অপ্রাপ্ত বয়সে ইন্টারনেট ব্যবহারের কুফল, ব্যবহারে কি ক্ষতি ?

যুগ যতই আধুনিক হচ্ছে মানুষ কিছু জানতে ও জানাতে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে। কিছু মনের ভাব প্রকাশের জন্য, ভিডিও শেয়ারিং, ভার্চুয়ালি কথোপকথন, ফাইল বা ডকুমেন্টস আদান-প্রদান কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার এখন সর্বক্ষেত্রেই প্রচলিত একটি মাধ্যম। এই সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজে রয়েছে নানান অনলাইনভিত্তিক অ্যাপ্স। কিন্তু ইন্টারনেট ভিত্তিক এই অ্যাপ্সগুলো ব্যবহারে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের আগ্রহে বাড়ছে বিপদ। তাই, অপ্রাপ্ত বয়সে ইন্টারনেট ব্যবহারের কুফল, ব্যবহারে কি ক্ষতি? সে সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দিতে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য।
পেজসূচিপত্রঃবর্তমান বিশ্বে ইন্টারনেট ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন টিনেজদের প্রধান আকর্ষণের অন্তরায় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর সঠিক ব্যবহার হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপ্রাপ্ত বয়স্কদের যত্রতত্র ইন্টারনেট ব্যবহারে সমাজে একধরণের নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে, যা পুরো বিশ্বের জন্য একটি আতঙ্কের কারণ হিসেবে প্রকাশ পাচ্ছে। চলুন বিস্তারিত জেনে নেই অপ্রাপ্ত বয়সে ইন্টারনেট ব্যবহারের কুফল, ব্যবহারে কি ক্ষতি? সে সম্পর্কে-

# অপ্রাপ্ত বয়সে ইন্টারনেট ব্যবহারের কুফল

ইদানীং ইন্টারনেট ব্যবহারে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর সুফল থাকলেও, বয়সবেঁধে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে এর ব্যবহারে কিছুটা কুফলও পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষকরে, টিনেজ ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়েদের যত্রতত্র ইন্টারনেট ব্যবহার ও সামাজিক যোগাযোগ সাইডগুলোতে প্রবেশের ফলে তাদের মানুষিক বিকাশে বাঁধা সৃষ্টি করাসহ শারীরিকভাবে বয়সের তারতম্যে বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে বাঁধা সৃষ্টি করছে। এটি এখন গোটা বিশ্বে মহামারীর রূপ নিয়েছে। ব্যবহারকারীর মধ্যে প্রতি শতাংশে আনুমানিক ৮০ ভাগ টিনেজ চেলে-মেয়েরা এই মারাত্মক নেট সংস্পর্শজনিত সমস্যায় ভূগতেছে। অল্প বয়স্ক ছেলে-মেয়েদের এইরূপ ইন্টারনেট ভিত্তিক অগোছালো জীবন ব্যবস্থার কারণে তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উপরে ব্যাপকহারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যা পৃথিবীজুড়ে বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে। ঝুঁকিতে পড়ছে বিশ্বের অনেক উন্নত এবং এশিয়াভিত্তিক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো। সাধারণত ঝুঁকি এড়াতে ইউরোপ ভিত্তিক দেশগুলো যেমন-অস্ট্রেলিয়া, কানাডায় অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়েদের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ প্লাটফর্ম জেমন-ইউটিউব, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রামসহ বিভিন্ন প্রকার সামাজিক সাইটগুলো ব্যাবহারে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এসব দেশের নাম উঠে এসেছে। 
অপ্রাপ্ত বয়সে মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের দরুণ ছেলে-মেয়েদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিকভাবে বুদ্ধিদীপ্ত হয়ে গড়ে উঠতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। ছেলে-মেয়েরা আস্তে আস্তে অকাল জ্ঞান শূন্যতার দিকে ধাবিত হয়, লেখাপড়ায় মনোযোগ বিনষ্ট হয় এমনকি আচরণে রাগ ও যিদ প্রদর্শিত হয়। অনেকসময় অপ্রত্যাশিত সাইবার বুলিং-এর শিকার হতে দেখা যায়। দীর্ঘক্ষণ ইন্টারনেট ভিত্তিক মোবাইল, ট্যাব, কম্পিউটার অথবা টিভি স্ক্রিনে চোখ দিয়ে রাখার ফলেও চেলে-মেয়েরা একটি সময় শারিরিকভাবে অনেক জটিল রোগেও আক্রান্ত হতে দেখা যায়। দীর্ঘক্ষণ ডিভাইস ব্যবহারের ফলে অল্প বয়সে চেলে-মেয়েদের ওজন বৃদ্ধিসহ স্থূলতা দেখা দেয়। চোখের দৃষ্টিশক্তিতে প্রভাব পরে এমনকি দৃষ্টিশক্তি আস্তে আস্তে হ্রাস পেতে শুরু করাসহ নানাবিদ শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। নিম্নে অপ্রাপ্ত বয়সে ইন্টারনেট ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে বিস্তারিত আকারে তুলে ধরা হ'ল-

ক) অপ্রাপ্ত বয়সে ইন্টারনেট ব্যবহারে চোখের সমস্যা

অপ্রাপ্ত বয়সে ইন্টারনেট ব্যবহারের কিছু কুফল রয়েছে তন্মধ্যে চোখের সমস্যা অন্যতম। কমলমতি শিশুর চোখ একটি নাজুক অঙ্গ যা অযত্নে, অবহেলায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয় যত্রতত্রভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারে। দীর্ঘসময় ধরে ডিভাইস অথবা ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে প্রতিনিয়ত ইউটিউব, সামাজিক যোগাযোগ সাইট দেখতে থাকা, প্রখর দৃষ্টিতে ডিভাইসের স্ক্রিনে তাকানোর দরুন একটি পর্যায়ে চোখের দৃষ্টি শক্তির উপরে চাপ পরে, চোখের পাওয়ার বাড়তে থাকে এমনকি চোখের জ্যোতি কমে যেতে থাকে। একটি সময় চোখে চশমা ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। আবার দীর্ঘদিন এইভাবে চলতে থাকলে ধীরে ধীরে অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুর মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। 

খ) শারীরিক স্থুলতা ও অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি 

শহরের ব্যস্ততম জীবন ব্যবস্থায় আমরা রীতিমতো ঘর কোন হয়ে পড়েছি। কোন বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া আমরা ঘর থেকে বেড় হওয়ার প্রয়োজন বোধ করি না। বাচ্চারা বিশেষ করে আউটডোর খেলাধুলার চাইতে ইনডোরের খেলাধুলা বা মোবাইল ডিভাইস গেমস এর প্রতি ঝুঁকে পড়তে শুরু করেছে। তখনই দেখা দিচ্ছে শারীরিক নানান জটিলতা। দীর্ঘক্ষণ ডিভাইসের দিকে একনাগারে তাকিয়ে থাকা এবং একজায়গায় অনেকক্ষণ ধরে বসে ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণেও অপ্রাপ্ত বয়সের ছেলে-মেয়েদের শারীরিক স্থুলতা ও অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

গ) ইন্টারনেট ব্যবহারে পরিমিত ঘুমের ব্যাঘাত সৃষ্টি

এখন প্রায়শই দেখা যায়, অপ্রাপ্ত বয়সের ছেলে-মেয়েদেরকে ইন্টারনেট ব্যবহারে আকৃষ্ট হতে। সময়ে অসময়ে অবসর সময়ে কিছুটা মনের খরাগ মিটাতে বেঁছে নিচ্ছে ইন্টারনেট। যার ফলে একটি সময় দেখা যাচ্ছে তারা নিদ্রাজনিত সমস্যায় ভুগছে। মোবাইল ডিভাইসের কালারফুল রশ্নি থেকে তৈরি হচ্ছে ঘুমের সমস্যা। অতিমাত্রায় মোবাইল ডিভাইসের স্ক্রিনে প্রতিনিয়তই চোখ রাখা এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে শরীরের ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদনে যেমন ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে, পাশাপাশি অনিদ্রাজনিত সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।

ঘ) ইন্টারনেট ব্যবহারে  ক্ষতিসাধন

ইন্টারনেট ব্যবহারে যেমন সুফল রয়েছে আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর কুফলও চরম আকার ধারণ করেছে। প্রয়োজন ব্যতীত ইন্টারনেট ব্যবহার যেমন অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুদের শারীরিকভাবে ক্ষতি করছে আবার মনস্তাত্থিক পরিবর্তনেও বাঁধাগ্রস্ত করছে। বিশেষকরে অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুরা তারা তাদের কাজে মনোযোগ হারাচ্ছে। ডিভাইসে ডাউনলোডকৃত গেমস খেলার প্রতি আশক্তি, সময়ে সময়ে গেমসের নোটিফিকেশন প্রাপ্তি, ভিডিও দেখার প্রতি ঝুঁকে পড়া, বেশী সময় ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকার কারণে স্বাভাবিক জীবন থেকে ছিটকে পড়ছে যা অপ্রাপ্ত বয়সের ছেলে-মেয়েদের বাস্তব জীবন ব্যবস্থার উপরে প্রভাব পড়ছে।

ঙ) আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা

একটি সময় ছিল আমাদেরকে সব কিছুর সমাধান করতে পুঁথিগত জ্ঞানের উপর নির্ভরশীল থাকতে হতো। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে ঘরে ঘরে ইন্টারনেট সেবা চালু থাকায় হাতের পাশের ডিভাইস থেকেই আমরা অতি সহজেই তা সমাধান নিয়ে থাকি। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, ইন্টারনেট ভিত্তিক এই সকল তথ্য-উপাত্তের মধ্যে অনেক ভুয়া, ফেক তথ্য ছড়িয়ে থাকায় কোনটি সঠিক সেটি বুঝার ক্ষেত্রে অপ্রাপ্ত বয়সের শিশুদের মধ্যে একপ্রকার আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা কাজ করে। যা তাদের স্বাভাবিক জীবন ব্যবস্থার উপরে আকস্মিকভাবে প্রভাব ফেলে। 

চ) অপ্রাপ্ত বয়সে ইন্টারনেট ব্যবহারে সাইবার বুলিং এর স্বীকার

আমরা নিজেদের আরাম আয়েশের জন্য অনেকসময় অপ্রাপ্ত বয়স্কদের হাতে ইন্টারনেট ভিত্তিক আকর্ষণীয় ডিভাইস হাতে তুলে দেই। তারা অনেক সময় দেখা যায় মনের অজান্তেই সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক সাইটগুলোতে প্রবেশ করে। যার কারণে অল্প বয়স্ক বাচ্চাদের বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানাবিদ হুমকি ও সাইবার বুলিং এর স্বীকার হতে দেখা যায়। এইরূপ হুমকি ও সাইবার বুলিং এর কারণে শিশুরা একপ্রকার হতাশাগ্রস্ত জীবন অতিবাহিত করতে দেখা যায়।

ছ) ইন্টারনেটের ক্ষতিকারক অ্যাড এর কুফল

অনেক সময় দেখা যায়, অল্প বয়সে ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে বয়সের তুলনায় কিছু অপ্রত্তাশিত ক্ষতিকারক অ্যাড ডিভাইসের স্ক্রিনে প্রদর্শিত হতে দেখা যায়। বয়স ভেধে এই সকল অ্যাড প্রদর্শিত না হওয়ায় সেটি অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আরও লক্ষণীয় বিষয় হল, কিছু কিছু ক্ষেত্রে অ্যাডাল্ট অ্যাড এর প্রদর্শনের ফলে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে এক ধরনের ভিত সন্ত্রস্ততা কাজ করে যা তাদেরকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যায়।

জ) অনলাইন ভিত্তিক হ্যাকার চক্রের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা 

অপ্রাপ্ত বয়সে ইন্টারনেট ব্যবহারের কুফল ইসেবে অনলাইন ভিত্তিক হ্যাকার চক্রের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অনলাইনে বিভিন্নভাবে প্রলবন দেখিয়ে এই সকল চক্র অল্প বয়স্ক বাচ্চাদের জীবনকে করে তুলে বিভীষিকাময়। বিশেষকরে সামাজিক যোগাযোগ প্লাটফর্মগুলো যেমন-ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকে এই ধরণের প্রতারণার সম্মুখীন হচ্ছেন অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চারা। 

# বহিঃ বিশ্বে সচেতনতার নানান উদ্যোগ 

১। ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর মধ্যে বিশেষকরে অস্ট্রেলিয়া সরকার অপ্রাপ্ত বয়সী ছেলে-মেয়েদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নানান যুগান্তকরি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যা পুরো বিশ্বে অত্ত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে। তারা অপ্রাপ্ত বয়সের বাচ্চাদের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারে আইন প্রণয়ন করে তা করেছে নিষিদ্ধ। একই সাথে আইনকে অমান্য করার শাস্তি হিসেবে জরিমানা আরোপেরও বিধান রেখেছে। নতুন এই আইনের কারণে তাদের দেশের জন্য সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলো অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে পুরোপুরি বন্ধ করা হয়। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোর ধারাবাহিকতায় ব্রিটেন সরকারও একই পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে। এছাড়া ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে উত্তর ইউরোপে অবস্থিত ডেনমার্ক এবং পশ্চিম ইউরোপে অবস্থিত ফ্রান্সের সরকারও ১৫ বছরের নিচে অপ্রাপ্ত বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। 
২। উপরোক্ত দেশগুলো ছাড়াও বিশেষকরে নরওয়ে, স্লোভেনিয়া, গ্রিস ও পোল্যান্ডও এইরুপভাবে ১৫ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা নেয়ার নানান উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে যা অনুকরণীয় হিসেবে কাজ করছে। আবার পর্যটন শিল্পে উন্নত ইতালি ও জার্মান সিটিতে নির্দিষ্ট বয়স বেঁধে সামাজিক যোগাযোগ প্লাটফর্মগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্যারেন্টিং অনুমতির আবশ্যকতা রেখে সিস্টেম চালু করেছে। 
৩। অর্থনৈতিকভাবে সম্প্রসারিত এশিয়াভিত্তিক দেশগুলোর মধ্যে বিশেষকরে চীন ইতোমধ্যে ‘মাইনর মোড’ সিস্টেম দ্বারা শিশু-কিশোরদের ডিভাইস স্ক্রিনে অনলাইনে থাকার সময়কে বেঁধে দিয়েছে। তাছাড়া মালয়েশিয়াও সম্প্রতি ষোল বছরের নিচে বয়সীদের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার কথা প্রচার করেছে। আবার এশিয়ার অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ আরও একটি উন্নত দেশ যেমন ভারত তার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক প্লাটফর্মগুলোকে ‘শিকারি’ (প্রেডেটরি) হিসেবে বর্ণনা করে বয়সসীমা নির্ধারণের ওপর জোর আরোপ করেছে। 
৪। বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রও অপ্রাপ্ত বয়সের শিশুদের অনলাইন ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ‘কিডস অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট’ বিষয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। যার ফলপ্রসূ প্রয়োগের মাধ্যমে শিশুদের ইন্টারনেট আশুক্তি থেকে কিছুটা হলেও বেড় করা যাচ্ছে, এমনটিই ধারণা করা হচ্ছে। 

# অপ্রাপ্ত বয়সে ইন্টারনেট ব্যবহারে কি ক্ষতি?

এখন সময় এসেছে প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার, পৃথিবী সম্পর্কে ধারণা পাবার। তাইতো আমরা বাস্তবতার নিরিখেই প্রয়োজন মেটাতে ইন্টারনেট ব্যবহারের উপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি ক্রমশই। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে ইন্টারনেট আমাদের সকল তথ্য হাতের মুটোয় পেতে সহজ সমাধান দিচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যবহারে যেমন সুফল পাওয়া যায় তেমনি এর রয়েছে বিস্তীর্ণ কুফলও। তবে এর কুফলটা বর্তমান সময়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

যুগ যতই আধুনিক হচ্ছে ইন্টারনেটের ব্যবহার সীমাহীনভাবে বাড়তেই আছে। ব্যাপকহারে এর ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ভালো দিকের পাশাপাশি খারাপ নেতিবাচক দিকগুলোও স্পষ্ট হচ্ছে। এসব নেতিবাচক দিকগুলোর প্রভাব আমাদের স্বাস্থ্যগত ও মানসিক ক্ষতি সাধন করছে। অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের কুফল এবং আমাদের জীবনে কী কী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে সে সম্পর্কে নিম্নোক্তভাবে কিছু বিস্তারিত ধারণা দেয়া হল।

অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের ইন্টারনেট ব্যবহার

এটা সত্য যে, ইন্টারনেট আমাদের প্রযুক্তির যুগে একটি সহজ সমাধান। ইন্টারনেট ব্যবহার আমাদের সকলের নিকট ব্যাপক তথ্যভান্ডার বলে পরিচিতি লাভ করেছে। তাৎক্ষনিক কিছু জানতে আমরা ডিভাইসের মাধ্যমে ইন্টারনেটের সহায়তায় সেই দুর্লভ কাজটি করে থাকি। এটি একদিকে যেমন আমাদের কমলমতি সন্তানদের শিক্ষা ও জ্ঞানের দ্বার উন্মোচন করেছে, আবার হিতবিপরীতে অপ্রাত বয়স্ক সন্তানদের করেছে বিপর্যস্ত। যদিও ইন্টারনেট ব্যবহার দোষের কিছু নয়। তবুও আমাদের অপরিমিত বয়সের ছেলে-মেয়েদের ইন্টারনেট ব্যবহার এবং ইন্টারনেটের প্রতি অতি আসক্তি রীতিমতো হানিকর হয়ে উঠেছে। নিজেদের সুবিধার্থে আমরা আমাদের ব্যস্ততার ফাঁকে শিশু-কিশোরদের হাতে দিচ্ছি দামি মডেলের ফোন। তারা আমাদের এই দুর্বলতাকে লুপে ল্যায় এবং অনবরত ডিভাইসের উপরে ঝুঁকে পড়তে থাকে। তাছাড়া বাচ্চাদের দিয়ে দিচ্ছি কম্পিউটার যাতে করে তারা দ্রুত জগত সম্পর্কে জানতে পারছে। কিন্তু এটির সুচিন্তিত ব্যবহার না করার ফলে এটি হয়ে যাচ্ছে অপ্রাপ্তবয়স্ক বাচ্চাদের জন্য ক্ষতিকর।

শেষ কথা

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপকতা বাড়ার সাথে সাথে এর প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। ইন্টারনেটের ভালো কিংবা নেতিবাচক খারাপ দিকগুলো চিহ্নিত করার পরই এর ব্যবহার সম্পর্কে আমাদেরকে সচেতন হওয়ার সময় এখন এসেছে। তাই, প্রয়োজনানুপাতে আমাদেকে অপ্রাপ্ত বয়সের ছেলে-মেয়েদের ইন্টারনেট ব্যবহারে সিমাবদ্ধতা নিয়ে আনাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। প্রিয় পাঠক, আশা করছি আজকের আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েছেন এবং অপ্রাপ্ত বয়সে ইন্টারনেট ব্যবহারের কুফল, ব্যবহারে কি ক্ষতি সে সম্পর্কে নিশ্চয়ই কিছুটা হলেও ধারণা পেয়েছেন। আশা করছি, আজকের আর্টিকেলটি আপনার সন্তানের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার হ্রাস করতে সহায়ক হতে পারে। ভবিষ্যতে, এমন আরও স্বাস্থ্য বিষয়ক টিপস নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আজকের মতো বিদায় নিলাম, ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আলোকবর্ষ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুণ। প্রীতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়।

comment url