OrdinaryITPostAd

পেটে হটাৎ কৃমি হলে লক্ষণীয় দিকগুলো কি জেনে নিন

যেকোন বয়সেই আমাদের শরীরে কৃমির সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। কৃমি হলে তাৎক্ষণিক কি করবেন তা অনেকেই ভেবে পান না। বিশেষকরে ছোট বাচ্চাদের কৃমি হলে আমরা অভিভাবকরা খুব চিন্তায় পড়ে যাই। তাই, পেটে হটাৎ কৃমি হলে লক্ষণীয় দিকগুলো কি সে সম্পর্কে ধারণা দিতে আজকের বিস্তারিত আর্টিকেলটি আপনার জন্য।
দেহের অভ্যন্তরে কৃমির যে আবির্ভাব হয় তা মূলত অপরিস্কার বা অপরিচ্ছন্ন জীবন ব্যবস্থা হেকেই সৃষ্ট। মূলত খাবার গ্রহণের সময় হাত জিবানুমক্ত না করার ফলে জীবাণু অন্ত্রে গিয়ে কৃমির উৎপাদনে সহায়তা করে। বিশেষকরে শীতকালীন মৌসুম শরীরে কৃমির প্রজননের মৌসুম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, পৃথিবীতে আনুমানিক ২৪০ কোটি মানুষ কৃমির সমস্যায় আক্রান্ত। তথ্য মতে, দক্ষিণ এশিয়া ভিত্তিক দেশগুলোতে এটি একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।
পেজ সূচীপত্রঃসুতরাং, একটি বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেল যে, কৃমি মূলত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, জীবনযাপন ও অনিয়মতান্ত্রিক খাদ্যাভ্যাসের কারণে, অপরিষ্কার খাবার গ্রহণ, দূষিত পানি পান করা, নোংরা পরিবেশে থাকা, খাবারের পূর্বে হাত না ধোয়া, যত্রতত্র খালি পায়ে হাঁটা ইত্যাদি কারণে হয়ে থাকে। মানবদেহের অন্ত্রের পরজীবী হিসেবে এটি আমাদের শরীর থেকে পুষ্টি শোষণ করে জীবনধারণ করে থাকে। এটি সাধারণত শিশুদের আক্রান্ত হতে বেশি দেখা যায়। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হতে সঙ্খা থেকে যায়।

কৃমি বলতে কি বুঝায়, কৃমির প্রকারভেদ ও কৃমি কেন হয়?

কৃমি বলতে কি বুঝায়

কৃমি বলতে আমরা সাধারণত বুঝে থাকি যা দেহের অন্ত্রে বসবাস করে একধরনের পরজীবী ও নির্ভরশীল প্রাণী যা আমাদের শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শোষণ করে জীবন ধারণ করে। একজন ব্যক্তি বা প্রাণীর পাকস্থলীর নিম্নাংশ থেকে দীর্ঘ নল প্রবাহিত হয়, যা দ্বারা খাবার হজম প্রক্রিয়ার লক্ষ্যে খাদ্য যাতায়াত করে থাকে। মানুষের গ্রহণকৃত খাদ্যসামগ্রি দীর্ঘসময় ধরে অন্ত্রে অবস্থান করার ফলে কৃমি সেই সকল খাদ্যসামগ্রি থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি সঞ্ছয় করে। এইভাবেই কৃমির জীবন ব্যবস্থা চলতে থাকে। এদের নিজেদের খাদ্য তৈরি করার ক্ষমতা না থাকায় পরনির্ভরশীল হয়েই সারাজিবন চলতে হয়। 

কৃমির প্রকারভেদ

প্রকারভেদের দিক থেকে কৃমিকে ৫(পাঁচ)টি প্রজাতিতে ভাগ করা যায়। 
(১) গোলকৃমি;
(২) হুককৃমি;
(৩) ফিতা কৃমি;
(৪) সূক্ষ্মকৃমি বা পিনওয়ার্ম;
(৫) হুইপকৃমি;
সূক্ষ্মকৃমি অর্থাৎ থ্রেডওয়ার্ম বা পিনওয়ার্ম-এর মতো কিছু কৃমি রয়েছে যাদের ডিম এতটাই সূক্ষ্ম যে তা খালি চোখে দেখতে পাওয়া যায় না। এ জাতীয় কৃমি বিশেষ করে বাতাসের মাধ্যমেও মানুষকে সংক্রমিত করতে সক্ষম। চিকিৎসকের মতে, এমন কিছু কৃমি রয়েছে যেগুলো শরীরের অন্য অংশেতেও ছড়িয়ে যেতে পারে। 

কৃমি কেন হয়?

অপরিস্কার-অপরিচ্ছন্ন ও শ্যাথশ্যাথে পরিবেশ এবং অপরিস্কার চলা ফেরাই কৃমি হওয়ার জন্য দায়ী। অস্বাস্থ্যকর মল ত্যাগ করলেও আপনার কৃমি হতে পারে। গ্রামাঞ্চলে বিশেষকরে এখনও অনেক স্থানে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মল ত্যাগ করতে দেখা যায়। এটিও কৃমি হওয়ার প্রধান অন্তরায়। নিম্নে কৃমি হওয়ার কিছু উল্লেখযোগ্য কারণ দেখানো হল-

ক) অপরিষ্কার খাদ্য ও পানি গ্রহণঃ 

শরীরে কৃমির প্রাদুর্ভাবের প্রধান কারণ হল অপরিষ্কার খাদ্য ও পানি গ্রহণ। দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার খাদ্য ও পানিয় গ্রহণের ফলে আপনার অজান্তেই কৃমির সমস্যা দেখা দেয়। তাই, বাজার থেকে আনা ফল, শাকসবজি ভালো করে ধুয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।    

খ) ভালোভাবে হাত পরিষ্কার না করাঃ 

খাদ্য গ্রহণের আগে অথবা পরে এমনকি মল ত্যাগের পরে হাত না ধোয়া শরীরে কৃমির সংক্রমণ ও বংশবৃদ্ধির কারণ। ভালোভাবে হাত না ধুলে হাতের ময়লা থেকেই কৃমির ডিম পাড়ার উপক্রম হয় এবং ডিম ফেটে কৃমি শরীরে প্রবেশ করে এবং বংশবিস্তার করে থাকে।

গ) খাদ্য কাঁচা বা অল্প সিদ্ধ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাঃ 

খাদ্য কাঁচা বা অল্প সিদ্ধ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার দরুন শরীরে দেখা দেয় কৃমির সঙ্ক্রমণ। বিশেষ করে বাজার থেকে আনা কাঁচা মাছ-মাংস থেকেও কৃমি শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এক্ষেত্রে আপনাকে রানা-বান্নার ক্ষেত্রে মাছ-মাংসকে ভালো করে ধুয়ে সিদ্ধ করে এরপর খাওয়াটাই উত্তম।

ঘ) শ্যাতশ্যাতে নোংরা পরিবেশে বসবাসঃ

শ্যাতশ্যাতে নোংরা পরিবেশে বসবাসও কৃমি হওয়ার সূত্রপাত। যারজন্য বসবাসের ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশ বেঁছে নেয়াটাই উত্তম। অপরিচ্ছন্ন বসবাসের জায়গা, দুর্গন্ধযুক্ত টয়লেট এর সংস্পর্শে থাকলেও কৃমি ছড়াতে পারে।

ঙ) মাটি অথবা মেজেতে খালি পায়ে হাঁটাঃ 

মাটি অথবা মেজেতে খালি পায়ে হাঁটলেও কৃমি হতে পারে। কৃমির ধরণ অনুযায়ী আপনি হুককৃমিতে আক্রান্ত হতে পারেন। হুককৃমি পায়ের মাধ্যমে শরীরে অনুপ্রবেশ করে থাকে। গ্রামাঞ্চলে বিশেষ করে ছোট ও মধ্যবয়সী সকলেই এই কৃমিতে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। হুক্ক্রিমি থেকে পরিত্রান পেতে আপনাকে অবশ্যই স্যান্ডেল পরিধান করে মাটিতে হাটার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিৎ।

চ) গৃহপালিত পশু ও পাখির সংস্পর্শে থাকার ফলেঃ 

গ্রামে-গঞ্জে আমরা কম-বেশি সকলেই গৃহপালিত পশু ও পাখির সংস্পর্শে থাকি। দৈনিক নিয়ম করে গৃহপালিত পশু ও পাখিকে খাবার খাওয়ানো থেকে শুরু করে তাদের গোসল করানোর কাজে তাদের সংস্পর্শে জেতে হয়। এতে মানুষের শরীরে তাদের মাধ্যমেও কৃমি শরীরে আপনার মনের অজান্তেই শরীরে প্রবেশ করেছে। এক্ষেত্রে শরীরে পর্যাপ্ত প্রটেকশন ইউজ করাটাই স্রেয়। 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কৃমির উদ্ভাবিত সমস্যা

বাংলাদেশ একটি ঋতু বিবর্জিত দেশ হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে সুপরিচিত। এখানে কখনও শীতকাল, কখনও ফ্লাল্গুন, গ্রীষ্মকাল, শরৎকাল, হেমন্তকাল ও কখনোবা বসন্তকাল। বিশেষকরে শীতকালে কৃমির প্রাদুর্ভাব ছোট-বড় সকলেরই হতে দেখা যায়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কৃমির সমস্যা জটিল থেকে জতিলতর হচ্ছে। এই দেশে কৃমি একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ জনদুর্ভোগে পরিণত হতে প্রায় সমেই পরিলক্ষিত হতে দেখা যায়। বিশেষ পরিস্থিতে শিশুরা কৃমি রোগে আক্রান্ত হতে বেশী দেখা যায়। গ্রামাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশে প্রেক্ষাপট কৃমি সমস্যার কারণগুলো বিস্তারিত তুলে ধরা হ'ল-

১। সামাজিক প্রেক্ষাপটে

সামাজিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে কৃমি আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা খুবই লক্ষণীয়। বিশেষ করে এখানকার শিক্ষার্থীরা কৃমিতে আক্রান্ত হলে তাদের শিক্ষার মনোযোগ বিনষ্ট হতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা যার কারণে কর্মক্ষমতা হাড়াতে বসে। মুষ্টিমেয় জনগণ এমন পরিস্থিতে পড়লে সামগ্রিক সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় ব্যাহত হওয়ার আশঙ্খা দেখা দেয়।  গ্রামীণ এলাকায় অপুষ্টি ও রক্তশূন্যতার অন্যতম কারণ হলো কৃমি।  

২। স্বাস্থ্যগত প্রেক্ষাপটে  

সামাজিক প্রেক্ষাপটের ন্যায় স্বাস্থ্যগত প্রেক্ষাপটও বাংলাদেশে কৃমির সংক্রমনের জন্য দায়ী। অনেকেই কৃমির সমস্যায় ভোগলেও অবহেলা করে থাকেন। দীর্ঘদিন যাবৎ এভাবে অন্ত্রে কৃমি থাকার কারণে শরীরে দেখা দেয় রক্তশূন্যতা, অপুষ্টি জনিত সমস্যা, ওজন হ্রাস পাওয়া এমনকি মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে বাঁধা এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। বিশেষকরে শিশুদের স্বাস্থ্যের উপরে ব্যাপকভাবে প্রভাব পড়ে। গ্রামাঞ্চলে শিশুদের অপুষ্টি এবং রক্তশূন্যতার অন্যতম কারণ হলো কৃমিতে আক্রান্ত হওয়া।  

৩। কৃমির সঙ্ক্রমণের হাড়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর তথ্য মতে, দক্ষিণ এশিয়া ভিত্তিক দেশগুলোতে কৃমির সংক্রমণ একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। বাংলাদেশেও তুলনামুলকভাবে ছোট ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে কৃমির সংক্রমণের হার বেশি পাওয়া যায়। এইরূপ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার কৃমি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি হিসেবে NATIONAL DEWORMING PROGRAM চালু করেছে, যেখানে স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত কৃমিনাশক ঔষধ প্রদান করা হয়ে থাকে।

৪। প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি

বাংলাদেশে সরকারিভাবে প্রতিরোধমূলক নানা কর্মসূচির মধ্যে স্কুলে স্কুলে স্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকা কেন্দ্রিক স্যানিটেশন ও পয়নিস্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা সহ বিশুদ্ধ পানি সরবহারেরও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। সরকারের নানাবিদ গৃহীত কর্মসূচির মধ্যেও এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলোরও মাধ্যমেও কৃমিনাশক ট্যাবলেট সরবরাহ ও বিতরণ কার্যক্রম চলমান আছে। 

শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে কৃমির প্রকোপ

তথ্য মতে দক্ষিণ এশিয়া ভিত্তিক দেশগুলোতে কৃমির সঙ্ক্রমণ বেশি দেখতে পাওয়া যায়। আবহাওয়া ভেদে এই অঞ্চলগুলোতে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের ক্ষেত্রেই কৃমির প্রকোপ দেখা দেয়। কিন্তু শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার হাড় সবচেয়ে বেশি দেখা যায় তার কারণ হল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অপরিস্কার চলা ফেরা।   

শিশুদের মধ্যে কৃমির প্রকোপ

বিশেষভাবে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার কারণে তাদের ঘন ঘন কৃমির সঙ্ক্রমণে পড়তে হয়। লক্ষণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-পেটে ব্যথা অনুভূত, ক্ষুধামন্দা ভাব, বমি ভাব, পাতলা বা তরল পায়খানা, ওজন কমে যাওয়া, শরীরের চাইতে পেটের উচ্চতা সামনের দিকে ফুলে থাকা, পায়ুপথে চুলকানি। অনেকসময় কৃমির তিব্রতা বেশি দেখা দিলে কৃমি শিশুর নাক ও মুখ দিয়ে বের হবার উপক্রম হতে পারে, এমনকি কৃমি শ্বাসনালিতেও প্রবেশ করতে পারে যা শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণে শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশেও বাধা সৃষ্টি হয়।  

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে কৃমির প্রকোপ  

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে কৃমির সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে কম। তাছাড়া অপরিচ্ছন্ন জীবন ব্যবস্থায় যারা অভ্যস্থ তাদের ক্ষেত্রেও এমন কৃমি হওয়ার প্রকোপ দেখা দিতে পারে। লক্ষণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-পেট ব্যথা, অস্বস্তি অনুভূত হওয়া, শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়া, কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়া ও দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টি। বিশেষকরে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে কৃমির সংক্রমণের ফলে অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা ও কর্মক্ষমতার উপর বড় প্রভাব ফেলে। (বিশেষ করে হুককৃমির কারণে

বয়সভেদে কৃমির তুলনামূলক বিশ্লেষণ  

বিষয়বস্তুশিশুদের মধ্যেপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে
সংক্রমণের হারবেশিতুলনামূলকভাবে কম
লক্ষণীয় দিকপেটে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, চুলকানি, ওজন হ্রাসপেটে ব্যথা, রক্তশূন্যতা, কর্মক্ষমতা হ্রাস
জটিলতাশ্বাসনালিতে প্রবেশ, বৃদ্ধি ব্যাহতদীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টি, কর্মক্ষমতা হ্রাস
সামাজিক প্রভাবলেখাপড়ায় মনোযোগ কমতে থাকাকার্যক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতায় বাঁধা

শরীরে হঠাৎ কৃমি হলে লক্ষণ কি

শরীরে হঠাৎ কৃমি হলে আপনার চিন্তিত হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। প্রাথমিকভাবে আপনার পেটে ব্যথা অনুভূত হতে পারে, বমি ভাব আসতে পারে, ক্ষুধা চলে যেতে পারে, ওজন কমতে থাকা ও শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দিলে বুঝবেন শরীরে কৃমি বাসা বেঁধেছে।

জটিল পরিস্থিতি ও গুরুতর অবস্থা

জটিল পরিস্থিতি ও গুরুতর অবস্থার মধ্যে যে সকল কারণ পরিলক্ষিত হয় তার মধ্যে অন্ত্রে বাঁধা সৃষ্টি, নাক ও মুখ দিয়ে কৃমি বের হওয়া, শরীরে একপর্যায়ে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়া ইত্যাদি। আবার শরীরে কৃমি দেখা দিলে বাচ্ছাদের মানসিক অস্থিরতা ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

শরীরে কৃমি হওয়ার মৌলিক কারণ

শরীরে কৃমি হওয়ার মৌলিক কারণগুলোর মধ্যে বেশ কিছু কারণ রয়েছে যেমন-অপরিষ্কার খাবার গ্রহণ, যত্রতত্র পানি খাওয়া, নোংরা পরিবেশে থাকা, খাবার খাওয়ার আগে হাত না ধোয়া, মাটি অথবা মেজেতে খালি পায়ে হাঁটা, গৃহপালিত পশু-পাখির সংস্পর্শে যাওয়া। তাই, কৃমি প্রতিরোধে আমাদেরকে এইসব বিষয় মেনে খেয়াল করে চলা উচিৎ। 

কৃমি শনাক্তকরণের দিক

কৃমি শনাক্তকরণের দিকের কথা চিন্তা করলে আপনাকে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লক্ষণগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া উচিৎ। সাধারণত এক্ষেত্রে মল পরীক্ষা ও রক্ত পরীক্ষা করাই প্রাথমিক ডায়াগনস্টিক টেস্ট হিসেবে আপনি গ্রহণ করতে পারেন।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নির্ণয়

কৃমির প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নির্ণয় করতে আপনাকে অবশ্যই নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা পাশাপাশি টাটকা খাবার রান্না করা, বিশুদ্ধ পানি পান করা, শিশুদের নখ কেটে ছোট রাখা এবং জাতীয় কৃমি নিরাময় শীর্ষক জনসচেতনতামুলক  কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করা। 

শরীরে কৃমি ঢোকার অভিনব কৌশল 

শরীরে কৃমি ঢোকার অভিনব কিছু কৌশল রয়েছে যা অনেকেরই অজানা। বিশেষ করে দূষিত খাবার ও পানি গ্রহণ, অপরিষ্কার হাতে খাবার গ্রহণ, মাটি বা সংক্রমিত মল-মূত্রের দ্বারা কৃমির ডিম বা লার্ভা শরীরে প্রবেশ করা। চিকিৎসকের মতে, খোলা পায়ে হাঁটা বা অপরিস্কার-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে চলাফেরা করার ফলেও ত্বকের মাধ্যমে কৃমি শরীরে ঢুকে যেতে পারে। তাছাড়া দুধ ভালোভাবে জাল না দিয়ে খাওয়া, সবজি ভালোভাবে না ধুয়ে রান্না করা, অপরিষ্কার পানিতে গোসল করা এমনকি পোষা প্রাণীর সংস্পর্শে থাকলেও আপনার শরীরে কৃমির সংক্রমণ দেখা দিতে হতে পারে।

কৃমি হলে শরীরে যে ক্ষতি হয়

অন্ত্রে প্রবেশ করে কৃমি শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণ করে নেয়। ফলে রক্তাল্পতা, দুর্বলতা, ওজন কমে যাওয়া, হজমের সমস্যা, পেটব্যথা, বমিভাব ও চুলকানির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা না নিলে কৃমির সংখ্যা বেড়ে গিয়ে মারাত্মক জটিলতাও সৃষ্টি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু কৃমি যকৃত ও ফুসফুসে সিস্ট বা গুটি তৈরি করতে পারে। ফুসফুসে পৌঁছালে নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা এবং মস্তিষ্কে পৌঁছালে গুরুতর স্নায়বিক সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হয়।

শেষ কথা

বর্তমান প্রেক্ষাপটে কৃমি মূলত একটি জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সমস্যা বলে সকল ক্ষেত্রেই পরিগণিত হয়। বিশেষ করে কৃমি মূলত আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় কমলমতি শিশুদের বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আজকের শিশুই আগামীর ভবিষ্যৎ। তাই শিশুর যত্ন নেয়ার পাশাপাশি বড়দের ক্ষেত্রেও কৃমির যে প্রাদুর্ভাব তা পরিত্রাণের সহজ উপায় এবং পেটে হটাৎ কৃমি হলে লক্ষণীয় দিকগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত পরিত্রানের উপায় জানতে পেরেছেন। আশা করছি, আজকের আর্টিকেলটি আপনার সু-স্বাস্থ্য গঠনের জন্য সহায়ক হতে পারে। ভবিষ্যতে, এমন আরও স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আজকের মতো বিদায় নিলাম, ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আলোকবর্ষ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুণ। প্রীতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪