ডিম সিদ্ধ কখন খাবেন, সময়মত না খেলে কি ক্ষতি

একটি স্বাস্থ্যকর জীবন ব্যবস্থার জন্য দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় ডিম রাখা অপরিহার্য। ডিমের মধ্যে যে পরিমাণে ভিটামিন থাকে তা আমাদের দেহের ভিটামিনের চাহিদা পূরণে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। ডিমকে বিভিন্নভাবে যেমন-সিদ্ধ, পোঁচ, ভাজি ও রান্না করে আবার খাবারের মিশ্রণের উপকরণ হিসেবেও আমরা গ্রহণ করে থাকি। কিন্তু তন্মধ্যে সিদ্ধ ডিম খেলে তা কখন খাবেন, সময়মত না খেলে কি ক্ষতি হতে পারে জানতে এবং জানাতে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য।
পেজ সূচিপত্রঃস্বাস্থ্যকর প্রতিটি খাবারেরই বিশেষ গুনাগুন রয়েছে। ডিম স্বাস্থ্যকর খাবারেরই একটি অংশ। চিকিৎসকদের পরামর্শ মতে, প্রতিদিন একটি করে ডিম সিদ্ধ অথবা পোঁচ করে খেলে সারা দিনের ক্লান্তি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। তবে, এক্ষেত্রে সিদ্ধ ডিম শরীরের জন্য দ্রুত এফেক্টিভ। কিন্তু, আপনি সিদ্ধ করা ডিম কখন খাবেন, সময় মত না খেলে আপনার শরীরের কি ক্ষতি হয় তা জানা দরকার। নিম্নে ডিম সিদ্ধ কখন খাবেন, সময়মত না খেলে কি ক্ষতি হয় সে সম্পর্কে চলুন বিস্তারিত জেনে নেই।

ডিম সিদ্ধ কখন খাবেন, সময়মত না খেলে কি ক্ষতি

ডিম সিদ্ধ ছোট-বড় সকলেরই কার না পছন্দ। হটাৎ ঘরে কোন অতিথি আসলে পরিবেশনের জন্য ডিম সিদ্ধ খুবই আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। আবার যে কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে খাবারের ম্যানুতে ডিম সিদ্ধ এখন প্রধান খাদ্য তালিকায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু সিদ্ধ করা ডিম কখন খাবেন, সময়মত না খেলে কি ক্ষতি হতে পারে নিম্নে বিস্তারিত আলোকপাত করা হল-

ক) দুই ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধ ডিম খাওয়া

যেকোন খাবারেরই কিছু পুষ্টি উপাদান রয়েছে। পুষ্টি উপাদানগুলো মূলত কিছু সময়ের জন্য ভালো থাকে। সঠিক সময়ে খাবারের এই পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরে না গেলে দেরিতে গেলে তার আর কার্যকারিতা থাকেনা। তেমনি ডিমের ক্ষেত্রেও তাই। সাধারণত দুই ঘণ্টার মধ্যেই সিদ্ধ করা ডিম খেয়ে নিলেই তা থেকে আর ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি হতে পারে না। খালি চোখে ব্যাকটেরিয়ার জীবাণু দেখা যায় না বলে ডিমের বাহ্যিক তেমন একটা পরিবর্তন চোখে পড়ে না। যার কারণে আমরা জীবাণুযুক্ত ডিম খেয়ে ফেলি অনায়াশেই। এটি একটি সময় শারীরিক অসুস্থ্যতার কারণ হিসেবে দেখা দেয়। দীর্ঘক্ষণ আপনি যদি সিদ্ধ ডিম ফেলে রাখেন এক্ষেত্রে, আপনার উচিৎ হবে ডিমের খোসা না ছেড়া। কারণ ডিমের খোসা রাখলে দুটি উপকার পাওয়া যায়, একটি হল ডিমের পুষ্টি গুণ যেমন ঠিক থাকে পাশাপাশি ডিম ব্যাকটেরিয়াজনিত জীবাণুতে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পায়। তাই, ঠিক খাওয়ার আগ মুহূর্তে ডিম খাওয়াই উত্তম। 

খ) আবহাওয়া ভেদে ডিম খাওয়া

ডিম একটি পুষ্টিকর খাবার আমাদের তা অজানা নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দৈনিক একটি ডিম শরীর ও সাস্থের জন্য খুবই উপকারী উৎস। অনেকেই বলে থাকেন ডিমের ভিন্নতার জন্য তার পুষ্টি নির্ভর করে। কিন্তু গবেষণায় উঠে এসেছে, ডিম যে ধরেনেরই হোক তা যদি খাবারের উপযোগী হয় তা গ্রহণ করতে কোন বাঁধা নেই। সাধারণত শীতকাল ও গরমকাল এই দুইটি ঋতু দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে। শীতকালে সিদ্ধ ডিম খাওয়ার প্রবণতা দেখা গেলেও গরমেও তা কোন অংশেই কম নয়। আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে ডিম খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে এটি সাস্থের জন্য কার্যকরী হতে পারে। এখন বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের আপ্যায়নে, ফাস্ট ফুড খাবারে ডিমের ব্যবহার অত্যধিক হয়ে থাকে। দুপুরে অথবা রাতের খাবারের ম্যানুতে ডিম সিদ্ধ থাকাটা এখন কমন বিষয়। তাই, রান্নার প্রস্তুতির জন্য ডিম অনেক আগেই সিদ্ধ করে রাখতে হয়। এমতাবস্থায়, সিদ্ধ করা ডিম যদি দীর্ঘক্ষণ ফেলে রাখেন এবং তা যদি আপনি সঠিক সময়ে না খেতে পারেন তাহলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর। আবহাওয়ার তারতম্য ভেদে অত্যধিক গরম পড়লে সিদ্ধ করা ডিম দীর্ঘক্ষণ বাহিরে রাখলে তা নষ্ট অথবা ব্যাকটেরিয়াতে আক্রান্ত হতে পারে। তাই, আবহাওয়া ভেদে ডিম খাওয়ার প্রবণতা রাখা উচিৎ।

গ) ডিম সিদ্ধ হিমায়িত করলে খাওয়া কি নিরাপদ?

যুগ যতই আধুনিক হচ্ছে আমরা ফ্রিজিং খাদ্যের উপরে অনেকটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। অতিরিক্ত গরমে তাই বিভিন্ন প্রকার খাবারের পাশাপাশি ডিমও ফ্রিজিং করা এখন সকলেরই পছন্দের একটি কাজ। তবে, আমরা সচরাচর কাঁচা ডিমকে হিমায়িত করে থাকি। কাঁচা ডিমকে হিমায়িত করলে যেমন ডিমের পুষ্টিগুণ ঠিক থাকে, কিন্তু সিদ্ধ ডিমকে হিমায়িত করলে তার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি সিদ্ধ করা ডিম যদি সঠিকভাবে ফ্রিজিং করে সংরক্ষণ করতে ইচ্ছা পোষণ করেন, তাহলে বড়জোর একসপ্তাহ অবদি খোসা ফেলা ছাড়া তা ফ্রিজিং করে রাখতে পারেন।

ঘ) সিদ্ধ ডিম যেভাবে সংরক্ষণ করা যায়

সাধারণত ডিম ফুটন্ত পানিতে ভালোভাবে সিদ্ধ করে নিতে হয়। সিদ্ধ করা ডিম যেভাবে সংরক্ষণ করলে দীর্ঘদিন স্বাদ ও গুনাগুণ অটুট থাকে তার কিছু ধারণা নিম্নোক্তভাবে তুলে ধরা হ'ল-

১) আপনি যদি সিদ্ধ করা ডিমকে সংরক্ষণ করতে চান তাহলে ডিমকে অবশ্যই ভালোভাবে শক্ত করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে, ডিম সিদ্ধ শক্ত করে নিতে সময় লাগলেও সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে তা সুবিধা হবে। এভাবে সিদ্ধ করা ডিম খোসাসহ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে এক সপ্তাহ পর্যন্ত খাওয়ার জন্য উপযুক্ত রাখা যায় এবং ডিমের পুষ্টিও অটুট থাকে। 

২) ডিম সংরক্ষণ করার পাত্রটি অবশ্যই বাতাস প্রতিরোধক হতে হবে। 

৩) পাশাপাশি মনে রাখতে হবে সিদ্ধ করা ডিম দুই ঘণ্টার বেশী সময় ফেলে রাখা যাবে না এবং দুই ঘণ্টা অতিক্রম করার পূর্বেই তা হিমায়িত করার চেষ্টা করতে হবে। 

৪) আবার ডিম সিদ্ধ করার পর আপনি প্রথমে তা ভালোভাবে শীতল করে নিবেন, কারণ গরম অবস্থায় তা ফ্রিজে কখনই রাখা যাবে না। তাৎক্ষনিক গরম ডিম ঢাকনা জাতীয় প্লাস্টিক পাত্রে তোলার পর তা যদি আপনি ফ্রিজে রাখেন সেক্ষেত্রে প্লাস্টিক থেকে বিষাক্ত পদার্থ ডিমের সঙ্গে মিশ্রিত হলে এবং একটি সময় তা গ্রহণ করা হলে শারীরিক ক্ষতির কারণও হতে পারে। তবে নিতান্তই যদি খোসা ছাড়িয়ে নিয়ে সংরক্ষণ করতে চান তাহলে সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে বাতাস প্রতিরোধক প্লাস্টিকের বক্সে রেখে বক্সের উপরে ভেজা নরম কাপড় দিয়ে জোড়ানো অবস্থায় ঢেকে রাখতে পারেন। এইভাবে ঢেকে রাখলে দেখা যাবে সিদ্ধ করা ডিম নরম থাকবে। 
৫) সিদ্ধ করা ডিম পিচ পিচ করে কখনই সংরক্ষণ করা উচিত নয়। পিচ করা ডিম ফ্রিজিং করে রাখলে একপর্যায়ে ডিমের গুনাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। 

উপরোক্ত নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে সিদ্ধ করা ডিম আপনি যদি অন্য কোন পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করতে চান তাহলে দুই দিনের বেশি সংরক্ষণ করলে তা নষ্ট হবার উপক্রম হতে পারে।

ঙ) সিদ্ধ ডিমে কি কি উপাদান রয়েছে

ডিমে যে পরিমাণে পুষ্টিগুণ থাকে সুস্থ থাকতে আমাদের দৈনিক একটি করে ডিম খাওয়া খুবই কার্যকরী। স্বাদ ও পুষ্টিগুণে ভরপুর বিধায় ডিমের চাহিদা সব সময়ে রয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, একটি পরিপূর্ণ ডিমে প্রায় ৭৯ ভাগ ক্যালরি, ৬.৫ গ্রাম প্রোটিন ও ৬ গ্রাম চর্বির আধিক্য রয়েছে। ডিমে ভিটামিন-এ রয়েছে ৮ %, ৬ % ফোলেট, ২০ % বি-২, ১৫ % বি-৫ এবং ২৩ % বি-১২। তাছাড়া আরও রয়েছে ভিটামিন-ডি ও ই, ভিটামিন বি-৬, ওমেগা-৩, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও সেলেনিয়াম।

শেষ কথা

ডিম ছোট-বড় সকেলেরই পছন্দের একটি খাবার। যে কোন সময় একটি সিদ্ধ ডিম হতে খাবারের প্রধান আকর্ষণ। প্রিয় পাঠক, আশা করছি আজকের আর্টিকেলটি আপনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েছেন এবং ডিম সিদ্ধ কখন খাবেন, সময়মত না খেলে কি ক্ষতি, সে সম্পর্কে নিশ্চয়ই কিছুটা হলেও ধারণা দিতে পেরেছি। আশা করছি, আজকের আর্টিকেলটি আপনার সু-স্বাস্থ্য গঠনের জন্য সহায়ক হবে। ভবিষ্যতে, এমন আরও স্বাস্থ্য বিষয়ক টিপস নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আজকের মতো বিদায় নিলাম, ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আলোকবর্ষ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুণ। প্রীতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়।

comment url