অস্টিওপোরোসিস এখন একটি নীরব ঘাতক, পরিত্রাণের উপায় জানুন
দেহের শক্তির মুল উৎস হচ্ছে হাড়। শরীরের কাঠামো ধরে রাখতে হাড়ের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। আর এই হাড় যদি কোন অবস্থাতে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয় রোগে পতিত হয় তাহলে কিভাবে তার সঠিকভাবে যত্ন নিবেন সে সম্পর্কে আমাদের জানা একান্ত জরুরি। অস্টিওপোরোসিস এখন একটি নীরব ঘাতক, এথেকে পরিত্রাণ পেতে আজকের এই বিস্তারিত আর্টিকেলটি আপনার জন্য।
দেহের কাঠামো গঠিত হয় মূলত হাড় দিয়ে। দীর্ঘদিন আপনি অনিমতান্ত্রিক খাবার গ্রহণের ফলে আপনার মনের অজান্তেই হাড় ক্ষয় রোগ শরীরে বাসা বাঁধছে, পতিত হচ্ছেন ভয়াবহ অস্টিওপোরোসিস রোগে। এটি এখন নিরব ঘাতক হিসেবে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
পেজ সুচিপত্রঃহাড়ের ক্ষয়রোধ প্রতিরোধে আমাদের দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় কিছুটা পরিবর্তন আনা একান্ত জরুরি। বিশেষকরে দেহের হাড়ের জন্য ক্ষতিকর খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম হল যথাক্রমে-লবণ বা লবণাক্ত খাবার, চিনি অথবা চিনি জাতীয় খাবার, ক্যাফেইন, কোমল পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার। এই সকল খাবার ছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত রেড মিট খাওয়া ও বিশেষকরে ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার কম গ্রহণের ফলে প্রয়িনিয়তই হাড়ের ঘনত্বকে কমিয়ে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয় ঝুঁকিতে পড়তে হয়। যে সকল খাবার আমাদের হাড়ের ক্ষতিসাধন করে থাকে তা নিম্নোক্তভাবে তুলে ধরা হলঃ-
অস্টিওপোরোসিস ঝুঁকি
অস্টিওপোরোসিস যে কখন আপনার শরীরে বাসা বেঁধেছে তা আপনার মনের অজান্তেই হয়েছে। বিশেষকরে অস্টিওপোরোসিস ঝুঁকিতে পড়তে কোন বয়স বিবেচিত হয় না। যেকোন বয়সে আপনার অস্টিওপোরোসিস হতে পারে। মূলত দুর্বল ও ছিদ্রযুক্ত হাড়কে আমরা অস্টিওপোরোসিস হয়েছে এমনটি মনে করে থাকি। নিম্নে অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি সম্পর্কে কিছু বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হল-
ক) হাড়ের ফ্র্যাকচার
অস্টিওপোরোসিস রোগে আক্রান্ত রোগীদের হাড়ের ফ্র্যাকচার একটি জটিল সমস্যা। এক্ষেত্রে শরীরের মধ্যে দুর্বল প্রকৃতির হাড়গুলো ফ্র্যাকচারের ঝুঁকিতে পড়ে। শরীরের মধ্যে সংবেদনশীল জায়গাগুলোর মধ্যে নিতম্ব, মেরুদণ্ডের হাড় ও কব্জির গোঁড়ায় অস্টিওপোরোসিস হওয়ার ঝুঁকি বেশী থাকে। অনেকসময় দেখা যায়, শরীরে নানাবিদ ফলস ফ্র্যাকচার হাড়ের শক্তিকে দিনে দিনে আপস করতে সক্ষম হয়ে থাকে।
খ) দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থার গুণগত মান কমতে থাকা
সাধারণত আমরা যখন কখনও হাড় ভাঙার মতো পরিস্থিতিতে পড়ি তখন স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকটাই ব্যাহত হতে থাকে। এইরূপ অনাকাঙ্খিতভাবে হটাৎ হাড় ভেঙ্গে গেলে বা হাড়ের গোঁড়ায় ফ্র্যাকচার হলে দৈনন্দিন কাজের গতিতে ভাটা পড়ে। আপনি যখনই জীবনের কোন না কোন সময়ে হাড় ভাঙ্গার মতো পরিস্থিতে পড়েন তা যদি দ্রুত না সাড়ে তাহলে অস্টিওপোরোসিস রোগে আক্রান্ত হতে সময় লাগবেনা। অনেকসময় অতিরিক্ত ওজন ও কাঁচা লবণ বেশী খাওয়ার ফলেও এমন সমস্যায় উপনীত হতে সময় লাগবেনা।
গ) দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ব্যাথা অনুভূত হওয়া
দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ব্যাথা অনুভূত হওয়ার ফলেও আপনাকে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে। হাড়ক্ষয়জনিত ব্যাথা, হাড়ের ফ্র্যাকচার, মেরুদণ্ড ব্যাকে যাওয়া, পিঠে ব্যাথা ও বিশেষ করে ভার্টেব্রাল ফ্র্যাকচারজনিত সমস্যা আপনার অস্টিওপোরোসিস ঝুঁকির প্রধান কারণ হতে পারে।
ঘ) মেরুদণ্ডের বিকৃতি সাধন
অস্টিওপোরোসিস শরীরে দেখা দিলে আপনার মেরুদণ্ডের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্খা দেখা দিতে পারে। বিশেষকরে অস্টিওপোরোসিস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মেরুদণ্ডের হাড় কুঁকড়ে যাওয়া বা সংকোচিত হতে থাকে। শরীরের হাড়ের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাথা অনুভূত হলে আপনাকে এক্ষেত্রে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াটা অত্যাবশ্যকীয়।
ঙ) হাসপাতালে ভর্তি ও সার্জারি
হটাৎ দুর্ঘটনার কারণে আপনার শরীরের হাড় যদি ভেঙ্গে যায় তখন হাসপাতালে ভর্তি করা ও অস্রপচার করা ছাড়া আর কোন উপায়ন্তর থাকে না। বিশেষ করে ভাঙ্গা জায়গায় ফ্র্যাকচার এর উপক্রম হলে এইরূপ সার্জারির প্রয়োজন হয়। সার্জারির পরে দীর্ঘদিন ঘা না শুকালেও অনেকসময় অস্টিওপোরোসিস এর ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে। বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্যালসিয়ামের অভাবে এমনটি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
চ) হাড়ের ঘনত্ব হ্রাসের ক্ষেত্রে
অস্টিওপোরোসিস এমন একটি রোগ যা আপনার শরীরের হাড়ের ঘনত্বকে কমিয়ে দিতে পারে। হাড়কে অনেকটাই ভঙ্গুর করে তোলে এবং হাড় ফ্র্যাকচারের সম্ভাব্য ঝুঁকিতে পড়ে থাকে। তাই হাড়ের ঘনত্ব হ্রাসে অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধী খাবার খাওয়াটা একান্ত জরুরি।
কি কি খাবার খেলে অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করা যায়
অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে আমরা সকলেই কম বেশী চেষ্টা করে থাকি যে কি কি খাবার খেলে অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করা যায়। দৈনন্দিন খাবারের মধ্যে কিছু কিছু খাবার রয়েছে যার মধ্যে অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধনীয় উপাদান বিদ্যমান থাকে। কিছু পুষ্টিকর খাবার রয়েছে যেগুলো আমরা কোন না কোনভাবে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকি। কিন্তু হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখার ক্ষেত্রে কোন খাবার বেশি কার্যকরী তা আমরা অনেকেই জানি না। নিম্নে কিছু অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধী খাবার সম্পর্কে কিছু ধারণা দেয়া হল জা আপনাদের হাড়ের যত্নে সহায়ক হতে পারে।
১। অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে বেনানা অর্থাৎ কলা
অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে বেনানা অর্থাৎ কলা খুবই কার্যকরী। বিশেষকরে কলার মধ্যে যে পরিমান পটাসিয়াম উপাদান অন্তর্নিহিত থাকে তা মানবদেহের হাড় গঠনে বিশেষভাবে কার্যকরী। হাড়ের ঘনত্ব ধরে রাখতে কলার বিকল্প নেই। তাই আপনি প্রতিদিন নিয়ম মেনে কলা খেতে পারেন। এতে করে হাড়ের কিছুটা হলেও সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
২। অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে কমলালেবুর স্বাদ
অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে বাজারে যে সকল ফল-ফলাদি পাওয়া যায় তার মধ্যে কমলালেবু আপনি বেঁছে নিতে পারেন। স্বাদের দিক থেকে কমলালেবুর স্বাদ অতুলনীয়। মাঝ বয়সী বাচ্চাদের পছন্দের ফলের মধ্যে কমলালেবু একটি। কমলালেবুর মধ্যে যে পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায় তা আমাদের শরীরের কোলাজেন গঠন ও হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে কার্যকরী ভুমিকা রাখে।
৩। অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি অথবা রাস্পবেরি
বাজারে পাওয়া যায় স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি অথবা রাস্পবেরি যার মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অর্থাৎ ভিটামিন-সি এর পরিমাণ মাত্রাত্রিক্ত থাকে যা আমাদের হাড় গঠনের ক্ষেত্রে ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ফলপ্রসূ।
৪। অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ভিটামিন কে সমৃদ্ধ খাবার
অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ভিটামিন কে সমৃদ্ধ খাবার বেশ কার্যকরী। ভিটামিন-কে জাতীয় খাবার বিশেষকরে হাড়ের গঠনের সহিত জড়িত। ভিটামিন-কে জাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে অস্টিওক্যালসিন জাতীয় উপাদান যা ক্যালসিয়ামকে হাড়ের মধ্যে জমাট বাঁধতে সহযোগিতা করে। এর কারণে যেমন একদিকে হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়তা করে অন্যদিকে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি থেকেও পরিত্রান পাওয়া যায়। ভিটামিন-কে দুই ধরনের হয়ে থাকে, যেমন-১। ভিটামিন-কে১ এর মধ্যে থাকা ফাইলোকুইনোন উপাদান মূলত উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে আসে, ২। ভিটামিন-কে২ এর মধ্যে থাকা মেনাকুইনোন উপাদান যা প্রাণিজ উৎস হতে অর্থাৎ ফারমেন্টেড খাবার থেকে পাওয়া যায়। ভিটামিন-কে১ উপাদান সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে, লেটুসপাতা, তুলসী পাতা, শাক-সবজি, পালং শাক, ব্রকলি, মশলা, ধনিয়া পাতা যা হাড়ের ভিতরে ক্যালসিয়াম ধরে রাখতে ও হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে অবদান রাখে। ভিটামিন-কে২ উপাদান সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে, সয়াবিন তৈল, অলিভ তৈল, ক্যানোলা তৈল, ডিমের কুসুম, মাংস, চিজ, ফারমেন্টেড খাবার, দই এর মাধ্যমে শরীরের হাড়ে ভিটামিন কে২ সরবরাহ করে এবং হাড়ের বিপাকে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে। ভিটামিন কে ও ভিটামিন ডি একই সাথে হাড় গঠনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়। তাই হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য উভয় প্রকার ভিটামিন আমাদের একই সাথে গ্রহণ জরুরি।
সুস্থ্যতার জন্য ডায়েট
আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাবাসে ডায়েট অত্যান্ত জরুরি। সাধারণত নিয়ম মাফিক খাদ্য গ্রহণ করাকেই আমরা ডায়েট বলে থাকি। আর এখানে অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে আপনার খাবারের ডায়েটকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। হাড়ের প্রধান খাবার হল ক্যালসিয়াম যা হাড়ের গঠনের জন্য মুল চাবিকাকাঠি হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ, হাড়ের মৌলিক গঠনের জন্য ক্যালসিয়াম অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। তাছাড়া হাড় মজবুত ও ভালো রাখতে হলে আরও কিছু বিষয়ের উপরে দৃষ্টিপাত করতে হয়। নিম্নে হাড়ের ভবিষ্যৎ শ্রীবৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে কিছু বাস্তবিক উপাদান সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হল যা আপনি ডায়েটে হিসেবেও বেঁছে নিতে পারেন।
ক) ক্যালসিয়াম
হাড়ের মৌলিক উপাদান হচ্ছে ক্যালসিয়াম। আর এই ক্যালসিয়াম উপাদান আপনার হাড়ের মধ্যে পর্যাপ্ত না থাকলে একটি সময় হাড় ভঙ্গুর ও হাড় ক্ষয় রোগের দিকে আপনাকে ধাবিত করতে পারে। ক্যালসিয়াম উপাদান আমাদের হাড়ের ঘনত্বকে ঠিক রাখে। এই উপাদানটির কারণে আমাদের হাড়ের ঘনত্বের আনুমানিক সত্বর ভাগ পূরণ হয়।
খ) ম্যাগনেশিয়াম
ম্যাগনেশিয়াম জাতীয় উপাদান হাড়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে। এই উপাদানটি মূলত হাড়ের ক্যালসিয়ামের বিপাক প্রক্রিয়াকে সমুন্নত রাখে। তাছাড়া ভিটামিন ডি এর চাহিদা পূরণে শরীরকে উপযুক্ত করতে ম্যাগনেশিয়ামের বিকল্প নেই।
গ) ফসফরাস
ফসফরাসও হাড় গঠনে অত্যাবশ্যকীয়। সুস্থ হাড়ের জন্য ফসফরাস উপাদান কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সহায়তা করে। ক্যালসিয়ামের সাথে সাথে মিশ্রিত হয়ে হাইড্রক্সি এপেটাইট গঠন করতঃ মূলত হাড়ের ম্যাট্রিক্স উৎপাদনে সহায়তা করে। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে ক্যালসিয়াম বেশি পরিমাণে থাকে। পাতাযুক্ত শাকসবজি ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। রেড মিট বা লাল মাংস খেতে অনেকেই ভয় পান। তবে লাল মাংসে প্রচুর ফসফরাস ও জিংক থাকে। যাঁদের লাল মাংসে সমস্যা নেই, তাঁরা পরিমিত খেতে পারেন। মাছ ও মাছের তেলে বিভিন্ন রকম পুষ্টি উপাদান থাকে। মাছ ও মাছের কাঁটা থাকে ফসফরাস।
ঘ) ভিটামিন-ডি
ভিটামিন-ডি উপাদান আমাদের হাড় ভালো রাখতে প্রয়োজনীয় উপাদান হিসেবে কাজ করে। অন্ত্রনালি থেকে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ করার জন্য ভিটামিন-ডি ভূমিকা পালন করে। এতে করে শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকলে এক পর্যায়ে হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। শরীরে ভিটামিন-ডি এর অভাব দেখা দিলে প্রাথমিকভাবে হাড়ের বেশ কিছু রোগ যেমন-অস্টিওপোরোসিস, অস্টিওম্যালাসিয়া, শিশুদের ক্ষেত্রে রিকেটস নামক রোগ শরীরে দেখা দিতে পারে। তাই, হাড় ভালো ও সুস্থ্য রাখতে ভিটামিন গ্রহণের কোন বিকল্প নেই। আপনি সকালের রোদ থেকেও ভিটামিন-ডি পেতে পারেন। আবার মাছের তেলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন-ডি ও স্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরল বিদ্যমান থাকে, যা আমাদের দৈহিক হাড় গঠনে বেশ উপকারী। শস্যজাত খাবারের মধ্যে রয়েছে আটা, বার্লি ইত্যাদি।
জিংক
হাড় মজবুত করতে জিংক খুবই অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। আপনার হাড়ের অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে জিংক খুবই কার্যকরী। বিশেষ করে হাড়ের কোষগুলোর গঠনে জিংক কাজ করে। তাছাড়া হাড়ের ক্ষত তৈরি হওয়া থেকে হাড়কে সুরক্ষিত রাখতে এবং হাড়ের কোষগুলোকে আগের অবস্থায় নিয়ে যেতে ও হাড়ের কোলাজেন তৈরিতে জিংক ভূমিকা রাখে।
আরও পড়ুনঃ মায়ের দুধ মহান আল্লাহর অপার নেয়ামত
ভিটামিন-কে গ্রহণে ওয়ারফারিন ঔষধ
শরীরে ভিটামিন-কে গ্রহণে ওয়ারফারিন ঔষধ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে থাকে। এটি মানবদেহে ভিটামিন-কে গ্রহণের একটি ক্ষতিকারক দিক। এক্ষেত্রে যারা দীর্ঘদিন যাবত ওয়ারফারিন ঔষধ অর্থাৎ রক্ত পাতলা করার ঔষধ সেবন করে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে অবশ্যই ভিটামিন কে গ্রহণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
শেষ কথা
অস্টিওপোরোসিস রোগ এখন একটি আতঙ্কের নাম। সময়মত এই রোগের চিকিৎসা না দিতে পারলে সম্প্রতি অস্টিওপোরোসিস এখন দেহের জন্য ক্ষতির কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ অস্টিওপোরোসিস থেকে বাঁচতে আমাদের কিছু খাদ্যবাসের প্রতি দৃষ্টি রাখতে হবে। প্রিয় পাঠক, আশা করছি আজকের আর্টিকেলটি আপনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েছেন এবং মানবদেহের হাড়ের জন্য ক্ষতিকারক রোগ অস্টিওপোরোসিস সম্পর্কে বিস্তারিত পরিত্রানের উপায় জানতে পেরেছেন। আশা করছি, আজকের আর্টিকেলটি আপনার সু-স্বাস্থ্য গঠনের জন্য সহায়ক হতে পারে। ভবিষ্যতে, এমন আরও স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আজকের মতো বিদায় নিলাম, ধন্যবাদ।



আলোকবর্ষ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুণ। প্রীতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়।
comment url