ডায়াবেটিস হলে আম খাওয়া কি মানা, কতটুকু খেলে ক্ষতি নেই

এখন আমের মৌসুম। আম খেতে নেই মানা। আমের রসালো স্বাদ গ্রহণে আমরা কে-না আকৃষ্ট হই। কিন্তু অতিরিক্ত আম খেলেও যে রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি তা অনেকেরই অজানা। বিশেষকরে ডায়াবেটিস হলে আম খাওয়া কি মানা, কতটুকু খেলে ক্ষতি নেই সে সম্পর্কে জানতে ও জানাতে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য।
পেজ সূচিপত্রঃআম একটি মিষ্টি ও রসালো ফল। আমে যে পরিমাণে পুষ্টি উপাদান রয়েছে তা আমাদের দেহের জন্য খুবই উপকারি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমের অত্যধিক গ্রহণের কারণে অনেকে অসুস্থ্য হতে দেখা যায়। কিন্তু উপকারিতার ভাগ অনেকাংশেই বেশী পাওয়া যায়। ডায়াবেটিস হলে আম খাওয়া কি মানা, কতটুকু খেলে ক্ষতি নেই চলুন আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে সে সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেই।

ক) ডায়াবেটিস হলে আম খাওয়া কি মানা ?

আমরা আম খেতে কে না ভালোবাসি। আমের মৌসুম এলেই ছোট-বড় সকলকেই আমের জন্য আলাদা আকর্ষিত হতে দেখা যায় এবং তা চোখে পড়ার মতো। কিন্তু স্বাভাবিক ক্ষেত্রে যাদের শরীরে সুগার নেই অর্থাৎ, ডায়াবেটিসের প্রাদুর্ভাব নেই তাদের ক্ষেত্রে অবশ্যই আম খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা নিয়মমাফিক খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু, অনেকেই বলে থাকেন ডায়াবেটিস হলে আম খাওয়া ঠিক নয় সেটি কিন্তু ভুল ধারণা। পুষ্টিবিদগণের মতে, একজন ডায়াবেটিস রোগী আম খেতে পারবেন তবে, প্রতিদিন এক থেকে দুই টুকরোর বেশী নয়। সাধারণত যেকোন মিষ্টি জাতীয় ফলের মধ্যে শর্করার মাত্রা থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে। আমেও তার ভিন্ন কিছু নয়। আমে যে কার্বোহাইড্রেট রয়েছে তা আমাদের শরীরকে একটিসময় সুগারের মাত্রাতিরিক্ত করে দেয়। তাই, ডায়াবেটিস হলে এক্ষেত্রে প্রয়াজনীয় স্বাস্থ্য টিপস মেনে আম খাওয়াই শ্রেয়।   
সাধারণত আমের মৌসুম আসলেই আম খাওয়ার পরিমাণ আমরা বাড়িয়ে দেই। কিন্তু যাদের এলারজির মাত্রা অত্যধিক রয়েছে অথবা যাদের শরীরে মাত্রাতিরিক্ত সুগার রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে আম অল্প পরিমাণে খওয়াই উত্তম। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শনুযায়ী, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রেও আম খেতে বাঁধা থাকে না, তা যদি নিয়মানুযায়ী খাওয়া যায়। চাইলেই বেশি পরিমাণে আম আপনি খেতে পারবেননা। কারণ আমের মধ্যে শর্করার পরিমাণ অত্যধিক থাকে যার কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীকে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে হয়। কিন্তু আমে ক্ষতিকর ন্যাচারাল চিনির উপাদানের আদিক্য থাকলেও এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আঁশ, বহুবিধ ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান যা মানবদেহের সুস্থ্যতার জন্য খুবই কার্যকরী। সুতরাং একজন ডায়াবেটিস-এ আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে আম তেমন একটা ক্ষতিকর নাও হতে পারে। 

খ) ডায়াবেটিস হলে কতটুকু আম খেলে ক্ষতি নেই 

ডায়াবেটিস হল আমাদের জীবন ব্যবস্থায় একপ্রকার মরণব্যাধি। এই ব্যাধিতে আক্রান্ত যেকোন ব্যাক্তিকে একটি নিয়মের মধ্যে জীবনকে পরিচালিত করতে হয়। ডায়াবেটিস শরীরে হটাৎ দেখা দিলে জীবন ধারণের জন্য খাদ্য তালিকার পাশাপাশি, শারীরিক ব্যায়াম কসরত করে যেতে হয়। পাশাপাশি পরিমিত খাদ্য গ্রহণ, নিয়মতান্ত্রিক শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন ব্যবস্থার মধ্যে নিজেকে পরিচালিত করতে হয়।
বিশেষ করে ডায়াবেটিস হলে আমাদেরকে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে খুবই সচেতনতা অবলম্বন করতে হয়। রসালো আম গ্রহণেও তার কোন ব্যত্যয় হতে পারে না। একজন ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে আম কতটুকু খেলে ক্ষতি নেই সে সম্পর্কে অনেকেই জানতে চান। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে এর পরিমাণ না জানা গেলেও আমের সিজনে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ গ্রাম বা এক টুকরো খেলে ক্ষতির আসঙ্খা তুলনামূলক কম হতে পারে। আম মূলত ভরা পেটে খাওয়াই উত্তম এতেকরে শারীরিক ক্ষতির আশঙ্খা কম থাকে। আপনি চাইলে প্রোটিন জাতীয় বা আঁশযুক্ত খাবারের সঙ্গে মিশিয়েও আম খেতে পারেন। তবে, আপনি আমকে জুস করে অথবা ছাকনি দিয়ে শেকে খাবেন না, তাতে করে আমের মধ্যে থাকা আঁশ কমে যেতে থাকে। এতে করে আমের মধ্যে থাকা শর্করা খুব দ্রুতই রক্তে মিশে যায়, যা একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য ক্ষতির কারণ হিসেবে দেখা দিতে পারে।

গ) আম খাওয়ার সঠিক সময়

আম খাওয়ার উপযুক্ত সময় হিসেবে আপনি সকাল বেলার নাস্তায় অথবা দুপুরের খাবারের মধ্যের সময়টুকু বেঁছে নিতে পারেন। খালি পেটে আম না খেয়ে ভরা পেটে খাওয়াই উত্তম। আবার আম কেটে সাথে সাথে খাওয়াই ভাল। দীর্ঘক্ষণ আম কেটে বাহিরে রেখে দিলেও সেটিতে ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি হয়ে পচন দেখা দিতে পারে এবং তা থেকে দুরগন্ধ সৃষ্টি হতে পারে। আপনি ইচ্ছা করলে আমকে পরিবেষণের জন্যও রাখতে পারেন। সাথে পাকা আমের মধ্যে খানিকটা কাজু বাদাম, স্প্রাউটস অথবা শসা দিতে পারলে এর চাহিদা আরও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে আমকে ডেজার্ট আইটেম হিসেবে পরিবেষণ না করাই ভালো। রাতে আম খাওয়ার ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ সুগার অতিমাত্রায় বেড়ে যেতে পারে।

ঘ) ডায়াবেটিস রোগীর আম খাওয়ার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বিশ্লেষণ 

ডায়াবেটিস রোগীর আম খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু তুলনামূলক বিশ্লেষণ মেনে নিয়ম করে আম খেতে পারলে অনেক জটিলতা থেকে পরিত্রান পাওয়া কিছুটা হলেও সম্ভব হতে পারে। নিম্নে কিছু তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেখানো হল যা আপনার আম খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা উপকারে আসতে পারে। 
বিষয়বস্তু স্বাস্থ্যসম্মত দিক ঝুঁকিপূর্ণ দিক
পরিমাপ ৫০ থেকে ৬০ গ্রাম পর্যন্ত ১০০ গ্রাম অথবা তার চেয়ে বেশি
সময় নিরুপন দুপুরের পূর্বে অথবা বিকেলে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার পূর্বে
রূপ হিসেবে কাঁচা পিস করে ফল জুস বা ডেজার্ট আইটেম হিসেবে
সহজাত খাবার দই, বাদাম অথবা আঁশ আছে এমন খাবার ভাত অথবা রুটি অত্যধিক খাওয়ার পর
শারিরিক পরিশ্রম আম খাওয়ার পরবর্তী হাঁটা আম খাওয়ার পরে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা

শেষ কথা

ডায়াবেটিস রোগীর আম খেতে মানা নেই। যদি নিয়ম মেনে আম খাওয়া যায় তাহলে ডায়াবেটিস রোগীও আম খেয়ে সুস্থ্য থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। প্রিয় পাঠক, আশা করছি আজকের আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েছেন এবং ডায়াবেটিস হলে আম খাওয়া কি মানা, কতটুকু খেলে ক্ষতি নেই, সে সম্পর্কে নিশ্চয়ই কিছুটা হলেও ধারণা পেয়েছেন। আশা করছি, আজকের আর্টিকেলটি আপনার সু-স্বাস্থ্য গঠনের জন্য সহায়ক হতে পারে। ভবিষ্যতে, এমন আরও স্বাস্থ্য বিষয়ক টিপস নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আজকের মতো বিদায় নিলাম, ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আলোকবর্ষ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুণ। প্রীতিটি কমেন্ট রিভিও করা হয়।

comment url