হলুদের পানি শরীরের জন্য কি উপকার, তৈরি করার কৌশল জানুন

রান্নার চির চেনা উপকরণ হল হলুদ। হলুদ ব্যতীত রান্নার কথা যেমন চিন্তা করা যায় না, আবার রান্নার পাশাপাশি হলুদ অথবা হলুদের জল আমাদের সু-স্বাস্থের জন্যও খুবই উপকারি। আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে হলুদের পানি শরীরের জন্য কি উপকার, তৈরি করার কৌশল সম্পর্কে সম্মুখ ধারণা দেয়ার চেষ্টা করবো যাতে আপনার স্বাস্থ্য গঠনে কার্যকরী হতে পারে।
পেজ সুচিপত্রঃআমরা যারা কিছুটা স্বাস্থ্য সচেতন তাদেরকে খাদ্য গ্রহণে ও ডায়েটের ক্ষেত্রে অনেকটাই নিয়ম-নীতির উপরে চলতে হয়। হলুদ পানির উপকারিতা পেতে অনেকেই আছেন ডায়েটে হলুদের পানি রাখেন। নিম্নে হলুদের পানি শরীরের জন্য কি উপকার, তৈরি করার কৌশল সম্পর্কে আলোকপাত করা হ'ল।

হলুদের পানি শরীরের জন্য কি উপকার

সাধারণত শরীরচর্চার ক্ষেত্রে আমাদেরকে কিছু নিয়ম অনুসরণ করে চলতে হয়। ডায়েটের জন্য প্রাকৃতিক নির্যাস মিশ্রিত পানীয় খাওয়া একটি শরীরচর্চারই অংশ। যদি সেই পানীয়টি খুব সহজেই ঘরোয়া পদ্ধতিতে করা যায় তাহলে কেমন হয়। হলুদের পানি আমাদের শরীরের জন্য কি কি উপকারে আসে বিস্তারিত তুলে ধরা হল- 

ক) অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে

হলুদের পানি মূলত মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে থাকে। প্রতি গ্রাম হলুদে যে পরিমাণে কারকিউমিন নামীয় উপাদান রয়েছে, তা আমাদের শরীরের প্রদাহকে কমাতে বিশেষভাবে কার্যকরী। এই যৌগটির বিশেষ কার্যকারিতার মধ্যে, এটি যেমন শরীরের ফ্রি র‍্যাডিকেলগুলোকে সহজেই নিষ্ক্রিয় করে। আবার শরীরের মধ্যে এমন কিছু অণু রয়েছে যেগুলো কালবিবর্তনে আমাদের কোষের ক্ষতি সাধন করে, সেই সমস্ত অণুকে নিস্ক্রিয় করতে কারকিউমিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

খ) পানির চাহিদা পূরণে হলুদ

সুস্থ থাকতে আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়া প্রয়োজন। আবার তাৎক্ষণিক পানির চাহিদা পূরণে আমাদের প্রয়োজন কিছু এমন পানীয় পান করা যা আমাদের দেহকে দ্রুত প্রশান্তি দেয়। এক্ষেত্রে হলুদ মিশ্রিত পানিই হতে পারে আপনার জন্য উপকারী উৎস। শরীরের ক্লান্তি দূর করতে, লিভার সুস্থ রাখতে এবং ত্বকের গঠনসহ নানাবিদ উপকারে শরীরে পানির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তাই, যদি নিয়মিত হলুদ মিশ্রিত পানি খেতে পারেন তাহলে একটি সময় আপনার পানি খাওয়ার চাহিদা পূরণ করতে অর্থাৎ পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করার প্রবণতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

গ) শরীরের প্রদাহ হ্রাসে হলুদ কার্যকরী

শরীরের প্রদাহ কমাতে আমরা কতোইনা চেষ্টা করে থাকি। কিন্তু হলুদের মধ্যে রয়েছে কারকিউমিন জাতীয় উপাদান, যা শরীরের মধ্যে নীরবে তৈরি হওয়া প্রদাহ হ্রাসে সহায়তা করে। তাই, হলুদের তৈরি করা পানীয় নিয়মিত খেতে পারলে আপনার দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ যেমন-হার্টের রোগ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিস রোগের প্রদাহ কমাতে কাজ করবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ডায়েটের ক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্টরি হিসেবেও বেশী মাত্রার কারকিউমিন ব্যবহার করা হয়। তবে, হলুদের রসের মধ্যে থাকা বিদ্যমান কারকিউমিনের তীব্রতা ওতটা শক্তিশালী হিসেবে কাজ না করলেও মানবদেহের জন্য তা উপকারী উৎস হতে পারে।

ঘ) ব্যথা নিরশনেও হলুদ কার্যকরী

শরীরের ব্যথা নিরাময়ের জন্য আমরা কতইনা ব্যথানাশক ঔষধ সেবন করি। কিন্তু ব্যথানাশক ঔষধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে যা একটি সময় আমাদের শরীরের ইউমিনিটি দুর্বল করতে থাকে। আবার গবেষণায় উঠে এসেছে যে, অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন চিকিৎসা দ্বারা আমাদের শরীরের হৃৎপিণ্ড ও তার আশপাশের অঙ্গগুলোকে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থেকে সুরুক্ষা দেয়। কিছু গবেষণায় এমনও দেখা গেছে যে, হলুদের মধ্যে থাকা কারকিউমিন যেমন-বাতব্যথা, অস্টিওআর্থারাইটিস এর মতো রোগের লক্ষণও উন্নত করতে সক্ষম। সম্প্রতি বাচ মাই হাসপাতালের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, পালসড ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স অ্যাবলেশন একটি নতুন চিকিৎসা ব্যবস্থা, যা অনেকটাই জটিলতা কমিয়ে দেখে দেখে মায়োকার্ডিয়াল টিস্যুকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম হয়েছে। 

ঙ) হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে হলুদ পানি

শরীরের হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে হলুদ পানি বিশেষভাবে কার্যকরী। গবেষণালব্দ থেকে জানা যায়, হলুদের পানির মধ্যে যে পরিমাণে কারকিউমিন থাকে তা অন্ত্রের প্রদাহ কমাতে ও শরীরকে একপ্রকার স্বাস্থ্যকর মাইক্রোবায়োম হিসেবে ধরে রাখতে সহায়তা করে। আবার হলুদ মিশ্রিত পানি আপনি যদি নিয়মিত গ্রহণ করতে পারেন তাহলে আপনার হজম প্রক্রিয়াকে ভালো রাখার ক্ষেত্রে ও কুষ্ঠকাঠিন্য থেকেও অনেকটা নিরাপদ থাকতে পারেন। বিগত বছরের আনুমানিক ঠিক এই সময়ে স্থূলকার প্রকৃতির মহিলাদের উপরে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, হলুদে থাকা উচ্চ মাত্রার কারকিউমিন স্থূলকার মহিলাদের বুকজ্বালা থেকে শুরু করে কোষ্ঠকাঠিন্যের উপসর্গ থেকেও পরিত্রাণ পেতে সহায়তা করেছে। তবে, এক্ষেত্রে যারা পেটের সমস্যায় ভুগেন তারা হলুদ পানি পান করার ক্ষেত্রে খানিকটা বিড়ম্বনায় পড়তে পারেন।

চ) হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষা দিতে হলুদ পানি

প্রাকৃতিক নির্যাস সেবনের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের সুরুক্ষা এটি সুদূর প্রাচীনকাল থেকে চলে এসেছে। সচরাচর দেখা যায়, কারকিউমিন ভারসাম্যপূর্ণ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অর্থাৎ রক্তনালীর স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করে থাকে। আবার বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এটিও উঠে এসেছে যে, হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে বিশেষ করে হলুদের মধ্যে থাকা কারফিউন যা শরীরের খারাপ কোলেস্টরেল ও ট্রাইগ্লিসারিন এর মাত্রা কমাতে সহায়তা করে থাকে।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে হলুদ পানি তৈরি করার কৌশল

ঘরোয়া পদ্ধতিতে হলুদ পানি তৈরি করার কিছু কৌশল রয়েছে যা জানলে আপনি নিজেও ঘরে বসে হলুদ পানি তৈরি করে নিতে পারেন। প্রথমে, ২৪০ মি.লি. পানিতে একটি হলুদ মিহি করে অথবা ১ থেকে ২ চা চামুচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। সাথে কারকিউমিনের শোষণ বৃদ্ধি করতে তাতে সামান্য পরিমাণে গোলমরিচ যুক্ত করতে পারেন। যদি হলুদের গন্ধ নাকে লাগে সেক্ষেত্রে পানির সাথে খানিকটা লেবুর রস, মধু অথবা ক্যালোরিবিহীন পঞ্জ মিষ্টি মিশিয়ে খেতে পারেন। স্বাদ বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য খানিকটা আদা রাখুন, ব্যাশ হয়ে হলুদের তৈরি সরবত পানীয়।

মাত্রাতিরিক্ত হলুদ পানি খেলে কি ক্ষতি

যেকোন প্রাকৃতিক নির্যাস দিয়ে সরবত যদিও সাস্থের জন্য উপকারে আসে, কিন্তু তা যদি মাত্রাত্রিক্ত সেবন করা হয় সেক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই, হলুদ পানি খাওয়ার ক্ষেত্রেও সেই বিষয়গুলো মেনে সেবন করা উচিৎ। বিশেষ করে স্বল্প পরিমাণে খেলে কোন খাবারই তা ক্ষতির কারণ হয় না। এক্ষেত্রে হলুদের তৈরি সরবত পানি খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই তা অত্যধিক খাওয়া থেকে বিরত থাকুন, বেশী পরিমাণে খেলে অনেকসময় পেটের জন্য পীড়াদায়ক হতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে এটি যেন কোনভাবেই অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট জাতীয় মেডিসিনের সাথে মিশিয়ে না খাওয়া হয়, এতে করে আপনার শরীরে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। অনেকসময় অত্যধিক পরিমাণে এর সেবন পিত্তথলির সমস্যাও বাড়িয়ে দিতে পারে। আবার গর্ভবতী মায়েদের প্রাত্যহিক হলুদের পানি সেবনের ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়, প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতঃ তা সেবন করাই শ্রেয়।

শেষ কথা

স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে হলুদের পানি একটি উপকারী পন্থা হতে পারে, তা যদি নিয়মতান্ত্রিক সেবন করা যায়। একটি স্বাস্থ্যকর জীবন ব্যবস্থায় আপনি চাইলে এটিকে ডায়েট হিসেবেও সংযুক্ত করতে পারেন। কিন্তু প্রাকৃতিক নির্যাস হিসেবে গ্রহণ করা গেলেও এটিই সকল ক্ষেত্রেই যে সমাধান দিতে পারে তা মনে করা কখনই যুক্তিযুক্ত হতে পারে না। আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে আমরা হলুদের পানির উপকারিতা ও তৈরির কৌশল সম্পর্কিত বিষয়ে কিছুটা হলেও জানাতে পেড়েছি। আজকের আর্টিকেলটির আদ্যপান্ত থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে সময় দেয়ার জন্য এবং ভবিষ্যতে আমাদের সাইটে বেশী বেশী করে প্রবেশ করার আহবান, ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আজকের মতো বিদায় নিলাম।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আলোকবর্ষ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুণ। প্রীতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়।

comment url