ইলেকট্রিক চুলা কোনটি ভাল, চেনার সহজ কৌশল কি

আধুনিক সভ্যতার যুগে গ্যাসের চুলার পাশাপাশি ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহারে আমরা কম-বেশী সকলেই অভ্যস্থ হয়ে পড়েছি। কিছুটা গ্যাসের ব্যবহার কমাতে রান্নায় ইলেকট্রিক চুলার ব্যবহার এখন আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রিয় পাঠক, ইলেকট্রিক চুলা কোনটি ভাল, চেনার সহজ কৌশল কি সে সম্পর্কে জানতে ও জানাতে আজকের বিস্তারিত আর্টিকেলটি আপনার জন্য।
পেজ সূচিপত্রঃমার্কেটে আধুনিক অনেক ইলেকট্রিক চুলা এখন হরহামেশাই পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ইলেকট্রিক চুলা কেনার আগে আমাদেরকে অবশ্যই দেখে নিতে হবে, যে চুলাটিতে দ্রুত রান্না হয় অর্থাৎ রান্নার ক্ষেত্রে সময় প্রয়োজন হয় কম। তাই, এক্ষেত্রে ইলেকট্রিক চুলা কেনার আগে জানতে হবে কোন চুলাটি ভাল, চেনার সহজ কৌশল কি সে সম্পর্কে চলুন জেনে নেই।

ইলেকট্রিক চুলা কোনটি ভাল, চেনার সহজ কৌশল কি

আমাদের মধ্যে প্রায়শই একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, মার্কেটে গেলে সবচেয়ে ভালো জিনিষটি দাম দিয়ে কিনে থাকি। আসলে অনেক কিছু দামের সাথে সম্পর্কযুক্ত থাকলেও যে জিনিষের যে কাজ সেটি নিশ্চিত হয়ে দাম দিয়ে কেনা উচিৎ। তবে, এখন বৈদ্যুতিক জিনিষপত্রে দামের তারতম্য ভেদে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ইনভারটার সামগ্রী খুব দেখতে পাওয়া যায়। নিজের বাজেটের মধ্যে রেখে কিছুটা যদি বিদ্যুত সাশ্রয়ী হয়ে থাকে তাহলে তেমন ইলেকট্রনিক্স জিনিষপত্রের প্রতি মানুষের ঝোক অত্যধিক হয়ে থাকে। আবার ইলেকট্রিক চুলার ক্ষেত্রে চুলার ধরন, রান্নায় পর্যাপ্ত স্পিড পাওয়া যাবে কিনা, পাত্র দ্রুত গরম হবে কি-না, সার্বিক নিরাপত্তায় কোন প্রকার লিকেজ আছে কি-না ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হচ্ছে কি-না সবকয়টি বিষয় সম্পর্কে অবহিত হয়েই ইলেকট্রিক চুলা কেনা উচিৎ।

ইলেকট্রিক চুলা কোনটি ভাল

রান্নার চুলার ব্যবহার হিসেবে আমাদের মধ্যে অনেকেই গ্যাসের চুলার পাশাপাশি ইলেকট্রিক চুলার প্রয়োজন মনে করে থাকি। ইমারজেন্সি রান্নার জন্য অনেকক্ষেত্রে হটাৎ প্রয়োজন পড়ে ইলেকট্রিক চুলা যা বিকল্প হিসেবে রান্নার ক্ষেত্রে কাজে লাগে। মার্কেটে দুই প্রকৃতির ইলেকট্রিক চুলা বিক্রয় হতে দেখা যায় একটি হল ইনডাকশন আর অন্যটি হল ইনফ্রারেড। নিম্নে এই দুই ধরণের চুলা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেয়া হল_

ক) ইনডাকশন চুলা

সাধারণত ইনডাকশন চুলায় থাকে একধরণের তড়িৎ চৌম্বক যার মধ্যমে রান্নার পাত্রকে চৌম্বক শক্তির মাধ্যমে আকর্ষণ করে এবং চুলার উপরে রক্ষিত পাত্রকে গরম হতে সাহায্য করে। কিন্তু মনে রাখতে হবে এজাতীয় চুলার জন্য সুনির্দিষ্ট পাত্র ব্যবহার করতে হয়। মূলত চৌম্বক আকর্ষণ করে এমন উপাদানে মিশ্রিত পাত্রই ইন্ডাকশন চুলার জন্য প্রযোজ্য হয়। তাই, বাজার থেকে সঠিক মানের ইনডাকশন চুলা পেতে হলে সঠিক পাত্র চুলার মধ্যে দিয়ে টেস্ট করেই কেনা ভাল। 
চিত্রঃ সংগৃহীত।

খ) ইনফ্রারেড চুলা

ইনফ্রারেড চুলা ইনডাকশন চুলা থেকে একটু আলাদা হয়ে থাকে। বিশেষকরে ইনফ্রারেড চুলার জন্য আলাদা করে পাত্র ক্রয় কয়ার প্রয়োজন পড়ে না। রান্নার ক্ষেত্রে যেকোনো প্রকারের পাত্রই এই চুলায় আপনি ব্যবহার করতে পারবেন। এই চুলার বিশেষত্ব হল এটি বিদ্যুতের সহায়তায় চুলার উপরিভাগের কাঁচের ঠিক তলের অংশে একটি হিটিং উপাদান অর্থাৎ উত্তপ্ত করার জন্য হ্যালোজেন বা নিক্রোম কয়েল লাগানো থাকে। যখনই ইলেকট্রিক সংযোগ দেয়া হয়ে থাকে তখন হ্যালোজেন বা নিক্রোম কয়েল উত্তপ্ত হয়ে ইনফ্রারেড রশ্মি অর্থাৎ তাপ চুলার পাত্রের নিচে ছড়িয়ে পড়ে। এইভাবে তাপ প্রথমে কাঁচের অংশে এরপর চুলার উপরে পাত্রের তলায় তাপ লেগে পাত্র গরম হতে থাকে। তবে, ইনফ্রারেড চুলা ইনডাকশন চুলার ন্যায় দ্রুত গরম হতে সময় নিলেও এর তাপের কার্যকারিতা দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী থাকে।
চিত্রঃ সংগৃহীত।

ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলার বিদ্যমান পার্থক্য

চুলার বাজারে ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলার মধ্যে কিছু বিদ্যমান পার্থক্য রয়েছে যা জেনে রাখলে আপনার শখের ইলেকট্রিক চুলা ক্রয় করার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও কাজে আসবে। নিম্নে ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলার মধ্যে যে সকল বিদ্যমান পার্থক্য রয়েছে তা ছক আকারে প্রদর্শিত হল।
বিষয় ভিত্তিক ইনডাকশন চুলা ইনফ্রারেড চুলা
চুলা গরম হওয়া ইনডাকশন চুলায় কেবল রান্নার পাত্রটি গরম হয়। কিন্তু ইনফ্রারেড চুলায় চুলাটিও গরম হয়।
রান্নার সময় অল্প/বেশী ইন্ডাকশন চুলায় পাত্র দ্রুত গরম হয়। ফলে রান্নায় কম সময় লাগে। ইনফ্রারেড চুলা গরম হতে সময় নেয় বলে রান্না করতে সময় বেশী লেগে যায়।
চুলা বন্ধের সময় কম/বেশি ইন্ডাকশন চুলায় পাত্র দ্রুত গরম হয় ও দ্রুত ঠাণ্ডা হয়ে থাকে।  ইনফ্রারেড চুলায় রান্নার পর চুলা ঠান্ডা হতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী দ্রুত গরম হয় বিধায় ইনডাকশন চুলায় ইনফ্রারেডের তুলনায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী গরম হতে সময় নেয় বলে ইনফ্রারেড চুলা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নয়।

ব্যবহারে সতর্কতা 

ইনডাকশন অথবা ইনফ্রারেড যে চুলাই আপনি ব্যবহার করে থাকেন তা যদি সঠিকভাবে ব্যবহার না হয় আবার অযত্ন ও অবহেলার কারণেও চুলা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হতে পারে। তাই, চুলা ব্যবহারের সময় কিছুটা যত্নবান হতে পারলে চুলার দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা তেমন একটা কঠিন কাজ নয়। বিশেষ করে ইনফ্রারেড চুলার ক্ষেত্রে ওপরের কাচটি আনুমানিক দুই থেকে তিন বছর ভালো চলতে পারে, এরপর কাঁচটি পরিবর্তনের প্রয়াজন হতে পারে। বলাবাহল্য যে, সচরাচর ইলেকট্রিক চুলার পার্টস বাজারে অপ্রতুল থাকায় যার কারণে ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা মেনে চলাটা একান্ত জরুরি। রান্নার সময় অনাকাঙ্খিতভাবে যদি চুলার উপরিভাগে কিছু মসলা অথবা পানি পড়ে যায় তাহলে সাথে সাথে তা পরিস্কার শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলতে হবে। এক্ষেত্রে সচেতনতার জন্য ইলেকট্রিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে চুলা ঠান্ডা হওয়ার পর কাজটি করাই শ্রেয়। ইনফ্রারেড চুলা দীর্ঘক্ষণ গরম থাকার কারণে এর গরম তাপ থাকে কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ। চুলা ব্যবহার করে থাকলে ব্যবহারের পর অন্তত আধা ঘণ্টা বিরতি দেওয়া চুলার জন্য ভালো। পাশাপাশি চুলার নিচে থাকা কুলিং ফ্যানটি ময়লা থাকলেও চুলার গরম বাতাস বের হতে প্রতিবন্দকতা সৃষ্টি করে, যার কারণে মাঝে মধ্যে কুলিং ফ্যান পরিস্কার করা ইলেকট্রিক চুলার জন্য ভালো।

শেষ কথা

যেভাবে দিনে দিনে বাড়ছে জ্বালানী গ্যাসের দাম। চাহিদার তুলনায় গ্যাস পর্যাপ্ত না থাকায় সরবরাহে দেখা দিয়েছে ঘাটতি। তাই গ্যাসের চুলার বিকল্প হিসেবে এখন সকলেই ইলেকট্রিক চুলার উপর ঝুকছেন। ভাল ইলেকট্রিক চুলা কোনটি তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন। তাইতো প্রিয় পাঠক, আমরা আজকের এই বিস্তারিত আর্টিকেলটির মাধ্যমে ইলেকট্রিক চুলা কোনটি ভাল, চেনার সহজ কৌশল কি সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারলাম। আজকের আর্টিকেলটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভবিষ্যতে এমন আরও টিপস নিয়ে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আজকের মতো বিদায় নিলাম।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আলোকবর্ষ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুণ। প্রীতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়।

comment url