারে। ভিটামিন এ জাতীয় খাদ্য আমাদের হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য হলেও এটির অত্যধিক পরিমাণে গ্রহণও আপনার হাড়ের ঘনত্বের উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষকরে, উপযুক্ত স্বাস্থ্যকর পরিপূরক খাবারের বিকল্প হিসেবে সুষম খাবার থেকেও ভিটামিন এ পাওয়া সম্ভব বলে পুষ্টিবিদগণ পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাই, আমাদের হাড়ক্ষয় রোধে ভিটামিন এ জাতীয় খাদ্যের ভারসাম্য নিশ্চিত করার দিকেও যত্নবান হওয়াটাও একান্ত জরুরি। 

এমন পুষ্টি উপাদানের অভাবই হাড়ের ক্ষতি কারণ

শরীরে মনের অজান্তে এমন কিছু পুষ্টি উপাদানের অভাব দেখা দিলে আপনি পতিত হতে পারেন হাড় ক্ষয় রোগের মতো ভয়ঙ্কর রোগে। নিম্নোক্ত মূলত এই তিন ধরণের উপদানের অভাবই হাড় ক্ষয়ের জন্য দায়ী মনে করা হয়ঃ- 
  1. ক্যালসিয়ামঃ ক্যালসিয়াম (Calcium) হল হাড়ের প্রধানত মৌলিক উপাদান। যা দুধ, দই, পনির, সবুজ শাক, বাদাম ইত্যাদি থেকে পাওয়া যায়।
  2. ভিটামিন ডিঃ ভিটামিন ডি (Vitamin D) মূলত ক্যালসিয়াম শোষণে কার্যকরী ভুমিকা রাখে। দৈনন্দিন খাবারের পাশাপাশি আপনি প্রকৃতি থেকেও এটি গ্রহণ করতে পারেন যেমন- সূর্যের কিরণ বা রৌদ্র। খাবারের মধ্যে সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ, ডিমের হলুদ কুসুম, ফর্টিফাইড জাতীয় খাবার ইত্যাদি।
  3. ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন কেঃ ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন কে (Magnesium & Vitamin K) হাড়ের মৌলিক গঠন ও মজবুত রাখার ক্ষেত্রে অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ।

হাড় ভাঙলে দ্রুত নিরাময়ের জন্য কেমন খাবার খাওয়া উচিৎ

ক) প্রথমত, হটাৎ আকর্ষিকভাবে যদি আপনার হাড় ভেঙ্গে যায় তা নিরাময়ের জন্য কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না? হাড় ভেঙ্গে গেলে প্রাকৃতিকভাবে জোড়া লাগানোর পাশাপাশি কিছু টিপস রয়েছে যা আপনাকে দ্রুত সেড়ে উঠার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। এই সময় বিশেষকরে চিনি বা চিনি জাতীয় খাদ্য পরিহার করা, ফাস্ট ফুডের প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে সড়ে আসা, অতিরিক্ত লবণ সেবন না করা, অ্যালকোহল অথবা  ক্যাফেইনযুক্ত খাদ্য পরিহার করা। এই সকল খাদ্য আপনার হাড়ে ক্যালসিয়াম শোষণে বাঁধা ও শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে। আবার এই সময় অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার ও হাইড্রোজেনেটেড তেল পরিহার করা যেতে পারে যা হাড়ের সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি প্রাপ্তিতে বাঁধা দেয়।

খ) দ্বিতীয়ত, হটাৎ যদি শরীরের হাড় ভেঙ্গে যায় তাহলে হতাশ না হয়ে ঔষধ সেবনের পাশাপাশি দৈনন্দিন খাবারের প্রতি দৃষ্টি দেয়া উচিৎ। পাশাপাশি ভাঙ্গা হাড় দ্রুত নিরাময় করতে ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার যেমন-দুধ, দই, সবুজ শাক, ভিটামিন-ডি জাতীয় খাদ্য যেমন-সূর্যের কিরণ, ডিম ও ডিমের কুসুম, সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ, ফার্টিফাইডযুক্ত খাদ্য, প্রোটিনযুক্ত খাবার, যেকোনো ভিটামিন-সি জাতীয় খাবার খাওয়ার তাগিদ দেয়া যেতে পারে। এজাতীয় খাবার আপনার শরীরের হাড়ের মধ্যে থাকা টিস্যুগুলোকে সহজেই প্রাণবন্দ রাখতে এবং শরীরে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম শোষণেও সহায়তা করে। আপনি এই সময় হাড়ের দ্রুত ভালো হয়ে উঠার ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে পারেন।

হাড়ের স্বাস্থ্যকে কী প্রভাবিত করে?

হাড়ের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে এমন অনেকগুলো কারণ রয়েছে যা আমাদের অনেকেরই অজানা। নিম্নে কি কি কারণে হাড়ের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে তার একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ আইটেম আকারে প্রদান করা হলঃ  
  • পুষ্টিগত কারণেঃ নানান পুষ্টিগত কারণে হাড়ের স্বাস্থ্যকে প্রভাবন্নিত করতে পারে। বিশেষকরে হাড়ের প্রধান পুষ্টিগত উপাদান হল ক্যালসিয়াম। তাছাড়া ভিটামিন ডি ও খাদ্যের অন্যান্য পুষ্টিগত উপাদানও হাড় গঠনের ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকীয়। ক্যালসিয়াম হল হাড়ের মৌলিক খনিজ। আর এই খনিজ উপাদান হাড়ের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
  • শারীরিক কার্যকলাপের উপর নির্ভরতাঃ আমাদের দৈহিক গঠন অনেকটাই শারীরিক কার্যকলাপের উপর নির্ভরশীল। নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম আপনাকে দিতে পারে প্রানবন্ত সহজ ও সুন্দর জীবন। নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ অথবা ব্যায়াম ধরে রাখলে একটি সময় আপনার শরীরে ওজন বহন করার সক্ষমতা, হাড়ের বৃদ্ধি ও ঘনত্ব বজায় রাখতে সহায়তা করে। শারীরিক ব্যায়ামের মধ্যে হাঁটাহাটি, দৌড়-ঝাপ, নৃত্য করা, মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ ইত্যাদি আপনার কমজোর হাড়গুলিকে সভল করতে সহযোগিতা করে।
  • বাড়তি বয়সঃ বাড়তি বয়সের কারণেও হাড়ের স্বাভাবিক ঘনত্ব কমতে শুরু করে এবং এক পর্যায়ে দেখা যায় হাড় তার শক্তি হাঁড়াতে বসে। ফলে এক সময় দেখা যায় হাড়ক্ষয় রোগ বা অস্টিওপরোসিস রোগে ধাবিত হয়। তাই, বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের প্রত্যেকেরই উচিৎ হাড়ের প্রতি যত্নবান হওয়া।
  • জেনেটিক্স এর প্রভাবঃ আমাদের অনেকেরই জেনেটিক্যালি হাড় ক্ষয় রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। বংশপরাক্রমে অনেকেই থাকেন এই হাড় ক্ষয় রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। পারিবারিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই হাড় ক্ষয় রোগটিতে কোন না কোনভাবে কেউ আক্রান্ত হয়েছেন তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্খা থেকে যায়।   
  • ইস্ট্রোজেন হরমোনঃ ইস্ট্রোজেন বা হরমোন হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট সহায়ক। ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি হরমোন হাড়ের ঘনত্বকে ধরে রখতে সহায়তা করে। হরমোনের মাত্রাকে প্রভাবন্নিত করে এমন কিছু চিকিৎসা গ্রহণ করা যাতে করে হাড়ের স্বাস্থ্যকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে।
  • দীর্ঘমেয়াদি ঔষধ সেবনঃ হরমোনের ভারসাম্যহীনতা আনয়নের জন্য আমরা দীর্ঘমেয়াদি ঔষধ সেবন করে থাকি, যা আমাদের হাড় ক্ষয়ের জন্য দায়ী। বিশেষ করে যারা লিভারের প্রতিকারে অথবা এমন কিছু ঔষধ রয়েছে যা ক্যান্সার নিরাময়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হিসেবে গ্রহণ করে থাকেন, তাদের হাড় ক্ষয়ের প্রবণতা ও হাড়ের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করার মতো ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদি ঔষধ সেবনও হাড়ের স্বাস্থ্যের ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য বিশেষভাবে দায়ী বলে এথেকে আমাদের সতর্ক থাকাটা একান্ত দরকার।  
  • অত্যধিক অ্যালকোহল ও তামাক সেবনঃ অত্যধিক অ্যালকোহল ও তামাক সেবনও হাড়ের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অন্যতম বাঁধা। অতিমাত্রায় অ্যালকোহল ও তামাকজাত পণ্য বিড়ি, সিগারেট গ্রহণেও আপনার হাড়ের উপরে খারাপ প্রভাব দেখা দিতে পারে। যা এক পর্যায়ে আপনাকে হাড় ক্ষয়ের দিকে ধাবিত করে।
  • অতিরিক্ত ওজনঃ অতিরিক্ত ওজন আপনার শরীরের হাড়কে ও হাড়ের স্বাস্থ্যকে প্রভাবন্নিত করে। মাত্রাত্রিরিক্ত ওজন যেমন শরীরের নানাবিদ জটিল রোগের সহায়ক হিসেবে কাজ করে আবার শরীরের হাড়ের জয়েন্টের উপরও চাপ সৃষ্টি করে। তাই, হাড়ের গঠন ভালো রাখতে হলে আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখাটা একান্ত জরুরি।  

স্বাস্থ্যকর হাড়ের জন্য ১৬টি খাবার

স্বাস্থ্যকর হাড় একটি মানুষের সুস্থ্যতার জন্য খুবই প্রয়োজন। আপনি অনায়েশেই তা দৈনন্দিন খাবারের তালিকা থেকে বেঁছে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার হাড়কে মজবুত করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর কিছু প্রধান খাবার রয়েছে যা আপনার জানার দরকার। নিম্নে স্বাস্থ্যকর হাড় গঠনের জন্য ১৬টি খাবার সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হলঃ-
  • সবুজ শাক ও সব্জিঃ সবুজ শাকে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম থাকে বিদায় এটি স্বাস্থ্যকর হাড় গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাছাড়া সবুজ সব্জিতেও আপনি প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম পেতে পারেন। ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ সব্জিগুলোর মধ্যে বাজারে পাওয়া যায় এমন কিছু সব্জি রয়েছে যেমন- শালগম, কলার্ড গ্রিনস, সুইস চার্ড, কেল ইত্যাদি। এই সকল সব্জিতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ভিটামিন- কে যা আপনার হাড়ের শক্তি বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় চাহিদা পুরণে সক্ষম হবে।
  • চর্বিযুক্ত মাছঃ কিছু চর্বিযুক্ত মাছ এবং বেশিরভাগ শেলফিশ আপনার হাড়কে শক্তিশালী রাখার জন্য ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য পুষ্টির সমৃদ্ধ উত্স। এই সুপারফুডগুলি শরীরে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি 12, ভিটামিন ডি এবং ওমেগা -3 ফ্যাটি অ্যাসিড সরবরাহ করে। ভিটামিন ডি হাড় এবং জয়েন্টগুলিকে শক্তিশালী করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি শরীরে ক্যালসিয়ামকে সঠিকভাবে শোষণ করতে সহায়তা করে।
  • সাইট্রাস বা ভিটামিন-সি জাতীয় ফলঃ বাজারে পুরো মৌসুমেই বিভিন্ন প্রকারের সাইট্রাস জাতীয় ফল পাওয়া যায়। বিশেষকরে লেবু, কমলালেবু ও বাতাবিলেবুর মধ্যে পর্যাপ্ত ভিটামিন-সি থাকে বিধায় এটি আপনার হাড় মজবুত রাখার ক্ষেত্রে চমৎকার উৎস হিসেবে কাজ করে। সাইট্রাস জাতীয় ফলে পর্যাপ্ত ভিটামিন-সি অন্তর্নিহিত থাকে বিধায় এটি হাড় বৃদ্ধি ও হাড়ের ক্ষয়রোধে ব্যাপক উপকারী। 
  • দুগ্ধজাত খাবার লস্সিঃ দুগ্ধজাত খাবারের মধ্যে লস্সিও হতে পারে আপনার হাড় গঠনের জন্য সহায়ক। পুষ্টিবিদরা মনে করেন এক গ্লাস লস্সিতে শুধুমাত্র ক্যালসিয়ামই বেশি নয়, এতে রয়েছে পটাসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন-বি 12 এর মতো অসংখ্য উপাদান। তাই, আপনার দৈনন্দিন  ডায়েটে যদি লস্সি অন্তর্ভুক্ত করেণ তাহলে হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতির ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
  • টোফুঃ টোপু এক ধরণের উদ্ভিদ যা আপনার স্বাস্থ্যকর হাড় পেতে সহায়ক হতে পারে। এটিকে সুপারফুড হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। আপনি এই উদ্ভিদ জাতীয় খাবার থেকে শরীরে ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম জাতীয় প্রোটিন সহজেই পেতে পারেন যা আপনার স্বাস্থ্যকর হাড়ের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।
  • বাদাম বা বাদাম জাতীয় খাদ্যঃ বাদাম বা বাদাম জাতীয় খাদ্য স্বাস্থ্যকর হাড় গঠনে উল্লেখযোগ্য উপাদান হিসেবে কাজ করে। মূলত বাদাম প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম এবং অন্যান্য পুষ্টি প্রাপ্তির উৎস। আপনার শরীরের ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটাতে প্রয়োজনে বাদাম অথবা বাদাম জাতীয় খাদ্যের উপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে পারেন। 
  • বীজের উপাদানঃ আমাদের শরীরের জন্য প্রাকৃতিক উপাদানে সমৃদ্ধ বীজ খুবই উপকারী। বীজের মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী, বিশেষ করে হাড় গঠনে। বীজের মধ্যে যেসকল উপাদান রয়েছে তন্মধ্যে ক্যালসিয়াম, ওমেগা-৩ অর্থাৎ ফ্যাটি অ্যাসিড অন্যতম যা শরীরে দ্রুত ক্যালসিয়াম নির্গমনে ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে সাহায্য করে। 
  • অ্যাভোকাডোঃ অ্যাভোকাডো বা মাখনফল মেক্সিকান ও মধ্য আমেরিকার একটি স্থানীয় উদ্ভিদ জাত। ফলটির আবরণ অনেকটাই কুমিরের গায়ের মত অমসৃণ হওয়ায় এটাকে কুমির নাশপাতি হিসেবেও অনেকে চিনে থাকে। অ্যাভোকাডো হচ্ছে উচ্চ ভিটামিন-কে সমৃদ্ধ একপ্রকার ফল যা আমাদের ক্যালসিয়াম শোষণে ও ব্যবহারে সহায়তা করে থাকে এবং হাড়ের স্বাস্থ্যকে উন্নত করে।
  • শুকনো বরইঃ স্বাস্থ্যকর হাড়ের জন্য শুকনো বরইও হতে পারে আপনার পছন্দের একাংশ। আপনার হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধিতে এবং হাড় ক্ষয়রোধে অবশ্যই দৈনন্দিন খাদ্যের পাশাপাশি শুকনো বরই চেকে নিতে পারেন। বিশেষকরে শুকনো বরই এর মধ্যে ক্যালসিয়াম ও পটাসিয়ামের উপাদানের পরিমাণ যতটুকু রয়েছে তা দিয়ে ক্ষত বা ফ্র্যাকচার প্রতিরোধে সহায়ক হয়।
  • দুধ বা দুগ্ধজাত পণ্যঃ দুধ, পনির এবং দইয়ের মতো খাবারও স্বাস্থ্যকর হাড়ের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। এই সকল খাবারে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও খনিজ যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। 
  • মাশরুমঃ বর্তমান পুষ্টি বিজ্ঞানীদের ধারণা মাশরুম হল একধরনের সুপারফুড। বর্তমান বিশ্বে মাশরুম এখন বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে মাশরুম ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এমন কিছু জাতের মাশরুম রয়েছে যেগুলো ভিটামিন-ডি ধারণ করে থাকে। সূর্যের আলোর স্পর্শ পেলে এই সকল মাশরুম ভিটামিন ডি সংরক্ষণ করার মাধ্যমে হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য অবদান রাখতে সক্ষম হয়।
  • হলুদঃ হলুদে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে কারকিউমিন যা স্বাস্থ্যকর হাড়ের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। শরীরে প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্যও হলুদের বিকল্প নেই। হলুদ বিশেষ করে আপনার শরীরে অস্টিওপরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের অবস্থা থেকে সহজেই নিরাময় দিতে পারে। 
  • গ্রিন টিঃ আমাদের মানষিক প্রশান্তি ও শরীরের পর্যাপ্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তৈরিতে গ্রিন টি এর বিকল্প নেই। বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে গ্রিন টি শরীরের প্রদাহ হ্রাস করে ও হাড়ের ঘনত্বকে ধরে রাখতে সহায়তা করে। তাই স্বাস্থ্যকর হাড়ের জন্য গ্রিন টি এর কোন বিকল্প নেই।
  • কালো মটরশুটিঃ কালো মটরশুটিতে রয়েছে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাসের মতো খনিজ উপাদান যা আমাদের হাড় গঠনে সহায়ক। মটরশুটিতে পাওয়া যায় হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী প্রোটিন। যা আমাদের হারকে স্বাস্থ্যকর হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
  • শস্যদানাঃ বাদামী রঙের চাল, কুইনো ও গমের পণ্যের মধ্যে ম্যাগনেসিয়াম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা হাড়ের স্বাস্থ্যকে সমর্থন করে।
  • ডিমের কুসুমঃ ডিমের কুসুমে রয়েছে ভিটামিন ডি এবং প্রোটিন সহ হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান। যা আপনার হাড়ের স্বাস্থ্যকর গঠনকে মজবুত করে তোলে। 

কোন পানীয় আপনার হাড় মজবুত করে?

আমাদের শরীরের অস্তিমজ্জা বা হাড়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য কত কিছুইনা করে থাকি। কিন্তু কোন পানীয় আপনার হাড় মজবুত করে সেটি জানা যেমন জরুরি তেমনি এর স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকটাও খেয়াল রাখাটা একান্ত জরুরি। হাড়ের সামগ্রিক স্বাস্থ্য বিবেচনায় এর জন্য পানীয় অপরিহার্য। মোটকথা এমন কিছু পানীয় রয়েছে যা আপনার হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। নিম্নোক্তভাবে দেখানো হল-
  • ক্যালসিয়াম জাতীয় পানীয়ঃ কিছু কিছু ফল ও ফলের রস রয়েছে যার পানীয় ক্যালসিয়াম এর ভরপুর সমাধান দিয়ে থাকে। হাড়কে করে শক্তিশালী।
  • দুধঃ প্রাকৃতিক ক্যালসিয়ামে ভরপুর ও ভিটামিন ডি তে আচ্ছাদিত হল দুধ। যা আমাদের হাড় গঠনে সহায়ক হতে পারে।
  • ফোর্টিফাইড প্ল্যান্ট দুধঃ কিছু উদ্ভিদ-ভিত্তিক দুধ রয়েছে যা আমাদের ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি দিয়ে শক্তিশালী অবস্থান নির্ণয় করে।
মোটকথা বলা চলে, একটি শক্তিশালী হাড়ের জন্য প্রয়োজন সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ এবং চিনি, লবন ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

শেষ কথাঃ

অস্তিমজ্জা বা হাড় দ্বারা গঠিত কঙ্কাল সিস্টেম আমাদের দেহের মৌলিক অঙ্গ যা আপনার অন্যান্য সিস্টেমের গঠন এবং সমর্থনকে জানান দেয়। আপনি যদি হাড়কে সুস্থ রাখতে চান তবে আপনাকে অবশ্যই একটি সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। মোটকথা হাড় আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অমুল্য সম্পদ। এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি ভালো রাখতে হলে অবশ্যই আপনাকে কিছু টিপস মনে রাখতে হবে। প্রিয় পাঠক, আশা করছি আজকের আর্টিকেলটি আপনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েছেন এবং মানবদেহের হাড় ক্ষয়ের ক্ষতিকর খাবারের দিকগুলো সম্পর্কে বিশদ জানতে পেরেছেন। হাড় সুস্থ রাখার টিপস, সঠিক পরিচর্যার অভাবে কি হতে পারে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। আশা করছি, আজকের আর্টিকেলটি আপনার হাড় ভালো রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। ভবিষ্যতে, এমন আরও স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য জানতে আমাদের ওয়েবসাইটটি বেশী বেশী করে ফলো করার অনুরোধ জানিয়ে আজকের মতো বিদায় নিলাম, ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আলোকবর্ষ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুণ। প্রীতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪