ঘরে দই বসাবেন যেভাবে, দই বানাতে কি লাগে

স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকার মধ্যে বলতে গেলে দই এর যুগোপযোগী সুনাম রয়েছে। ছোট-বড় সকলেরই অত্যন্ত পছন্দের একটি খাবার এই দই। আমরা সাধারণত দই বাজার থকে কিনে খেতে পছন্দ করে থাকি। কিন্তু নিজে ঘরে বসে দই বানানোর আগ্রহ দেখতে পাওয়া যায় অনেকের মধ্যে। প্রিয় পাঠক, ঘরে দই বসাবেন যেভাবে, দই বানাতে কি লাগে সে সম্পর্কে জানতে ও জানাতে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য।         
পেজ সূচিপত্রঃউপমহাদেশের দক্ষিণ এশিয় অঞ্চলগুলোতে দই খাওয়ার প্রবণতা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে বাসায়, অফিস-আদালতে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পেয়েছে। আপ্যায়ন বা পরিবেষণের ক্ষেত্রে যেমন দইমুখ জনপ্রিয় খাবার, আবার কাউকে উপহার সামগ্রী হিসেবে দেওয়ার ক্ষেত্রেও দই-এর জুড়ি কম নেই। চলুন জেনে নেই, ঘরে দই বসাবেন যেভাবে, দই বানাতে কি লাগে বিস্তারিত।

১। ঘরে দই বসাবেন যেভাবে, দই বানাতে কি লাগে

দই-এর প্রকারভেদ বিবেচনায় অঞ্চলভেদে এক এক অঞ্চলের দই এক এক রকমের হয়ে থাকে। কিছু দই হয় মিষ্টি আবার কিছু হয় টক। কিছু আবার টকমিষ্টি মিশ্রিত দইও বাজারে উঠে। দইয়ের স্বাদের ভিন্নতা থাকলেও দই বসানোর প্রক্রিয়াটি প্রায় একই ধরণের হয়ে থাকে। ঘরে দই বসানোর রীতি-রেওয়াজ এখনও গ্রামে-গঞ্জে অনেক জায়গায় নজরে পড়ে। বাজারে হরেকরকমের দই এর দেখা পাওয়া গেলেও বিশেষকরে ঘরে বানানো দই-এর স্বাদ তুলনামূলকভাবে বাজারের দই এর তুলনায় কিছুটা আলাদা মনে হয়ে থাকে।   

ক) ঘরে দই বসাবেন যেভাবে

অনেকেই আমাদের কাছে জানতে চান, কিভাবে ঘরে দই বসানো যায়, সহজ পদ্ধতিটি কি। আসলে ঝটপট দই বসানোর কিছু সহজ পদ্ধতি রয়েছে, তা হলো প্রথমে একটি গভীর পাত্র নিন এবং তা ভালোভাবে ধুয়ে নিন। দই বানাতে যেসকল উপকরণ প্রয়োজন হয় তন্মধ্যে দুধ, টকদই, চিনি সাথে রাখুন। পরবর্তীতে দুধ একটি ব্যবহারযোগ্য পাত্রে ভালোভাবে আগুণের জ্বাল দিয়ে তা ফুটিয়ে নিন। ডিম গরম হয়ে গেলে তা হালকা কুসুম কুসুম থাকা অবস্থায় নির্ধারিত মাটির পাত্রে নামিয়ে রাখুন। এরপর তন্মধ্যে চিনি, টক দই পরিমাণমতো ১–২ চামচ গরম করা দই এর মধ্যে দিয়ে তা ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মেশানো হয়ে গেলে দই এর হাড়িটি কাপড় অথবা ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন। ঘরের উষ্ণ প্রকৃতির জায়গায় অন্তত দইকে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা বসিয়ে রেখে দিন। দই জমে গেলে আপনি তা ফ্রিজে রেখে দিন। ব্যাস হয়ে গেল ঘরোয়া পদ্ধিতে দই তৈরির প্রক্রিয়া।

খ) দই বানাতে কি লাগে

টাটকা পাউডার দুধঃ বাজারে বিভিন্ন মানের ও ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত টাটকা গুড়া দুধ পাওয়া যায়। দই বসানোর জন্য এক্ষেত্রে পাউডার দুধ ভালো উপযোগী হতে পারে।

টক দইঃ দই বসাতে আপনি বাজারে পাওয়া যায় এমন বিভিন্ন পরিমাণের টক দই রয়েছে যা আপনি ক্রয় করে কাজে লাগাতে পারেন। আবার আগে থেকে ফ্রিজে রাখা বাসি দইও আপনি এক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন। কিছু দই এমনও পাওয়া যায় যা টক-মিষ্টি মিশ্রিত দই নামে পরিচিত। আপনি ইচ্ছা করলে সেই দই দিয়েও দই বসিয়ে উপকার পেতে পারেন। 

দইয়ের উপযুক্ত পাত্র নির্ণয়ঃ বিশেষকরে দই বানাতে উপযুক্ত পাত্র নির্বাচন একান্ত আবশ্যক। ঘরোয়া পদ্ধতিতে দই বানাতে যেয়ে আমাদের অনেকসময় সঠিক পাত্র নির্বাচনে ভুল হয়ে যায়, অর্থাৎ প্লাস্টিক, কাঁচের অথবা ষ্টীল জাতীয় পাত্রতে দই বসিয়ে থাকি। কিন্তু এজাতীয় পাত্রের চেয়ে মাটির পাত্রে দই বসালে দই স্বাদে ও গন্ধে হয় অতুলনীয়।
দই ঢাকতে পরিস্কার কাপড় অথবা ঢাকনার ব্যবহারঃ দই বসানো হয়ে গেলে দই ঢাকতে শুষ্ক পরিস্কার কাপড় অথবা মাটির ঢাকনা সংগ্রহ করে রাখুন। মাটির ঢাকনা বিশেষ করে দই এর গুনাগুণ অক্ষুন্ন রাখতে সহায়তা করে।

২। দইয়ের স্বাস্থ্যগত দিক

অঞ্চলভেদে দইয়ের ধরন অনুযায়ী যেসকল দই পাওয়া যায়, তন্মধ্যে-টক, মিষ্টি, টকমিষ্টি দই এই তিন প্রকারের দই বহুলভাবে পরিচিত। আমরা সচরাচর দই বাজার থেকে কিনে খেতে পছন্দ করে থাকি। কিন্তু ঘরোয়া পদ্ধতিতে দই বসিয়ে খেলে তার যেমন পুষ্টিগুণ ঠিক থাকে পাশাপাশি পরিবেষণ ও খাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রশংসিত হওয়া যায়। বিশেষকরে দই আমাদের মানমদেহের হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করা সহ এর মধ্যে থাকা প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে যেমন বৃদ্ধি করে পাশাপাশি ত্বক ও চুলের জন্য বেশ কার্যকরী।

৩। ঘরোয়া পদ্ধতিতে দই বসাতে কি মেনে চলতে হয়

ঘরোয়া পদ্ধতিতে দই বসাতে কিছু নিয়ম রয়েছে যা আমাদেরকে মেনে চলতে হয়। দই ভালোভাবে না জমে থাকলে তার কারণ হিসেবে বুঝে নিতে হবে দুধ বেশি পরিমাণে গরম কিংবা ঠান্ডা হয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, ঘরোয়া পদ্ধতিতে দই বসানোর পর দই পাতলা হয়ে যায়, সেটি কি কারণে হয় তা জানা দরকার। দই যদি পাতলা হয় তাহলে বুঝে নিবেন দুধে কোন না কোনভাবে পানির পরিমাণ বেশি অথবা স্টার্টার কম রয়েছে, তাই পানি আর স্টার্টার দই এর ওজন বুঝে কম-বেশী মিশানো ভালো। আবার দুধে সামান্য পরিমাণে চিনি মিশালেও দই ঘন হয়ে থাকে। ঘরোয়াভাবে দই বসাতে যেয়ে অনেকসময় দই টক হতেও দেখা যাচ্ছে। এইরূপ পরিস্থিতে পড়লে আপনার দই বসানোর পুরো শ্রমটিই বৃথা হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে দই বেশী সময় ধরে বসিয়ে না রেখে দই জমে গেলে তা সাথে সাথে উঠিয়ে নিন। ঘরোয়াভাবে দই বসাতে গিয়ে আপনি মাটির পাত্র নির্বাচনে কখনই ভুল করবে না, কারণ মাটির পাত্রে দই দ্রুত জমে এবং দই এর গুনাগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে, যার ফলে সকল মহলে প্রশংসিত হওয়া যায়। বিশেষকরে উষ্ণ জায়গায় দই বসালেও দই দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমাট বাঁধে।

শেষ কথা

এখন শুধু গ্রাম নয়, শহরাঞ্চলেও ঘরোয়া পরিবেশে দই বসানো একটি ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘরে বসানো দইকে এখন এটি জীবিকা নির্বাহের উৎস অর্থাৎ উপার্জনের উৎস হিসেবেও অনেকেই এটিকে দেখছেন। ঘরোয়া পদ্ধতিতে দই বসিয়ে এটি যেমন একদিকে স্বাস্থ্যকর, অন্যদিকে ঐতিহ্যের দিক থেকেও এটি সকলের রুচির মনে জায়গা করে নিয়েছে। প্রিয় পাঠক, আমরা আজকের এই বিস্তারিত আর্টিকেলটির মাধ্যমে ঘরে দই বসাবেন যেভাবে, দই বানাতে কি লাগে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারলাম। আজকের আর্টিকেলটির শুরু থেকে শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভবিষ্যতে এমন আরও টিপস নিয়ে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আজকের মতো বিদায় নিলাম। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আলোকবর্ষ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুণ। প্রীতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়।

comment url